ফাইল ছবি
আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জ জেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনে কোনো ধরনের নিরাপত্তা শঙ্কা নেই বলে জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) তারেক আল মেহেদী। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত নির্বাচন কেন্দ্র করে কোনো রাজনৈতিক দল, প্রার্থী কিংবা সাধারণ ভোটারের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা নিয়ে কোনো উদ্বেগ বা আশঙ্কার কথা জানানো হয়নি।
সোমবার এক কথোপকথনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী জানান, নারায়ণগঞ্জ একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্প ও রাজনৈতিক জেলা হলেও বর্তমান পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে। নির্বাচনকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা দেখা দিলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে।
তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি সংসদীয় আসনে এখন পর্যন্ত নির্বাচনী পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থী ও নেতাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। তারা কেউই এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা জানাননি। সাধারণ জনগণের মধ্যেও ভোট নিয়ে আতঙ্ক বা উৎকণ্ঠা নেই।
তবে নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে জানান তিনি। তারেক আল মেহেদী বলেন, নির্বাচনকে ঘিরে সেনাবাহিনী, র্যাব, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), পুলিশ এবং অন্যান্য সহায়ক বাহিনী মাঠে থাকবে। সবাই সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করবে, যাতে ভোটাররা নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরও জানান, নারায়ণগঞ্জ জেলার সব ভোটকেন্দ্রকে নিরাপত্তার দিক বিবেচনায় তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। এগুলো হলো ঝুঁকিহীন কেন্দ্র, ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র এবং অধিক ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র। কেন্দ্রভেদে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও আলাদা করা হবে। অধিক ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য, আনসার, র্যাব ও প্রয়োজন অনুযায়ী সেনাবাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবে।
তিনি বলেন, ঝুঁকিহীন কেন্দ্রগুলোতেও কোনো ধরনের শিথিলতা রাখা হবে না। প্রতিটি কেন্দ্রে পর্যাপ্ত সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য থাকবে এবং সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো হবে। নির্বাচনের আগে, নির্বাচনকালীন সময় এবং ভোটগ্রহণ শেষে ফলাফল ঘোষণার আগ পর্যন্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।
নির্বাচনী প্রচারণা, মিছিল, সভা-সমাবেশ নিয়েও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক রয়েছে বলে জানান তিনি।
তারেক আল মেহেদী বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোকে শান্তিপূর্ণভাবে আইনের মধ্যে থেকে প্রচারণা চালানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কেউ আইন লঙ্ঘন করলে কিংবা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচন ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। গুজব, অপপ্রচার কিংবা উসকানিমূলক কোনো তথ্য ছড়ালে তাৎক্ষণিকভাবে তা শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভোটের পরিবেশ যাতে কোনোভাবেই বিঘ্নিত না হয়, সে বিষয়ে পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানান, ভোটারদের মধ্যে আস্থা তৈরি করাই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রধান লক্ষ্য। ভোটাররা যেন নিশ্চিন্তে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারেন, সে জন্য পুলিশ সদস্যদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি থানাকে আলাদা করে প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় রিজার্ভ ফোর্সও প্রস্তুত থাকবে।
তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, নারায়ণগঞ্জে এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচন শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হবে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের দায়িত্ব পালন করবে এবং জনগণের সহযোগিতায় একটি সুন্দর নির্বাচন উপহার দেওয়া সম্ভব হবে।
উল্লেখ্য, ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নারায়ণগঞ্জ জেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনে এবারের নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক গুরুত্ব থাকলেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকায় প্রশাসনও আত্মবিশ্বাসী অবস্থানে রয়েছে।

