বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

|

আশ্বিন ৭ ১৪৩৩

Advertisement
Narayanganj Post :: নারায়ণগঞ্জ পোস্ট

নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের প্যারেড, মাসিক কল্যাণ ও অপরাধ পর্যালোচনা সভা

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

প্রকাশিত: ১৯:৪২, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের প্যারেড, মাসিক কল্যাণ ও অপরাধ পর্যালোচনা সভা

অপরাধ পর্যালোচনা সভা

নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের মাস্টার প্যারেড, মাসিক কল্যাণ সভা ও আগস্ট ২০২৬ মাসের অপরাধ পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দিনব্যাপী জেলা পুলিশ লাইন্সে এসব কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

সকাল ৮টায় নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের মাস্টার প্যারেড অনুষ্ঠিত হয়। এতে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। প্যারেডে জেলার বিভিন্ন ইউনিটে কর্মরত বিভিন্ন পদমর্যাদার পুলিশ সদস্যরা অংশ নেন।

পরে সকাল ১০টায় পুলিশ লাইন্স ড্রিল শেডে মাসিক কল্যাণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় জেলার বিভিন্ন ইউনিটের ইনচার্জ ও বিভিন্ন পদমর্যাদার পুলিশ সদস্যরা তাদের সামষ্টিক সমস্যা ও বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন। পুলিশ সুপার উত্থাপিত বিষয়গুলো গুরুত্বসহকারে শুনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সমস্যা সমাধানে নির্দেশনা দেন।

সভায় পেশাগত দক্ষতা, দায়িত্বশীলতা, মাদক ও অস্ত্র উদ্ধার, ক্লুলেস মামলার রহস্য উদঘাটন, গ্রেফতারি পরোয়ানা তামিল এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য জেলা পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও সদস্যদের বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে পুরস্কৃত করা হয়।

বিশেষ পুরস্কার পান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) তারেক আল মেহেদী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (খ-সার্কেল) দীপংকর ঘোষ এবং বন্দর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. জামাল উদ্দিন। বন্দর থানা এলাকায় ইসলামী আন্দোলনের কর্মী বুলবুল হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আলোচিত সন্ত্রাসী শেখ সিফাতসহ ১১ আসামিকে দেশীয় অস্ত্রসহ মাত্র ছয় ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় তাদের এ পুরস্কার দেওয়া হয়। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, শেখ সিফাতের বিরুদ্ধে ১৪টি মামলা রয়েছে।

এ ছাড়া এসআই (নিঃ) মো. রমজান হোসেন শ্রেষ্ঠ এসআই নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি ৫৬টি গ্রেফতারি পরোয়ানা নিষ্পত্তিসহ আইনগত কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

এএসআই (নিঃ) আনোয়ার হোসেন শ্রেষ্ঠ এএসআই নির্বাচিত হন। তিনি ৩৮টি গ্রেফতারি পরোয়ানা নিষ্পত্তি, আসামি গ্রেপ্তারের পাশাপাশি ৩৯ পিস ইয়াবা ও ৬ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করেন।

এসআই মো. আবু সাদেক শ্রেষ্ঠ মাদক উদ্ধারকারী কর্মকর্তা নির্বাচিত হন। তিনি পাঁচজন আসামিকে গ্রেপ্তারের পাশাপাশি ৭৬ কেজি গাঁজা ও ১০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করেন।

এসআই নন্দন চন্দ্র সরকার শ্রেষ্ঠ অস্ত্র উদ্ধারকারী কর্মকর্তা ও ক্লুলেস মামলার ডিটেকশনকারী কর্মকর্তা হিসেবে পুরস্কৃত হন। অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারের পাশাপাশি সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণের মাধ্যমে ডাকাতি মামলার রহস্য উদঘাটন এবং লুণ্ঠিত হায়েস গাড়ি উদ্ধারে তিনি ভূমিকা রাখেন।

এসআই মফিজুল ইসলাম পিপিএম ক্লুলেস মামলার ডিটেকশনকারী কর্মকর্তা হিসেবে পুরস্কৃত হয়েছেন। ডাকাতি মামলায় আসামি গ্রেপ্তার ও স্বর্ণ উদ্ধারের পাশাপাশি অপহৃত তিনজনকে ৫৮ ঘণ্টার মধ্যে উদ্ধার এবং অস্ত্র, গুলি ও মাদকদ্রব্য উদ্ধারে তার ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবে এ পুরস্কার দেওয়া হয়।

এসআই (নিঃ) মিঠুন কুমার দত্ত জেলার শ্রেষ্ঠ ডিবি কর্মকর্তা নির্বাচিত হন। তার নেতৃত্বে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন, দুই রাউন্ড গুলি, বিভিন্ন ধরনের দেশীয় অস্ত্র ও মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়।

এ ছাড়া জেলা বিশেষ শাখায় (ডিএসবি) কর্মরত এসআই (নিঃ) মো. ইজাহার আলী, ওয়াচার কনস্টেবল মো. মোখলেছুর রহমান, ওয়াচার কনস্টেবল মো. ইসমাইল খান, কনস্টেবল মো. সাজ্জাদ বিন ইউসুফ (এসএএফ) এবং কনস্টেবল মামুন অর রশিদ (এসএএফ)-কে অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের জন্য বিশেষ পুরস্কার দেওয়া হয়।

দুপুর ১২টায় আগস্ট ২০২৬ মাসের বিভিন্ন মামলার অগ্রগতি ও জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে অপরাধ পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) তারেক আল মেহেদী পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনার মাধ্যমে আগস্ট মাসের বিভিন্ন মামলার অগ্রগতি, অপরাধের পরিসংখ্যান ও আইনগত কার্যক্রমের বিস্তারিত প্রতিবেদন তুলে ধরেন।

সভা শেষে পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান মামলা তদন্ত, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, মাদক ও অস্ত্র উদ্ধার, গ্রেফতারি পরোয়ানা তামিল এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।