সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

|

আশ্বিন ১২ ১৪৩৩

Advertisement
Narayanganj Post :: নারায়ণগঞ্জ পোস্ট

সোনারগাঁয়ে বিয়ের ট্রলারডুবি: ৪ দিন পর নিখোঁজ বাবার মরদেহ উদ্ধার

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

প্রকাশিত: ১৭:১৮, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সোনারগাঁয়ে বিয়ের ট্রলারডুবি: ৪ দিন পর নিখোঁজ বাবার মরদেহ উদ্ধার

ফাইল ছবি

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে মেঘনা নদীতে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক ট্রলারডুবির ঘটনায় নিখোঁজ চার সদস্যের শেষ মরদেহটিও উদ্ধার করা হয়েছে। দুর্ঘটনার তিন দিন পর সোমবার দুপুরে মেঘনা নদীর শাখা মারিখালি নদী থেকে হেলাল উদ্দিন নামে ওই বাবার ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করে নৌ-পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল। এর মাধ্যমে একই পরিবারের চার সদস্যেরই প্রাণহানির বেদনাদায়ক পরিণতি নিশ্চিত হলো।

​এর আগে শনিবার সকালে মেঘনা নদী থেকে হেলাল উদ্দিনের তিন সন্তান,সজিব, সামিয়া ও শিশু সামিনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল।

​গত বৃহস্পতিবার বিকেলে কুমিল্লার শ্রীমন্দী গ্রাম থেকে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ট্রলারে করে সোনারগাঁয়ের সোনাময়ী গ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা হন স্বজনেরা। গরু-ছাগলসহ ট্রলারটিতে মোট ১৩ জন যাত্রী ছিলেন। ট্রলারটি বৈদ্যারবাজার এলাকার কাছাকাছি পৌঁছালে হঠাৎ বৈরী আবহাওয়া ও প্রচণ্ড ঝড়ের কবলে পড়ে উল্টে যায়।

​দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় বাসিন্দাদের সহায়তায় আটজনকে জীবিত এবং রাশিদা নামে এক নারীকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছিল। তবে হেলাল উদ্দিন ও তাঁর তিন সন্তান নদীর প্রবল স্রোতে তলিয়ে নিখোঁজ হন।

​ঘটনার পর থেকেই নিখোঁজদের সন্ধানে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ও নৌ-পুলিশ যৌথ অভিযান শুরু করে। 

শনিবার সকালে তিন ভাই-বোনের মরদেহ উদ্ধারের পর সোমবার দুপুরে উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের হাত-কোপা ও রতনপুর এলাকার মাঝামাঝি নতুন ব্রিজের নিচে মারিখালি নদীতে হেলাল উদ্দিনের মরদেহ ভাসতে দেখে এলাকাবাসী। 

খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে।
​সোনারগাঁও ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার জাহেদ চৌধুরী জানান, নিখোঁজ চারজনের মধ্যে বাকি থাকা হেলাল উদ্দিনের মরদেহ সোমবার উদ্ধারের মধ্য দিয়েই ফায়ার সার্ভিস ও নৌ-পুলিশের যৌথ উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত হয়েছে।

​একই পরিবারের চার সদস্যকে হারিয়ে স্বজনদের বিলাপে পুরো এলাকায় এখন নেমে এসেছে বিষাদময় পরিবেশ। বিয়ের আনন্দের মুহূর্তে এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় স্তব্ধ পুরো এলাকাবাসী।