ফাইল ছবি
ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে চলাচলকারী ‘বন্ধন’ ও ‘উৎসব’ পরিবহনের অযৌক্তিক ভাড়া বৃদ্ধি এবং সপ্তাহে ৭ দিন শিক্ষার্থীদের শর্তহীন হাফ পাস ৩০ টাকার দাবিতে জেলা প্রশাসকের (ডিসি) সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন, নারায়ণগঞ্জ জেলার নেতৃবৃন্দ। পরবর্তীতে বিকেলে বাস কাউন্টার পরিদর্শনে গেলে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বাকবিতণ্ডার জেরে প্রায় এক ঘণ্টা কাউন্টার বন্ধ থাকে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্র ফেডারেশনের নেতৃবৃন্দ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে বাস ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়টি তুলে ধরেন। এ সময় নেতৃবৃন্দ জানান, সরকারি কোনো প্রজ্ঞাপন ছাড়াই সম্পূর্ণ অযৌক্তিকভাবে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে সাধারণ যাত্রীদের বাস ভাড়া ৫৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬০ টাকা করা হয়েছে। সেই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের হাফ ভাড়া বাড়িয়ে ৪০ টাকা করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।
নেতৃবৃন্দ আরও দাবি করেন, শিক্ষার্থীদের সপ্তাহে ৭ দিন শর্তহীন হাফ পাস নিশ্চিত করতে হবে। অর্থাৎ, পূর্বের ৫৫ টাকা ভাড়ার অর্ধেক হিসেবে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ২৮ টাকা বা সর্বোচ্চ ৩০ টাকা ভাড়া নিতে হবে। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির খোঁড়া অজুহাতে মালিকপক্ষের এই ভাড়া বৃদ্ধি মেনে নেওয়া হবে না।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসক এ বিষয়ে ছাত্র ফেডারেশনের নেতৃবৃন্দকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দেন। এ সময় নেতৃবৃন্দ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, কাউন্টারগুলোতে যদি সাধারণ যাত্রীদের থেকে ৫৫ টাকা এবং শিক্ষার্থীদের থেকে হাফ ভাড়া না নেওয়া হয়, তবে কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।
পরবর্তীতে বিকেল ৪টার দিকে ছাত্র ফেডারেশন নারায়ণগঞ্জ জেলার নেতৃবৃন্দ চাষাঢ়াস্থ উৎসব ও বন্ধন পরিবহনের কাউন্টার পরিদর্শনে যান। সেখানে বর্ধিত ভাড়া আদায়কে কেন্দ্র করে কাউন্টার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নেতৃবৃন্দের বাকবিতণ্ডা হয়। এর জেরে দীর্ঘ ১ ঘণ্টা উভয় পরিবহনের টিকিট কাউন্টার বন্ধ রাখা হয়।
অবশেষে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পরিবহন মালিকপক্ষ জানায়, আগামীকাল (২৪ সেপ্টেম্বর) জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। মালিকপক্ষের এই আশ্বাসের ভিত্তিতে ছাত্র ফেডারেশন তাদের আজকের কর্মসূচি সমাপ্ত ঘোষণা করে।

