ফাইল ছবি
জাতীয় সংসদে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনকে মেট্রোপলিটন সিটিতে উন্নীত করার দাবি জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু। তার এ দাবির পর জেলাজুড়ে নতুন করে আলোচনায় এসেছে মেট্রোপলিটন সিটির মর্যাদা পেলে নারায়ণগঞ্জের কী ধরনের পরিবর্তন ও সুবিধা আসতে পারে।
গত বুধবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম বাজেট অধিবেশনে বক্তব্য দিতে গিয়ে দিপু ভূঁইয়া বলেন, বাংলাদেশের জিডিপির ৭.৫ শতাংশ অবদান রাখে নারায়ণগঞ্জ। এরপরেও নারায়ণগঞ্জকে বি ক্যাটাগরির জেলা করে রাখা হয়েছে। আমি চাই অতিশীঘ্রই নারায়ণগঞ্জকে এ ক্যাটাগরির জেলায় পরিণত করা হোক। একই সঙ্গে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনকে মেট্রোপলিটন সিটি করার দাবি জানাচ্ছি।
দেশের অন্যতম শিল্পাঞ্চল হিসেবে পরিচিত নারায়ণগঞ্জ দীর্ঘদিন ধরেই অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তৈরি পোশাক শিল্প, বন্দরনির্ভর ব্যবসা, নদীপথে পণ্য পরিবহন এবং রাজধানী ঢাকার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের কারণে জেলার গুরুত্ব ক্রমেই বাড়ছে।
জনসংখ্যা বৃদ্ধি, শিল্পায়নের বিস্তার এবং নগরায়ণের চাপ সামাল দিতে আধুনিক নগর ব্যবস্থাপনার প্রয়োজন রয়েছে। সে কারণে মেট্রোপলিটন সিটির দাবি এখন আর শুধুমাত্র রাজনৈতিক নয়, বরং প্রশাসনিক প্রয়োজনীয়তার বিষয়েও পরিণত হয়েছে।
মেট্রোপলিটন সিটির মর্যাদা পেলে প্রথমেই প্রশাসনিক সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। নগর পরিকল্পনা, অবকাঠামো উন্নয়ন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে অধিক ক্ষমতা ও বাজেট বরাদ্দ পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
এছাড়া নগর উন্নয়ন প্রকল্পে কেন্দ্রীয় সরকারের বিশেষ অগ্রাধিকার পাওয়া সহজ হবে। সড়ক, ড্রেনেজ ও গণপরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়নে বড় প্রকল্প গ্রহণ করা সম্ভব হবে। শিল্পাঞ্চল ভিত্তিক অবকাঠামো উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। নগর নিরাপত্তা, অগ্নিনির্বাপণ ও জরুরি সেবার সক্ষমতা বাড়বে। আধুনিক নগর পরিকল্পনার আওতায় নতুন আবাসন, পার্ক, খেলার মাঠ ও জনসেবামূলক স্থাপনা গড়ে তোলার সুযোগ সৃষ্টি হবে। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
বর্তমানে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা, যানজট, খাল দখল, অপরিকল্পিত নগরায়ণ এবং পরিবেশ দূষণ বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। মেট্রোপলিটন কাঠামো কার্যকর হলে এসব সমস্যা সমাধানে সমন্বিত পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সুযোগ বাড়বে বলে মনে করছেন নগর বিশেষজ্ঞরা।
এছাড়া উন্নত নগর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে নাগরিকদের জন্য স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, গণপরিবহন এবং ডিজিটাল সেবার পরিধিও বৃদ্ধি পেতে পারে।
এদিকে দেশের রপ্তানি আয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা নারায়ণগঞ্জকে মেট্রোপলিটন সিটিতে উন্নীত করা হলে শিল্প ও বাণিজ্য খাত আরও গতিশীল হবে। বিশেষ করে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট করিডরের সংযোগস্থলে অবস্থানের কারণে এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা বহুগুণ বাড়তে পারে।

