শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬

|

শ্রাবণ ৮ ১৪৩৩

Advertisement
Narayanganj Post :: নারায়ণগঞ্জ পোস্ট

নারায়ণগঞ্জে সবজি-ইলিশের বাজারে আগুন

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

প্রকাশিত: ১৬:৪৪, ২৪ জুলাই ২০২৬

নারায়ণগঞ্জে সবজি-ইলিশের বাজারে আগুন

ফাইল ছবি

টানা বৃষ্টির প্রভাব, সরবরাহে সাময়িক বিঘ্ন এবং পাইকারি বাজারে দাম বৃদ্ধির অজুহাতে নারায়ণগঞ্জের কাঁচাবাজারগুলোতে আবারও বেড়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় শাক-সবজির দাম। একই সঙ্গে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে ইলিশ। এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ক্রেতারা।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) শহরের দিগুবাবুর বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রায় সব ধরনের সবজির দাম গত সপ্তাহের তুলনায় কেজিতে ১০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বর্তমানে করলা বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকা, ঢেঁড়স ৮০ থেকে ১০০ টাকা, পটল ৮০ থেকে ১০০ টাকা, কচুরমুখী ৮০ থেকে ১০০ টাকা, বরবটি ৮০ থেকে ১০০ টাকা, বেগুন ১২০ থেকে ১৬০ টাকা, কচুর লতি ৮০ থেকে ১০০ টাকা, চিচিঙ্গা ৮০ টাকা, ধুন্দুল ৮০ টাকা, মুলা ৭০ টাকা এবং টমেটো ১৮০ থেকে ২২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া ফুলকপি ৬০ থেকে ৮০ টাকা, বাঁধাকপি ৬০ টাকা এবং লাউ ৮০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

সবুজ বাজারের পাশাপাশি বেড়েছে কাঁচামরিচের দামও। বাজারভেদে প্রতি কেজি কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ১৬০ থেকে ২০০ টাকায়। দেশি শসা ১৬০ টাকা, হাইব্রিড শসা ১০০ টাকা, পেঁপে ৫০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৫০ টাকা এবং ক্যাপসিকাম ৩৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ধনেপাতা কেজিপ্রতি ২২০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হতে দেখা গেছে।

শাকের বাজারেও স্বস্তি নেই। লাল শাকের আঁটি ২৫ টাকা, লাউ শাক ৫০ টাকা, পুঁই শাক ৪০ টাকা, ডাটা শাক দুই আঁটি ৪০ টাকা এবং কলমি শাক দুই আঁটি ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

চাষাঢ়া বাজারে সবজি কিনতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী আরিফুল ইসলাম বলেন, "প্রতিদিনই কোনো না কোনো পণ্যের দাম বাড়ছে। ৫০০ টাকা নিয়ে বাজারে এসে এখন দুই-তিন ধরনের সবজি কিনতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে।"

দেওভোগ এলাকার গৃহিণী নাসিমা বেগম বলেন, "বৃষ্টির অজুহাতে ব্যবসায়ীরা দাম বাড়িয়ে দেন। কিন্তু আবহাওয়া স্বাভাবিক হওয়ার পরও দাম আর কমে না। সংসার চালানো কঠিন হয়ে যাচ্ছে।"

বিক্রেতাদের দাবি, কয়েক দিনের টানা বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন এলাকা থেকে সবজি সংগ্রহে সমস্যা হয়েছে। এছাড়া পরিবহন ব্যয়ও বেড়েছে। ফলে পাইকারি বাজার থেকেই বেশি দামে কিনতে হচ্ছে।

এদিকে মুরগির বাজারেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। সোনালি মুরগি কেজিতে ৩২০ থেকে ৩৫০ টাকা, ব্রয়লার ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা, লেয়ার মুরগি ৩৬০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৭৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

মাছের বাজারে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে ইলিশ। সরবরাহ পর্যাপ্ত থাকলেও দাম কমেনি। ৩০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা, ৫০০ থেকে ৭০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ২ হাজার থেকে ২ হাজার ২০০ টাকা এবং এক কেজি ওজনের ইলিশ ৩ হাজার ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

অন্যান্য মাছের মধ্যে রুই ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, কাতল ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, তেলাপিয়া ২০০ টাকা, পাঙ্গাস ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, কই ২০০ থেকে ২২০ টাকা, পাবদা ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা এবং চিংড়ি ৮০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

ডিমের বাজারেও বাড়তি দাম লক্ষ্য করা গেছে। প্রতি ডজন লাল ডিম ১৩৫ টাকা, হাঁসের ডিম ১৮০ টাকা, দেশি মুরগির ডিম প্রতি হালি ১০০ টাকা এবং সোনালি মুরগির ডিম ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ক্রেতাদের অভিযোগ, বাজার তদারকি জোরদার না হওয়ায় ব্যবসায়ীরা ইচ্ছেমতো দাম বাড়াচ্ছেন। তারা নিত্যপণ্যের বাজারে কার্যকর নজরদারি এবং অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।