সিটি পার্ক
বকেয়া বিদ্যুৎ বিলের কারণে নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগ এলাকায় অবস্থিত সিটি পার্কের বিদ্যুৎ সংযোগ সাময়িকভাবে বিচ্ছিন্ন করে দেয় ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ডিপিডিসি)। তবে এর কয়েক ঘণ্টা পরই পার্কের বিদ্যুৎ সংযোগ পুনরায় সচল করা হয়।
রোববার (২৮ জুন) বিকেলে ডিপিডিসির একটি দল এই অভিযান চালায়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
ডিপিডিসি সূত্রে জানা গেছে, সিটি পার্কের নামে প্রায় ৬০ লাখ টাকার বিদ্যুৎ বিল বকেয়া রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এই বিল পরিশোধ না করায় রোববার বিকেলে ডিপিডিসির কর্মকর্তারা পার্কে গিয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ কেটে দেন। তবে সন্ধ্যার দিকে ডিপিডিসির কর্মীরা পুনরায় সেখানে গিয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ চালু করে দেন।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ডিপিডিসি নারায়ণগঞ্জ পশ্চিম জোনের সুপারভাইজার সাইফুল ইসলাম জানান, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের আওতাধীন সিটি পার্কের বকেয়া বিদ্যুৎ বিলের পরিমাণ প্রায় ৬০ লাখ টাকা। এই বকেয়ার কারণেই লাইনটি কাটা হয়েছিল।
ডিপিডিসি নারায়ণগঞ্জ পশ্চিম জোনের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ মনিরুজ্জামান বলেন, বিদ্যুৎ বিলটি মূলত সিটি করপোরেশনের নামে। যারা পার্কের ভেতরে সুইমিংপুল বা রেস্টুরেন্ট চালায়, তারা সিটি করপোরেশনকে বিল দেয় এবং সিটি করপোরেশন আমাদের বিল পরিশোধ করে। তারা সাধারণত জুন ও ডিসেম্বরে—বছরে দুইবার বিল পরিশোধ করে থাকে। তবে বর্তমান প্রশাসক (অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান) দায়িত্ব নেওয়ার পর জানিয়েছেন, এখন থেকে প্রতি মাসের বিল প্রতি মাসে পরিশোধ করা হবে এবং পাশাপাশি বকেয়া থেকেও বিল দেওয়া হবে।
লাইন কাটার পূর্বে কোনো লিখিত নোটিশ দেওয়া হয়েছিল কি না জানতে চাইলে এই কর্মকর্তা বলেন, কোনো লিখিত নোটিশ দেওয়া হয়নি, তবে মৌখিকভাবে জানানো হয়েছিল। তবে প্রতি মাসে দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা বিল হলে, কীভাবে ৬০ লাখ টাকা বকেয়া জমল—সে বিষয়ে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। জুন মাসের আরও দুই দিন সময় বাকি থাকায় আপাতত বিদ্যুৎ লাইনটি পুনরায় সচল করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
এদিকে পার্কের বিদ্যুৎ সংযোগ কাটার বিষয়ে জানতে চাইলে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) নূর কুতুবুল আলম বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, বিষয়টি আপনার কাছেই প্রথম শুনলাম। আর বকেয়া ৬০ লাখ টাকার বিষয়েও আমার কিছু জানা নেই।
বক্তব্য জানতে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, নগরবাসীর বিনোদনের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত এই সিটি পার্কের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঘটনাটি উদ্বেগজনক। বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আয়োজনের অন্যতম এই ভেন্যুটির সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে এবং বকেয়া বিলের স্থায়ী সমাধান করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

