আদালত প্রাঙ্গণে শরীফকে মারধর
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা চাঁনমারী এলাকার মো. নাছির উদ্দিন (৬০) নামে এক ডিশ লাইন ক্যাবল ব্যবসায়ী হত্যা মামলার আসামি শরীফকে পুলিশের সামনেই মাটিতে ফেলে মারধর করেছে বিক্ষুব্ধ জনতা।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ আদালত প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে।
আইনজীবীরা জানান, চাঁদমারী এলাকার ডিশ লাইন ক্যাবল ব্যবসায়ী মো. নাছির উদ্দিন হত্যা মামলার আসামি শরীফকে রিমান্ড শুনানির জন্য আদালতে তোলা হয়। তাকে কোর্ট হাজত থেকে আদালতে নেওয়ার পথে নিহত নাছির উদ্দিনের এলাকার লোকজন পুলিশের সামনেই আসামি শরীফের ওপর হামলার চেষ্টা করে।
একপর্যায়ে আসামি শরীফ আদালতের দরজার সামনে পড়ে যান। তখন বিক্ষুব্ধ জনতা তাকে মাটিতে ফেলে মারধর করে। পরে আরও পুলিশ সদস্য ও আইনজীবীরা এগিয়ে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
এরপর তার রিমান্ড শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।আদালত তার বিরুদ্ধে ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. সালাউদ্দিন ভূঁইয়া সবুজ বলেন, নাছির উদ্দিন হত্যা মামলার আসামি শরীফের বিরুদ্ধে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিলেন। আদালতের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এম সাইফুল ইসলাম দুই পক্ষের শুনানি শেষে ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।
আসামিকে মারধর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই হত্যা মামলার আসামির ওপর এলাকাবাসী অনেক ক্ষুব্ধ। আর তাই তাকে সরাসরি দেখে বিক্ষুব্ধ মানুষ নিজেদের ঠিক রাখতে না পেরে এ ঘটনা ঘটিয়েছে। তবে আমরা আইনজীবী ও পুলিশ বিক্ষুব্ধ জনতাকে বুঝিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেছি।
কোর্ট পুলিশ পরিদর্শক মো. আব্দুস সামাদ বলেন, হত্যা মামলার আসামিকে আদালতে নেওয়ার পথে একটি পক্ষ হামলার চেষ্টা করেছিল। আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখেছি। সেই সঙ্গে আদালত আসামির বিরুদ্ধে ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।
এর আগে নাছির হত্যা মামলার প্রধান আসামি শরীফ চলতি মাসের ১৭ জুন আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। এরপর থেকে আসামি শরীফ নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারে বন্দি রয়েছে।
গত ১৪ মে ফতুল্লার চাঁনমারী মাউরাপট্টি এলাকার ফ্রেন্ডস ক্যাবলের অফিসে ডিশ ব্যবসায়ী নাছির উদ্দিনকে কুপিয়ে ও ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়। পরে এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী সায়মা আহমেদ বাদী হয়ে ফতুল্লা থানায় এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত শরীফকে প্রধান আসামি করে ১০ জনের নাম উল্লেখ করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

