ফাইল ছবি
মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান হচ্ছে, উদ্ধার হচ্ছে বিপুল পরিমাণ গাঁজা ও ইয়াবা। কখনো পুলিশের হাতে ধরা পড়ছেন কারবারিরা, কখনো ভ্রাম্যমাণ আদালতে দেওয়া হচ্ছে কারাদণ্ড। কিন্তু অভিযানের পরও মাদকের বিস্তার থামছে না। বরং নতুন নতুন এলাকায় মাদক কেনাবেচার অভিযোগ উঠছে। আড়াইহাজারে মাদকবিরোধী অভিযানের এই ধারাবাহিকতার বিপরীতে বড় হয়ে উঠছে আরেকটি প্রশ্ন; মাদক উদ্ধার ও গ্রেপ্তারের পরও কীভাবে সচল থাকছে কারবারের নেটওয়ার্ক? কোথা থেকে আসছে এসব মাদক, কারা সরবরাহ করছে, আর কারা নিয়ন্ত্রণ করছে খুচরা বিক্রির বাজার?
গত জুন ও জুলাই মাসে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ৭০ কেজি গাঁজাসহ ইয়াবা উদ্ধার এবং পৃথক অভিযানে পাঁচজনকে কারাদণ্ড দেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। তবু স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, গোপালদী থেকে কালাপাহাড়িয়া পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় মাদক বিক্রি ও সেবন চলছে। তাঁদের ভাষ্য, অভিযানে ধরা পড়ছেন মূলত মাদক সেবনকারী ও খুচরা বিক্রেতারা। কিন্তু মাদকের উৎস ও কারবারের নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা না থাকায় একই সমস্যা বারবার ফিরে আসছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিযানগুলোতে মাদক উদ্ধার ও ব্যক্তিবিশেষের গ্রেপ্তারের তথ্য সামনে এলেও এসব মাদক কোথা থেকে আসছে, কীভাবে বিভিন্ন এলাকায় পেঁৗছাচ্ছে এবং কারা এর সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করছে, তা নিয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, মাদক কারবারের অভিযোগ এখন উপজেলার একাধিক ইউনিয়ন ও পৌর এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে। গোপালদী, বিশনন্দী, ব্রাহ্মন্দী, আড়াইহাজার সদর, পাঁচরুখী, পুরিন্দা, জাঙ্গালিয়া, উচিৎপুরা ও কালাপাহাড়িয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় মাদক বিক্রি ও সেবনের অভিযোগ রয়েছে। সন্ধ্যার পর নির্জন সড়ক, বাজারের পেছনের অংশ, নদীপাড় ও ফসলি জমির আড়ালে মাদক কেনাবেচা হয় বলে তাঁদের দাবি। এক অনুসন্ধানে জানা গেছে, পুরা উপজেলায় ২শতাধিকের বেশী মাদকের স্পট রয়েছে। খুচরা বিক্রেতারা ধরা পড়লেও বড় বড় মাদক বিক্রেতারা ধরা ছোয়ার বাহিরে রয়েছে। তবে মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অপ্রতুল।
স্থানীয় শিক্ষক সাইফুল ইসলাম বলেন, “সবচেয়ে বড় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তরুণরা। অনেক শিক্ষার্থী মাদকের কারণে পড়াশোনা ছেড়ে দিচ্ছে। এটি শুধু আইনশৃঙ্খলার বিষয় নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অস্তিত্বের প্রশ্ন।”
মাদক কারবারের বিস্তারের অভিযোগের মধ্যেও স্থানীয় উদ্যোগে পরিস্থিতি বদলানোর একটি উদাহরণ রয়েছে গোপালদী পৌরসভার রামচন্দ্রদীর দক্ষিণপাড়ায়। কয়েক মাস আগেও সন্ধ্যার পর সেখানে মাদকসেবীদের আনাগোনা ছিল নিয়মিত। পরে এলাকাবাসী রাতের পাহারা, সামাজিক নজরদারি ও প্রশাসনের সহযোগিতায় সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে তোলেন।
স্থানীয়দের দাবি, তাঁদের এই উদ্যোগে এলাকায় প্রকাশ্যে মাদক সেবন ও কারবার প্রায় বন্ধ হয়েছে। স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরে এসেছে।
স্থানীয়দের মতে, মাদকবিরোধী অভিযানকে শুধু উদ্ধার ও গ্রেপ্তারের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। মাদক সরবরাহের উৎস শনাক্ত করা, কারবারের সঙ্গে জড়িত মূল ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা এবং স্থানীয় পর্যায়ে নজরদারি বাড়ানোর ওপর তাঁরা গুরুত্ব দিচ্ছেন।
আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সবজেল হোসেন বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান জিরো টলারেন্স। নিয়মিত অভিযান চলছে। মাদক কারবারিদের তালিকা করে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। তবে শুধু পুলিশের পক্ষে এ সমস্যা সমাধান সম্ভব নয়। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি ও সচেতন নাগরিকদেরও এগিয়ে আসতে হবে।”

