ফাইল ছবি
নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলায় মাত্র ৮ ঘণ্টার ব্যবধানে দুটি মর্মান্তিক খুনের ঘটনা ঘটেছে।
এর মধ্যে গত সোমবার (১২ অক্টোবর) রাত সাড়ে আটটার দিকে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ২০ নম্বর ওয়ার্ডে প্রতিপক্ষের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে মাকসুদা নামের এক নারী নিহত হন।
এর রেশ কাটতে না কাটতেই ১৩ অক্টোবর ভোরের দিকে বন্দর থানার তিনগাঁও উত্তরপাড়া এলাকায় পরকীয়ার জেরে সুফিয়া আক্তার নিশি (২৪) নামের এক গৃহবধূকে গলা কেটে ও ওড়না পেঁচিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটে।
এ দ্বিতীয় ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামী আব্দুল মান্নান ওরফে মনিরকে (২৮) ঘটনাস্থল থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর ২০২৬) ভোরের দিকে বন্দর থানাধীন তিনগাঁও উত্তরপাড়া এলাকায় এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
নিহত সুফিয়া আক্তার নিশি বন্দর উপজেলার তিনগাঁও উত্তরপাড়া এলাকার দেলোয়ার হোসেনের মেয়ে এবং পুতুল বেগমের কন্যা। আর গ্রেপ্তার হওয়া স্বামী আব্দুল মান্নান ওরফে মনির রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী থানার বারুইপাড়া (৪নং ওয়ার্ড) এলাকার শফিকুল ইসলাম বাবুল ও আদরি খাতুনের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন রাত অনুমান ৪টার দিকে স্বামী আব্দুল মান্নানের পরকীয়া প্রেমের বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথা কাটাকাটি ও ঝগড়া শুরু হয়। ঝগড়ার একপর্যায়ে রাতের দিকে স্ত্রীর ঘুমিয়ে পড়ার সুযোগ নিয়ে মনির ধারালো ছুরি দিয়ে তার গলার ওপর আঘাত করে। এরপর ওড়না দিয়ে গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে তার নিশ্চিত মৃত্যু ঘটায়।
হত্যাকাণ্ডের পর অভিযুক্ত স্বামী নিজেই ৯৯৯-এ ফোন করে ডিউটি অফিসারকে বিষয়টি জানান। সংবাদ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বন্দর থানার ডিউটি অফিসার তাৎক্ষণিকভাবে কিলো ডিউটিরত এসআই নূর হোসেনকে বিষয়টি অবহিত করেন। পরে এসআই নূর হোসেন সঙ্গীয় ফোর্সসহ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে অভিযুক্ত স্বামী মনির হোসেনকে আটক ও গ্রেপ্তার করেন।
পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নিহতের সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মৃতদেহ নারায়ণগঞ্জ ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করেছে। ৮ ঘন্টান ব্যবধানে জোড়া খুনের এ ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে বন্দর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জামাল উদ্দিনের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

