বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

|

আশ্বিন ১ ১৪৩৩

Advertisement
Narayanganj Post :: নারায়ণগঞ্জ পোস্ট

সওজের ৭ কোটি টাকার ভবন পড়ে আছে, নারায়ণগঞ্জে শুরু হয়নি সার্কেল কার্যালয়ের কার্যক্রম

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

প্রকাশিত: ২২:০৫, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সওজের ৭ কোটি টাকার ভবন পড়ে আছে, নারায়ণগঞ্জে শুরু হয়নি সার্কেল কার্যালয়ের কার্যক্রম

ফাইল ছবি

নারায়ণগঞ্জে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) সার্কেল কার্যালয় স্থাপনের জন্য নির্মিত ভবনটি দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত পড়ে রয়েছে। প্রায় ৭ কোটি ২৪ লাখ টাকা ব্যয়ে শহরের চানমারী এলাকায় নির্মাণ করা তিনতলা ভবনটিতে এখনো সার্কেল কার্যালয়ের কার্যক্রম শুরু হয়নি। ফলে নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ ও নরসিংদীর সেবাপ্রত্যাশীদের গুরুত্বপূর্ণ কাজে এখনো ঢাকার এলেনবাড়ীতে যেতে হচ্ছে।

সওজ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের স্মারকের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৭ সালের ১০ আগস্ট ঢাকা সড়ক সার্কেলকে বিভক্ত করে নারায়ণগঞ্জ সড়ক সার্কেল গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। নতুন সার্কেল কার্যালয়ের জন্য ২০১৭-১৮ অর্থবছরে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের পাশে ভবন নির্মাণের কার্যাদেশ দেওয়া হয়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ২০১৯ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর নির্মাণকাজ শেষ করে।

তবে ভবন নির্মাণ শেষ হওয়ার প্রায় সাত বছর পরও সেখানে অফিস স্থানান্তর করা হয়নি। নারায়ণগঞ্জ সড়ক সার্কেলের কার্যক্রম এখনো ঢাকার এলেনবাড়ীতে অবস্থিত ঢাকা সড়ক জোন ভবন থেকে পরিচালিত হচ্ছে। এতে সার্কেল পর্যায়ের বিভিন্ন প্রশাসনিক ও দাপ্তরিক কাজে তিন জেলার মানুষকে রাজধানীতে গিয়ে সেবা নিতে হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, নারায়ণগঞ্জে সার্কেল কার্যালয় চালু হলে স্থানীয় জনগণের ভোগান্তি কমার পাশাপাশি তিন জেলার সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার তদারকি আরও সহজ হবে। বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ ও নরসিংদীর সড়ক বিভাগের কার্যক্রম সমন্বয় ও তদারকির ক্ষেত্রে ভৌগোলিকভাবে নারায়ণগঞ্জ গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে।

এ অবস্থায় গত ২ আগস্ট নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মামুন মাহমুদ সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেন। আবেদনে চানমারী এলাকায় নির্মিত ভবনে নারায়ণগঞ্জ সড়ক সার্কেল কার্যালয় দ্রুত স্থানান্তরের দাবি জানানো হয়।

আবেদনে উল্লেখ করা হয়, নারায়ণগঞ্জে সার্কেল কার্যালয় স্থাপন করা হলে কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর যাতায়াতের পরিবর্তে তিন জেলার কয়েক হাজার সেবাপ্রত্যাশী মানুষের ঢাকামুখী যাতায়াত কমবে। এতে মানুষের সময়, অর্থ ও শ্রম সাশ্রয় হবে। পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জে কার্যালয় থাকলে আওতাধীন সড়কগুলোর নিয়মিত তদারকি ও ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকরভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে।

জেলা পরিষদের প্রশাসকের আবেদনে আরও বলা হয়, নারায়ণগঞ্জ সড়ক সার্কেলের আওতায় প্রায় ৮৫০ কিলোমিটার সড়ক রয়েছে। এসব সড়কের বড় অংশ রাজধানীর বাইরে পূর্ব ও পূর্ব-দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত। ফলে সার্কেল কার্যালয় নারায়ণগঞ্জে থাকলে সড়কগুলোর তদারকি ও রক্ষণাবেক্ষণে সময় কম লাগবে।

মামুন মাহমুদ বলেন, প্রায় এক দশক আগে নারায়ণগঞ্জ সড়ক সার্কেল অনুমোদন পেলেও এখনো এর কার্যক্রম পুরোপুরি চালু হয়নি। কয়েক বছর আগে ভবন নির্মাণ শেষ হলেও অফিস স্থানান্তর না হওয়ায় সাধারণ মানুষ কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। কার্যালয়টি চালু হলে তিন জেলার মানুষের ভোগান্তি কমার পাশাপাশি সড়ক ব্যবস্থাপনায়ও গতি আসবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মামুন মাহমুদের আবেদনের পর বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী রবিউল আলম প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

এদিকে সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, চানমারী এলাকায় নির্মিত তিনতলা ভবনটির চারদিকে সীমানাপ্রাচীর রয়েছে। ভবনের ভেতরে সড়ক সংস্কারকাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন যানবাহন রাখা হয়েছে। ভবনের নিরাপত্তায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তাকর্মীরা দায়িত্ব পালন করছেন।

নিরাপত্তাকর্মী মহিদুল ইসলাম জানান, ভবনটির নিরাপত্তার দায়িত্বে আটজন কর্মী রয়েছেন। তারা নিয়মিত ভবনটি দেখভাল করছেন।

ভবনটি নির্মাণের পরও দীর্ঘদিন ধরে সার্কেল কার্যালয়ের কার্যক্রম শুরু না হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন সওজের নারায়ণগঞ্জ কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুর রহিম। তিনি জানান, ভবনের ভেতরে কিছু ডেকোরেশন ও ইন্টেরিয়রের কাজ চলছে। এসব কাজ শেষ হলে ঢাকার এলেনবাড়ী থেকে নারায়ণগঞ্জে সার্কেল কার্যালয় স্থানান্তর করা হবে।

তবে কবে নাগাদ এসব কাজ শেষ হবে এবং ঠিক কোন সময়ের মধ্যে নারায়ণগঞ্জে সার্কেল কার্যালয়ের পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরু হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা জানানো হয়নি। ফলে বিপুল অর্থ ব্যয়ে নির্মিত ভবনটি কবে নাগাদ কার্যকর কাজে ব্যবহার হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।