বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

|

আশ্বিন ১ ১৪৩৩

Advertisement
Narayanganj Post :: নারায়ণগঞ্জ পোস্ট

আলীরটেক-ডিক্রিরচর ঘাটে শীতলক্ষ্যায় সেতু নির্মাণের দাবি এমপি মাধবী মার্মার

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

প্রকাশিত: ২২:০২, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আলীরটেক-ডিক্রিরচর ঘাটে শীতলক্ষ্যায় সেতু নির্মাণের দাবি এমপি মাধবী মার্মার

ফাইল ছবি

নারায়ণগঞ্জের আলীরটেক ডিক্রিরচর-বক্তাবলী ঘাটে শীতলক্ষ্যা নদীর ওপর সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নিতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মাধবী মার্মা। সেতুটি নির্মাণ করা হলে নারায়ণগঞ্জের ভৌগোলিকভাবে বিচ্ছিন্ন বক্তাবলী ও আলীরটেক ইউনিয়নের সঙ্গে জেলার মূল অংশের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপিত হবে। একই সঙ্গে কৃষি, শিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্য ও আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন গতি আসবে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

গত ১৫ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রতিমন্ত্রীর কাছে পাঠানো চিঠিতে এ উদ্যোগ গ্রহণের অনুরোধ জানান তিনি। চিঠিতে প্রস্তাবিত সেতুর সম্ভাব্যতা যাচাই, প্রয়োজনীয় সমীক্ষা এবং পরবর্তী প্রকল্প প্রণয়নের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়ার আবেদন করা হয়েছে।

চিঠিতে সংসদ সদস্য মাধবী মার্মা উল্লেখ করেন, নারায়ণগঞ্জ দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্প ও বাণিজ্যিক অঞ্চল এবং রাজধানী ঢাকার নিকটবর্তী একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগকেন্দ্র। জেলার ভৌগোলিক অবস্থান ও বিদ্যমান সড়ক যোগাযোগ নেটওয়ার্ক বিবেচনায় এলজিইডির আওতাধীন ডিক্রিরচর-মীরকাদিম সড়কের আলীরটেক ডিক্রিরচর ঘাটে অথবা অন্য কোনো সুবিধাজনক স্থানে শীতলক্ষ্যা নদীর ওপর সেতু নির্মাণ করা হলে স্থানীয় জনগণের দীর্ঘদিনের যোগাযোগ সমস্যা অনেকাংশে নিরসন হবে।

তিনি বলেন, প্রস্তাবিত সেতুটি নির্মাণ করা হলে জাতীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প সড়ক করিডোর গড়ে উঠবে। এর মাধ্যমে পঞ্চবটি-মুক্তারপুর এক্সপ্রেসওয়ে, পদ্মা সেতু এক্সপ্রেসওয়ে এবং তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতুর মধ্যে নতুন সংযোগ স্থাপনের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

চিঠিতে আরও বলা হয়, পদ্মা সেতু হয়ে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল থেকে চট্টগ্রামমুখী আন্তঃআঞ্চলিক যানবাহন ঢাকায় প্রবেশ না করেই বিকল্প পথে চলাচল করতে পারবে। এতে রাজধানী ঢাকার ওপর আন্তঃআঞ্চলিক যানবাহনের চাপ ও যানজট কমার পাশাপাশি দেশের দক্ষিণ, দক্ষিণ-পশ্চিম ও পূর্বাঞ্চলের মধ্যে পণ্য ও যাত্রী পরিবহন আরও সহজ ও কার্যকর হবে।

সেতুটি নির্মাণের ফলে বক্তাবলী ও আলীরটেক ইউনিয়নের মানুষের জীবনযাত্রায়ও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। বর্তমানে ভৌগোলিকভাবে বিচ্ছিন্ন এসব এলাকার সঙ্গে নারায়ণগঞ্জের মূল অংশের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপিত হলে স্থানীয় বাসিন্দারা শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কর্মসংস্থান, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ বিভিন্ন নাগরিক সেবা দ্রুত ও সহজে গ্রহণ করতে পারবেন। একই সঙ্গে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থাও আরও উন্নত ও সুসংহত হবে।

কৃষি খাতের সম্ভাবনার বিষয়টিও চিঠিতে তুলে ধরে তিনি বলেন, বক্তাবলী, আলীরটেক ও আশপাশের কৃষি অঞ্চল থেকে উৎপাদিত কৃষিপণ্য দ্রুত নারায়ণগঞ্জ ও ঢাকার বাজারসহ দেশের অন্যান্য অঞ্চলে পরিবহন করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি সার, বীজ ও অন্যান্য কৃষি উপকরণ সহজে কৃষকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া যাবে। পরিবহন সময় ও ব্যয় কমলে কৃষিপণ্যের বাজারজাতকরণ এবং কৃষকদের ন্যায্য মূল্য পাওয়ার ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

নারায়ণগঞ্জের শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও প্রস্তাবিত সেতুটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে চিঠিতে বলা হয়েছে। শিল্পকারখানার কাঁচামাল ও উৎপাদিত পণ্য দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দ্রুত পরিবহন, সরবরাহ ব্যবস্থার দক্ষতা বৃদ্ধি এবং নতুন শিল্প ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম সম্প্রসারণে এ সংযোগ সহায়ক হবে। এর ফলে স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধির সুযোগ সৃষ্টি হবে।

এ ছাড়া উন্নত ও সরাসরি সড়ক যোগাযোগ আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং জরুরি সেবা ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর করতে পারে। পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, অ্যাম্বুলেন্সসহ জরুরি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো দ্রুত দুর্গম বা বিচ্ছিন্ন এলাকায় পৌঁছাতে পারবে। প্রশাসনিক কার্যক্রম, দুর্যোগকালীন উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণেও যোগাযোগ ব্যবস্থাটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

সার্বিকভাবে প্রস্তাবিত সেতুটি নারায়ণগঞ্জের স্থানীয় যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের পাশাপাশি পদ্মা সেতু করিডোর, মুন্সীগঞ্জ-মুক্তারপুর, নারায়ণগঞ্জ এবং চট্টগ্রামমুখী জাতীয় মহাসড়ক নেটওয়ার্কের মধ্যে একটি কার্যকর বিকল্প সংযোগ স্থাপন করবে বলে চিঠিতে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে কৃষি, শিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্য, কর্মসংস্থান, জনসেবা ও আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থায় বহুমাত্রিক সুফল পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এমতাবস্থায় এলাকার বৃহত্তর জনস্বার্থ, আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, কৃষি ও শিল্পের বিকাশ, আইনশৃঙ্খলা ও জরুরি সেবা কার্যক্রমকে গতিশীল করা এবং রাজধানী ঢাকার ওপর আন্তঃআঞ্চলিক যানবাহনের চাপ কমানোর বিষয়টি বিবেচনা করে আলীরটেক-ডিক্রিরচর ঘাটে অথবা সুবিধাজনক অন্য কোনো স্থানে শীতলক্ষ্যা নদীর ওপর সেতু নির্মাণের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের জন্য প্রতিমন্ত্রীর সদয় নির্দেশনা কামনা করেন সংসদ সদস্য মাধবী মার্মা।