প্রতীকী ছবি
নারায়ণগঞ্জের বন্দরে মদনপুর স্পেশালাইজড হাসপাতাল থেকে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে বন্দর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) হাসপাতাল পরিচালক মিতু আক্তার বন্দর থানায় এবিষয়ে অভিযোগ দায়ের করেন।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, মিতু আক্তার (২৯), তিনি বন্দর উপজেলার মদনপুর এলাকার বাসিন্দা এবং তার স্বামী মোঃ অহিদুজ্জামান অহিদ পেশায় ব্যবসায়ী। মদনপুর স্ট্যান্ড সংলগ্ন আব্দুল মজিদ টাওয়ারে অবস্থিত মদনপুর স্পেশালাইজড হাসপাতালের পরিচালক হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করছেন।
অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, এসএম মোমেন (৩০), নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানার মদনপুর এলাকার শহিদুল্লাহ পাইসার ছেলে, মোঃ শফিউল্লাহ (৪০), একই এলাকার মৃত মহব্বত আলীর ছেলে, এসএম বিল্লাল ওরফে টোকাই বিল্লাল (২২), হাবিব উল্লাহর ছেলে, দ্বিপ হোসেন (২৮), জাহেরুল্লাহর ছেলে, আরাফাত (১৮),করা আলাল হোসেনের ছেলে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৪ থেকে ৫ জন৩¡কে বিবাদী করা হয়েছে।
এজাহারে বলা হয়, ১৬ ফেব্রুয়ারি বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হাসপাতালের ভেতরে প্রবেশ করে পরিচালনায় বাধা দেয় এবং ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। দাবিকৃত টাকা না দিলে হাসপাতাল বন্ধ করে দেওয়া, খুন-জখম করা এবং লাশ গুম করার হুমকি দেওয়া হয়।
এরপর ১৮ ফেব্রুয়ারি বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে একই চক্র আবার হাসপাতালে এসে পুনরায় চাঁদা দাবি করে। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ৪ নম্বর বিবাদী দ্বিপ হোসেন লোহার রড দিয়ে বিল্ডিংয়ের কেয়ারটেকার মোঃ সালাউদ্দিন (৩৬), সে বন্দর থানার ফুলহর এলাকার মৃত হাজী আব্দুর খালেকের ছেলে, তার মাথায় আঘাত করে গুরুতর জখম করে। এ সময় তিনি মাটিতে পড়ে গেলে অন্য দুই অভিযুক্ত তার পকেটে থাকা ভবনের ভাড়া বাবদ নগদ ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
সালাউদ্দিনের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা আবারও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে তাকে উদ্ধার করে বন্দর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
মিতু আক্তার জানান, আহত ব্যক্তির চিকিৎসা এবং পারিবারিক পরামর্শের কারণে মামলা করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। তিনি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মোক্তার আশরাফ উদ্দিন জানান, অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

