ফাইল ছবি
সোনারগাঁয়ে নানা আয়োজনে পালিত হয়েছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। কিন্তু রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের প্রথম আহ্বায়ক ড. নূরুল হক ভূঁইয়াকে স্মরণ করেনি স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনীতিবিদদের কেউ।
জানা যায়, ১৯৪৭ সালে ১ সেপ্টেম্বর ‘তমদ্দুন মজলিস’ গঠিত হয়। ১৫ সেপ্টেম্বর সংগঠনটির নেতারা বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার প্রস্তাব গ্রহণ করেন। তমদ্দুন মজলিসের প্রথম আহ্বায়ক ছিলেন ড. নূরুল হক ভূঁইয়া। তিনি পূর্ব পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা করার দাবিতে বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনে যেমন সক্রিয় ছিলেন, তেমনই ১৯৬৬ সালের ছয় দফা আন্দোলন ও ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধেও সক্রিয় ছিলেন। ড. নূরুল হক ভূঁইয়া ১৯৭৩ সালে পাটের অগ্নিরোধক মিশ্রণ উৎপাদন প্রণালির তত্ত্ব আবিষ্কার করে প্রশংসিত হন। ১৯৯৮ সালের ২ এপ্রিল ঢাকার পিজি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন তিনি। পরে তাঁকে সোনারগাঁয়ের নিজ গ্রামে সমাহিত করা হয়।
সোনারগাঁ উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা ড. নূরুল হক ভূঁইয়া ছিলেন তমুদ্দিন মজলিসের প্রতিষ্ঠাকালীন সাংস্কৃতিক সম্পাদক। ভাষা দিবসে কোনো সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন, স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের কেউ তাঁর সমাধিস্থলে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাননি। তাঁর জীবন ও কর্ম নিয়েও কোনো আলোচনা সভা কিংবা দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেননি। বর্তমান প্রজন্মের কাছে তাঁর অবদান তুলে ধরতে কোনো ধরনের উদ্যোগই নেওয়া হয়নি।
উদীচী শিল্পী গোষ্ঠীর সোনারগাঁ শাখার সভাপতি শংকর প্রকাশ বলেন, ড. নূরুল হক ভূঁইয়া রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের প্রথম পর্বে অনন্য ভূমিকা রেখেছিলেন। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে তাঁকে স্মরণ না করার বিষয়টি খুবই দুঃখজনক।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সোনারগাঁ শাখার সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মামুন জানান, ড. নূরুল হক ভূঁইয়াকে বর্তমান প্রজন্মের কেউ চেনেন না। ইতিহাস হারিয়ে যাচ্ছে। তাঁকে নিয়ে প্রশাসনের স্মরণ সভা করা উচিত।
ইউএনও আসিফ আল জিনাতের ভাষ্য, কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের প্রথম আহ্বায়কের বিষয়টি তাঁর জানা ছিল না। ভবিষ্যতে তাঁর জন্য কিছু করা যায় কিনা, সে ব্যাপারে উদ্যোগ নেওয়া হবে।

