ফাইল ছবি
রমজান মাসে শহরজুড়ে একাধিক উন্নয়ন প্রকল্প চলমান থাকলেও যানজট নিয়ন্ত্রণে সফলতার স্বাক্ষর রেখেছে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসন ও ট্রাফিক বিভাগ।
ডিপ ড্রেন নির্মাণসহ বিভিন্ন সড়ক সংস্কার কাজের কারণে সাময়িক ভোগান্তির আশঙ্কা থাকলেও বাস্তবে তার প্রভাব খুব বেশি চোখে পড়েনি।
সোমবার (২২ ফেব্রুয়ারি) সরেজমিনে নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়া, দুই নম্বর রেলগেট, কালীরবাজার, টানবাজার, নিতাইগঞ্জসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলো ঘুরে এ দৃশ্য দেখা যায়।
এসময় সড়কে যানবাহনের চাপ থাকলেও দীর্ঘ যানজট দেখা যায়নি। বিশেষ করে অফিসগামী মানুষ ও ব্যবসায়ীরা তুলনামূলক স্বস্তিতে চলাচল করতে পেরেছেন।
এদিকে যানজট নিরসনে শুধু ট্রাফিক পুলিশের ওপর নির্ভর না করে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ট্রাফিক পুলিশের পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন, নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি এবং বিকেএমইএ–এর স্বেচ্ছাসেবকরাও মাঠে সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন।
সড়কের গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে তারা যানবাহন নিয়ন্ত্রণ, পথচারীদের নিরাপদ পারাপার এবং অনিয়ন্ত্রিত পার্কিং রোধে সহায়তা করছেন।
নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুন্সি জানান, রমজানকে কেন্দ্র করে আগেভাগেই যানজটপ্রবণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে। শহরের যে পয়েন্টগুলোতে সাধারণত বেশি যানজট সৃষ্টি হয়, সেখানে আমরা অতিরিক্ত জনবল নিয়োগ দিয়েছি। জেলা ট্রাফিক বিভাগের প্রায় ৭০ জন পুলিশের পাশাপাশি বিভিন্ন সংস্থার সহযোগিতায় আরও প্রায় ১৫০ জন স্বেচ্ছাসেবক মাঠে কাজ করছে।
তিনি আরও জানান, সড়ক সংস্কার চলমান থাকলেও কাজের সময়সূচি ও যানবাহন চলাচলের মধ্যে সমন্বয় রাখা হচ্ছে, যাতে সাধারণ মানুষ অপ্রয়োজনীয় ভোগান্তিতে না পড়েন। প্রয়োজনে বিকল্প সড়ক ব্যবহারের দিকনির্দেশনাও দেওয়া হচ্ছে।
নগরবাসীর অনেকেই এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তাদের মতে, উন্নয়ন কাজের মাঝেও যদি এমন ব্যবস্থাপনা বজায় থাকে, তাহলে রমজান মাসে শহরের সার্বিক চলাচল আরও স্বস্তিদায়ক হবে। সংশ্লিষ্টদের আশা, ঈদ পর্যন্ত এই সমন্বিত উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে নারায়ণগঞ্জবাসী বড় ধরনের যানজট ছাড়াই চলাচল করতে পারবেন।

