সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

|

শ্রাবণ ১০ ১৪৩৩

Advertisement
Narayanganj Post :: নারায়ণগঞ্জ পোস্ট

জুলাই স্মরণ: ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের প্রতিরোধে খোকনের সাহসী ভূমিকা ছিল অনন্য

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

প্রকাশিত: ১৬:০৮, ২৬ জুলাই ২০২৬

জুলাই স্মরণ: ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের প্রতিরোধে খোকনের সাহসী ভূমিকা ছিল অনন্য

ফাইল ছবি

নারায়ণগঞ্জ পোস্ট ডটকম: ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থানের উত্তাল দিনগুলোতে ঢাকাকে অবরুদ্ধ করার এবং আন্দোলনের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক সচল ও বেগবান রাখার লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক গোলাম ফারুক খোকন। প্রশাসনের চরম দমন-পীড়ন ও হামলা-মামলার ভয় উপেক্ষা করে আন্দোলনের প্রতিটি পর্যায়ে তিনি সরাসরি রাজপথে থেকে নেতাকর্মীদের সম্মুখভাগে নেতৃত্ব দিয়েছেন।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্তিকে সামনে রেখে তৎকালীন সময়ের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীরা গোলাম ফারুক খোকনের সাহসী ও আপসহীন ভূমিকার কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করছেন।

জুলাই আন্দোলনের সময় রাজধানীর সঙ্গে দেশের পূর্ব ও দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগের অন্যতম প্রধান লাইফলাইন ছিল নারায়ণগঞ্জ ও এর মধ্য দিয়ে যাওয়া ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক। ছাত্র-জনতার স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে বিএনপি নেতাকর্মীরা যখন রাজপথে নামেন, তখন গোলাম ফারুক খোকন দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে ছাত্র-জনতার সাথে একাত্ম হয়ে মহাসড়কে দুর্বার প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। আন্দোলনকে সফল করতে কৌশলগত এই মহাসড়কে কর্মসূচি জোরদার করার ক্ষেত্রে তার মাঠপর্যায়ের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

দলীয় সূত্র ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই থেকে শুরু হওয়া টানা প্রায় দুই সপ্তাহের রক্তক্ষয়ী আন্দোলনে মহাসড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অবস্থান কর্মসূচি, বিক্ষোভ ও স্বৈরাচারী শক্তির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে নেতাকর্মীদের সুসংগঠিত করেছিলেন খোকন। তিনি কেবল নির্দেশনা দিয়েই ক্ষান্ত হননি, বরং প্রতিটি ঝুঁকিপূর্ণ কর্মসূচিতে নিজে সরাসরি উপস্থিত থেকে নেতাকর্মীদের সাহস জুগিয়েছেন এবং সাধারণ ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সঙ্গে সার্বক্ষণিক সমন্বয় রক্ষা করে চলেছেন।

নেতাকর্মীদের মতে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চূড়ান্ত সফলতায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ককে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা আন্দোলনটি ছিল অন্যতম প্রধান ‘টার্নিং পয়েন্ট’। মহাসড়ক কার্যত অচল হয়ে পড়ায় তৎকালীন সরকারের ভিত নড়ে উঠেছিল। আর এই আন্দোলনকে সফল ও দীর্ঘস্থায়ী করতে গোলাম ফারুক খোকনের মতো মাঠের নেতাদের সাহসী ও সক্রিয় ভূমিকা ছিল অত্যন্ত সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয়।

নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও দলীয় নেতাকর্মীদের দাবি, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে রাজপথের লড়াইয়ে এবং স্বৈরাচার পতনের ইতিহাসে গোলাম ফারুক খোকনের এই সম্মুখসারির ভূমিকা ও ত্যাগ চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।