ফাইল ছবি
ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে উৎসব ও বন্ধন পরিবহনের ভাড়া নির্ধারণ নিয়ে যাত্রী প্রতিনিধি, বাস মালিক ও প্রশাসনের দীর্ঘ আলোচনা হলেও কোনো সমঝোতা হয়নি। সাধারণ যাত্রীর ভাড়া ৫৫ থেকে ৬০ টাকার মধ্যে কোথায় নির্ধারিত হবে, তা নিয়ে মতপার্থক্য থাকায় বৈঠক শেষ হয়েছে সিদ্ধান্ত ছাড়াই। শিক্ষার্থীদের ভাড়া নিয়েও রয়েছে সামান্য ব্যবধান।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে এ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। প্রায় চার ঘণ্টার বৈঠকে উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম ফয়েজ উদ্দিন।
যাত্রী অধিকার সংরক্ষণ ফোরামের আহ্বায়ক রফিউর রাব্বি জানান, সাধারণ যাত্রীর জন্য ৫৫ টাকা ভাড়া বহাল রাখার পক্ষে তাঁরা। অন্যদিকে বাস মালিকেরা ৬০ টাকা দাবি করছেন। দুই পক্ষের অবস্থানের মধ্যে সমন্বয় করতে ৫৭ ও ৫৮ টাকার প্রস্তাবও আলোচনায় এসেছে। শিক্ষার্থীদের ভাড়া ৩৫ টাকা রাখার প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি।
রফিউর রাব্বি বলেন, তাঁরা বাস চলাচল বন্ধ বা নতুন করে আন্দোলনের মতো পরিস্থিতি চান না। তবে ভাড়া নিয়ে সমাধান না হলে অস্থিরতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাঁর ভাষ্য, গত এপ্রিল থেকে শিক্ষার্থীদের ভাড়া ৩৫ টাকা থাকলেও তাঁদের দাবি ছিল ৩০ টাকা। সাধারণ যাত্রীর মূল ভাড়া কমানোর বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই ৩৫ টাকার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
বৈঠকে বাস মালিকপক্ষ সাধারণ যাত্রীর ভাড়া ৬০ টাকা এবং শিক্ষার্থীদের ভাড়া ৩৫ টাকা রাখার দাবি জানায়। আলোচনার একপর্যায়ে মালিকপক্ষের প্রতিনিধিরা সভাকক্ষ ত্যাগ করেন।
ইউএনও এস এম ফয়েজ উদ্দিন বলেন, যাত্রী প্রতিনিধি ও বাস মালিকদের যৌক্তিক দাবিগুলো শোনা হয়েছে। উভয় পক্ষকে ছাড় দিয়ে এমন একটি সমাধানে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে যাত্রীদের ওপর অতিরিক্ত চাপ না পড়ে এবং পরিবহন মালিকেরাও ক্ষতিগ্রস্ত না হন।
তিনি জানান, শিক্ষার্থীদের ভাড়া নিয়ে একদিকে ৩৪ টাকা, অন্যদিকে ৩৫ টাকার প্রস্তাব এসেছে। সাধারণ যাত্রীর ভাড়া নিয়েও একাধিক প্রস্তাব থাকলেও কোনো বিষয়ে চূড়ান্ত ঐকমত্য হয়নি। দ্রুত এ সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

