ফাইল ছবি
সোনারগাঁ উপজেলার সাদিপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৯নং ওয়ার্ড মেম্বার এবং জাতীয় পার্টি ও যুবলীগের দ্বৈত পদধারী বিতর্কিত নেতা আবুল কালামের বিরুদ্ধে এলাকায় চরম জুলুম, জমি দখল এবং আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অর্থায়নের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলা থেকে শুরু করে সম্প্রতি দলটিকে সংগঠিত করার পেছনে তার মূল ভূমিকা রয়েছে বলে জানা গেছে। তাকে দ্রুত গ্রেপ্তার এবং তার অবৈধ ড্রেজিং ব্যবসা বন্ধের দাবিতে প্রশাসনকে ৭ দিনের আল্টিমেটাম দিয়েছে সোনারগাঁও উপজেলা ছাত্রদল।
অনুসন্ধানে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাবেক এমপি এ কে এম সেলিম ওসমানের আশীর্বাদপুষ্ট হয়ে আবুল কালাম সাদিপুর ইউনিয়ন জাতীয় পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদ বাগিয়ে নেন। একই সাথে প্রভাব খাটিয়ে তিনি ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের পদও দখল করেন। নারায়ণগঞ্জের দুই প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবারের ছত্রছায়ায় থেকে এলাকায় সেলিম ওসমান ও সাবেক এমপি কায়সার হাসনাতের নাম ভাঙিয়ে একক আধিপত্য ও জুলুমের রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করেন এই ইউপি মেম্বার।
গত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে মদনপুর বাস স্ট্যান্ড এলাকায় মদনপুর ইউপি চেয়ারম্যান এম এ সালামের ক্যাডার বাহিনীর সাথে যুক্ত হয়ে ছাত্রজনতার ওপর অতর্কিত সশস্ত্র হামলার নেতৃত্ব দেন এই আবুল কালাম। তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের প্রভাব খাটিয়ে তিনি এলাকায় নদী কেটে অবৈধ ড্রেজিং এবং হাউজিং ব্যবসার নামে সাধারণ মানুষের জমি দখলের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ গড়ে তোলেন। এই অবৈধ আয়ের বড় একটি অংশ তিনি ছাত্রলীগ ও যুবলীগের ক্যাডারদের সংগঠিত করার কাজে ব্যয় করতেন।
সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানীতে আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিলে লোক পাঠানো এবং অর্থ যোগানের সরাসরি সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে কালামের বিরুদ্ধে। এছাড়া আগামী ডিসেম্বরকে কেন্দ্র করে শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্দেশ্যে আয়োজিত একাধিক গোপন জুম মিটিংয়ে তার অংশগ্রহণের প্রমাণ মিলেছে।
স্থানীয় গোপন সূত্রে জানা যায়, সোনারগাঁ এলাকায় বড় ধরনের মিছিল ও নাশকতার প্রস্তুতি চলছে, যার মূল অর্থযোগানদাতা হিসেবে কাজ করছেন এই আবুল কালাম।
এ ব্যপারে অভিযুক্ত আবুল কালামের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি কথা বলতে রাজি হোন নি।
আবুল কালামের এসব দেশবিরোধী ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের খবর পেয়ে সোনারগাঁ উপজেলা ছাত্রদল ও বিভিন্ন ইউনিটের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ কালামকে খুঁজতে তার নিজ এলাকায় যান। তবে তোপের মুখে পড়ে সে এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে।
ছাত্রদল নেতৃবৃন্দ কড়া ভাষায় আবুল কালামের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান এবং তাকে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান। একই সাথে প্রশাসনকে হুঁশিয়ারি দিয়ে নেতৃবৃন্দ বলেন, আগামী ৭ দিনের মধ্যে কালামের অবৈধ আয়ের উৎস ড্রেজিং ব্যবসা বন্ধ করতে হবে। অন্যথায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাথে নিয়ে ছাত্রদল নিজেই এসব অবৈধ ব্যবসা বন্ধসহ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
এলাকাবাসীর দাবি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মূল অর্থযোগানদাতা এই আবুল কালামকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হোক, যাতে সোনারগাঁয়ের শান্ত পরিবেশ বিঘ্নিত হতে না পারে।

