ফাইল ছবি
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে এনসিপি-জামায়াত জোটের সমর্থিত প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল আমিনকে ঘিরে অনিশ্চয়তা দিন দিন ঘনীভূত হচ্ছে। জোটের ভেতরে আসন সমঝোতা নিয়ে টানাপোড়েনের কারণে শেষ পর্যন্ত তিনি প্রার্থী হিসেবে মাঠে থাকতে পারবেন কি না এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা চলছে।
জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে এনসিপির প্রার্থী হিসেবে সক্রিয় ছিলেন আব্দুল্লাহ আল আমিন। তিনি এলাকায় গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছিলেন এবং নির্বাচনী প্রস্তুতিও এগিয়ে নিচ্ছিলেন। পরবর্তীতে জামায়াতের সাথে এনসিপি জোটবদ্ধ হলে তাকে সমর্থন দেয় দলটি। তবে একই আসনে জোটের অপর শরিক ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী ইসমাইল সিরাজীও সক্রিয়ভাবে মাঠে রয়েছেন। এতে করে এই আসনে জোটের ভেতরেই প্রার্থী নিয়ে দ্বন্দ্ব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
রাজনৈতিক সূত্রে জানা যায়, জামায়াতে ইসলামী জোট শরিকদের মধ্যে এনসিপিকে দশটির বেশি আসন ছাড় দিতে রাজি নয় এমন গুঞ্জন ইতোমধ্যেই ছড়িয়ে পড়েছে। যদি এ সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়, তবে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনটি এনসিপির ঝুলিতে নাও থাকতে পারে। ফলে আব্দুল্লাহ আল আমিনের প্রার্থিতা নিয়ে তৈরি হয়েছে চরম অনিশ্চয়তা, যা তাকে দুশ্চিন্তায় ফেলেছে বলে দাবি স্থানীয় নেতাকর্মীদের।
এদিকে আসন সমঝোতা ইস্যুতে জামায়াত ও ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের মধ্যেও দূরত্ব তৈরি হয়েছে। ইসলামী আন্দোলন শুরু থেকেই কয়েকটি আসনে ছাড়ের দাবি জানিয়ে আসলেও জামায়াত তাতে পুরোপুরি সায় দিচ্ছে না। নারায়ণগঞ্জ জেলার দুটি আসনেই বর্তমানে জামায়াত সমর্থিত প্রার্থীরা সক্রিয় থাকলেও, শেষ মুহূর্তে রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে যেতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের ধারণা, জোটের বৃহত্তর স্বার্থ বিবেচনায় শেষ পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জের এই আসনগুলো ইসলামী আন্দোলনের ঝুলিতে চলে যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে এনসিপির প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল আমিনকে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে হতে পারে অথবা বিকল্প কোনো আসনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
এবিষয়ে আব্দুল্লাহ আল আমিন জানান, জোটের অভ্যান্তরে এখনও আলোচনা চলছে। তবে এবিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। এর আগ পর্যন্ত যে যার মত নানা রিপোর্ট করছে। আমি সিদ্ধান্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত এবিষয়ে মন্তব্য করতে চাই না।
তিনি আরও বলেন, আমি এ আসনে এনসিপির মনোনীত প্রার্থী। জামায়াতে ইসলামী ও খেলাফত মজলিসও আমাকে সমর্থন দিয়েছে। তবে জোটের এবং দলের যে সিদ্ধান্ত সেই সিদ্ধান্ত মেনেই আমরা কাজ করবো। মনোনয়ন প্রত্যাহারের দিন বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যাবে।

