সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬

|

আশ্বিন ২৫ ১৪৩৩

Advertisement
Narayanganj Post :: নারায়ণগঞ্জ পোস্ট

রূপগঞ্জে জরাজীর্ণ ভবনে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নারীদের প্রশিক্ষণ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

প্রকাশিত: ১৬:০৭, ১১ অক্টোবর ২০২৬

আপডেট: ১৬:০৮, ১১ অক্টোবর ২০২৬

রূপগঞ্জে জরাজীর্ণ ভবনে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নারীদের প্রশিক্ষণ

রূপগঞ্জে জাতীয় মহিলা সংস্থার উপজেলা শাখার জরাজীর্ণ ভবন

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে জাতীয় মহিলা সংস্থার উপজেলা শাখার জরাজীর্ণ ভবনে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন নারীরা। সামান্য বৃষ্টি হলেই প্রশিক্ষণকক্ষে জমে যায় হাঁটুপানি। নেই বিশুদ্ধ খাবার পানি, ব্যবহারযোগ্য শৌচাগার কিংবা পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা। এমন প্রতিকূল পরিবেশেও সেলাই ও এমব্রয়ডারিসহ বিভিন্ন হাতের কাজের প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন ৩০ জন নারী। ভবন সংস্কারের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে চারবার লিখিত আবেদন করেও কোনো প্রতিকার মেলেনি বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।

জানা গেছে, নারীদের স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলা, দক্ষতা বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে রূপগঞ্জে পরিচালিত হচ্ছে জাতীয় মহিলা সংস্থার উপজেলা শাখার প্রশিক্ষণ কার্যক্রম। কিন্তু যে প্রতিষ্ঠানে নারীদের স্বপ্ন পূরণের হাতেখড়ি, সেই প্রতিষ্ঠানই এখন নানা সমস্যায় জর্জরিত।

উপজেলার ১১ শতাংশ জমির ওপর নির্মিত সংস্থাটির ভবনটি দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। সংস্কারের অভাবে ভবনটির বিভিন্ন অংশের অবস্থা নাজুক হয়ে পড়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই প্রশিক্ষণকক্ষে হাঁটুপানি জমে যায়। এতে প্রশিক্ষণার্থীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে স্বাভাবিক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।

এখানে একসঙ্গে ৩০ জন নারীকে সেলাই মেশিন চালানো, এমব্রয়ডারিসহ বিভিন্ন হাতের কাজের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। প্রশিক্ষণ শেষে নিজেদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে পরিবার ও দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখার স্বপ্ন দেখছেন তাঁরা। কিন্তু অবকাঠামোগত নানা সংকট তাঁদের সেই স্বপ্ন পূরণের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

প্রশিক্ষণার্থী-১ (মোসা: হাবিবা রহমান ) বলেন, ‘আমরা এখানে সেলাই ও হাতের কাজ শিখতে আসি, যাতে ভবিষ্যতে নিজেরা কিছু করতে পারি। কিন্তু ভবনের অবস্থা খুবই খারাপ। বৃষ্টি হলেই ঘরের ভেতরে হাঁটুপানি জমে যায়। তখন ঠিকমতো প্রশিক্ষণ নিতে পারি না। অনেক কষ্ট করে এখানে আসি। আমরা চাই, দ্রুত ভবনটি সংস্কার করে প্রশিক্ষণের উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করা হোক।’

আরেক প্রশিক্ষণার্থী (মোসা:  সুরাইয়া আক্তার ) বলেন, ‘আমরা মেয়েরা এখানে প্রতিদিন প্রশিক্ষণ নিতে আসি। অথচ আমাদের জন্য ব্যবহারযোগ্য কোনো শৌচাগার নেই। বিশুদ্ধ খাবার পানিরও ব্যবস্থা নেই। দীর্ঘ সময় প্রশিক্ষণ নিতে এসে এসব সমস্যায় পড়তে হয়। একটি সরকারি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে এমন অবস্থা খুবই দুঃখজনক। আমরা দ্রুত এসব সমস্যার সমাধান চাই।’

প্রশিক্ষণার্থী (খাদিজা আক্তার ) বলেন, ‘ভবনটি অনেক পুরোনো ও জরাজীর্ণ। সব সময় ভয়ে থাকি, কখন কী দুর্ঘটনা ঘটে। বিশেষ করে ভূমিকম্প হলে ভবনটি ধসে পড়তে পারে বলে আমাদের আশঙ্কা। প্রতিষ্ঠানের চারপাশে সীমানাপ্রাচীর নেই, নৈশপ্রহরীও নেই। আমরা নিরাপদ পরিবেশে প্রশিক্ষণ নিতে চাই। বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটার আগেই কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’

প্রশিক্ষণার্থীদের অভিযোগ, ভবনের বেহাল অবস্থার পাশাপাশি নিরাপত্তাব্যবস্থার ঘাটতিও তাঁদের উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলেছে। সীমানাপ্রাচীর ও নৈশপ্রহরীর ব্যবস্থা না থাকায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন তাঁরা। এ ছাড়া বিশুদ্ধ খাবার পানি ও স্বাস্থ্যসম্মত শৌচাগারের অভাবে প্রতিদিন নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

উপজেলা সংগঠক জাতীয় মহিলা সংস্থা সাহারা পারভিন বলেন , ভবনটির সংস্কারের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে একবার নয়, চারবার লিখিত আবেদন করা হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো সংস্কারকাজ শুরু হয়নি। ফলে বছরের পর বছর নানা সংকটের মধ্য দিয়েই চলছে নারীদের দক্ষতা উন্নয়নের এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম।
সংশ্লিষ্টদের মতে, নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে এ ধরনের প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের গুরুত্ব অপরিসীম। অথচ দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটির ভবন জরাজীর্ণ অবস্থায় থাকায় প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত না হলে প্রশিক্ষণার্থীদের উপস্থিতি ও আগ্রহেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

প্রশিক্ষণার্থী ও সংশ্লিষ্টদের দাবি, বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আগেই ভবনটি সংস্কার করতে হবে। পাশাপাশি বিশুদ্ধ খাবার পানি, স্বাস্থ্যসম্মত শৌচাগার, সীমানাপ্রাচীর ও পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। নারীদের স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন যেন জরাজীর্ণ ভবনের ঝুঁকিতে থমকে না যায়, সে জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তাঁরা।

এ বিষয়ে রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম আব্দুল বিন শফিক বলেন, ‘উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বরাদ্দ দেওয়া সম্ভব হলে তা দেওয়া হবে। অন্যথায় আবেদনপত্রটি জাতীয় মহিলা সংস্থার ঢাকার প্রধান কার্যালয়ে অগ্রায়ন করে সেখান থেকে বরাদ্দ পাওয়ার চেষ্টা করা হবে।