ফাইল ছবি
নারায়ণগঞ্জের সাতটি থানা ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) বিশেষ অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় ৯২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে ৯ জন মাদক কারবারি, ৪৫ জন মাদকসেবী, ১৪ জন পরোয়ানাভুক্ত আসামি, একজন অস্ত্রধারী, একজন ডাকাত, চারজন ছিনতাইকারী, নিয়মিত মামলার সাত আসামি, অন্যান্য মামলায় আটজন এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের তিন সদস্য রয়েছেন। অভিযানে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা, গাঁজা ও চোলাই মদ উদ্ধার করা হয়েছে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের বিশেষ অভিযানে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।
জেলা পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি গ্রেপ্তার করা হয়েছে সোনারগাঁ থানা এলাকায়। এ ছাড়া বন্দর, সিদ্ধিরগঞ্জ ও রূপগঞ্জে মাদকবিরোধী অভিযানে মাদক কারবারিদের গ্রেপ্তার এবং মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, নারায়ণগঞ্জ সদর থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তিনজন মাদক কারবারি, ১০ জন মাদকসেবী ও একজন অস্ত্রধারীসহ মোট ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ পরোয়ানাভুক্ত তিনজন, নিয়মিত মামলার একজন আসামি এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের দুই সদস্যসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশের অভিযানে ১০টি ইয়াবা বড়িসহ একজন মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ছাড়া দুজন মাদকসেবী, পরোয়ানাভুক্ত তিনজন, একজন ডাকাত, নিয়মিত মামলার একজন আসামি এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের একজন সদস্যসহ মোট নয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বন্দর থানা এলাকায় ১ হাজার ৪০০টি ইয়াবা বড়িসহ একজন মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একই অভিযানে একজন মাদকসেবী এবং অন্যান্য মামলায় আটজনসহ মোট ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সোনারগাঁ থানা পুলিশ ১৫টি ইয়াবা বড়িসহ একজন মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে। এ ছাড়া ২০ জন মাদকসেবী, চারজন ছিনতাইকারী, পরোয়ানাভুক্ত চারজন এবং নিয়মিত মামলার একজন আসামিসহ মোট ৩০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
রূপগঞ্জ থানা পুলিশের অভিযানে ৫০টি ইয়াবা বড়ি ও পাঁচ লিটার চোলাই মদসহ দুজন মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ছাড়া ১২ জন মাদকসেবী, পরোয়ানাভুক্ত একজন এবং নিয়মিত মামলার দুজন আসামিসহ মোট ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
অন্যদিকে, আড়াইহাজার থানা পুলিশ ১০০ গ্রাম গাঁজাসহ একজন মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে। এ ছাড়া পরোয়ানাভুক্ত তিনজন ও নিয়মিত মামলার দুজন আসামিসহ মোট ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
জেলা পুলিশের দাবি, মাদক কারবারি ও মাদকসেবীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি পরোয়ানাভুক্ত আসামি, ছিনতাইকারী, ডাকাত এবং বিভিন্ন মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে বিশেষ অভিযান চালানো হচ্ছে। অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

