ফাইল ছবি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জের দুইটি আসনে প্রত্যাশিত ফল না পাওয়ায় কারণ অনুসন্ধানে নেমেছে বিএনপি। একসময় দলটির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই জেলায় ভোটের অঙ্ক ও রাজনৈতিক সমীকরণ দুটোই বদলে গেছে বলে মনে করছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
নারায়ণগঞ্জ শহর ও আশপাশের এলাকা নিয়ে গঠিত নারায়ণগঞ্জ-৪ ও নারায়ণগঞ্জ-৫ দুটি আসনই অতীতে বিএনপির প্রভাবশালী এলাকা হিসেবে পরিচিত ছিল। কিন্তু এবারের নির্বাচনে ফলাফল সে চিত্র ধরে রাখতে পারেনি দলটি।
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী না থাকায় জোটের প্রার্থী পরাজিত হয়েছেন। এখানে বিজয়ী হয়েছেন এনসিপি মনোনীত প্রার্থী আব্দুল্লাহ আলআমিন। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৬ হাজার ১৭১ ভোট। একই আসনে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের প্রার্থী মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী পেয়েছেন মত্র ৮০ হাজার ৬১৯ ভোট। ভোটের এই ব্যবধান বিএনপির জন্য বড় ধাক্কা হিসেবেই দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে শেষ পর্যন্ত জয় পেয়েছেন বিএনপির প্রার্থী আবুল কালাম। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ১৪ হাজার ৭৯৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী খেলাফত মজলিসের প্রার্থী এবিএম সিরাজুল মামুন পেয়েছেন ১ লাখ ১ হাজার ১৯৬ ভোট। অল্প ব্যবধানে জয় এলেও ভোটের চাপ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা স্পষ্ট করেছে যে, মাঠ আগের মতো একচেটিয়া নেই।
নির্বাচনের পরপরই নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ে শুরু হয়েছে আলোচনা। দলীয় সূত্রে জানা যায়, মাঠ পর্যায়ে সক্রিয় ও জনপ্রিয় নেতাদের সামনে আনাসহ একাধিক বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। বিএনপিকে এই অঞ্চলে সাংগঠনিকভাবে ঢেলে সাজানো হবে বলে জানা গেছে।
নারায়ণগঞ্জের ভোটাররা আগের মতো শুধু ঐতিহ্যগত দলের দিকে ঝুঁকে নেই। প্রার্থীদের গ্রহণযোগ্যতা, স্থানীয় ইস্যু ও সাংগঠনিক তৎপরতা এখন বড় ফ্যাক্টর হয়ে উঠছে। বিএনপির জন্য এটি যেমন সতর্কবার্তা, তেমনি ভবিষ্যৎ রাজনীতির প্রস্তুতিরও ইঙ্গিত।
দলীয় নেতাকর্মীরা বলছেন, এই ফলাফলকে ব্যর্থতা হিসেবে না দেখে শিক্ষা হিসেবে নিতে চান তারা। আগামী দিনের আন্দোলন ও নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণে নারায়ণগঞ্জের ভোটের হিসাব বড় ভূমিকা রাখবে।

