মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু
নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু রূপগঞ্জে কৃষিজমি ভরাট, গ্যাস সংকট, জলাবদ্ধতা, শিল্পাঞ্চলের পরিবেশ দূষণ এবং নারায়ণগঞ্জের প্রশাসনিক মর্যাদা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জাতীয় সংসদে তুলে ধরেছেন।
বুধবার (২৪ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম বাজেট অধিবেশনে অংশ নিয়ে বক্তব্যকালে তিনি এসব কথা বলেন।
বক্তব্যের শুরুতে তিনি বলেন, বাংলাদেশের জিডিপির ৭ দশমিক ৫ শতাংশ অবদান রাখে নারায়ণগঞ্জ। এরপরেও নারায়ণগঞ্জকে বি ক্যাটাগরির জেলা করে রেখেছে। আমি চাই অতিশিঘ্রই নারায়ণগঞ্জকে এ ক্যাটাগরির জেলাতে পরিনত করা হোক। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনকে মেট্রোপলিটন সিটি করার দাবী জানাচ্ছি। নারায়ণগঞ্জ ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন। নারায়ণগঞ্জের ওপরে রপ্তানি নির্ভরশীল। ফতুল্লা স্টেডিয়ামটি বন্ধ হয়ে আছে। এটি শিঘ্রই চালু করার দাবী জানাচ্ছি।
রুপগঞ্জে কৃষিজমি ভরাটের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, রূপগঞ্জে বিভিন্ন অসৎ কোম্পানি বালি দিয়ে কৃষিজমি ভরাট করে ফেলছে। আমি আশা করবো ওদের বিরুদ্ধে যেন শাস্তিমূলক ব্যাবস্থা নেয়া হয়। কারণ রূপগঞ্জের মানুষ তাদের বাড়িঘরে থাকতে পারে না। তাদের কৃষিজমি ও বাড়িঘর বালু দিয়ে ভরে ফেলছে। আমি আশা করবো এদের যেন শাস্তির আওতায় আনা হয়।
গ্যাস সমস্যার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আমার রূপগঞ্জের মা বোনদের বাড়ির গ্যাসের লাইনগুলোকে বৈধতা দেয়ার দাবী জানাচ্ছি। আজকে এলপিজি গ্যাস বাজারে সরকারি রেট ১৩শ হলে এটা ২৪শ করে মানুষ কিনছে। এই ব্যাপারটা যেন একটু দেখা হয়।
রূপগঞ্জের শিল্পাঞ্চলের পরিবেশগত সমস্যা নিয়ে তিনি বলেন, রুপগঞ্জে ৭৪১টি ইন্ডাস্ট্রি আছে। অনেকগুলো জেলাতেও এতগুলো ইন্ডাস্ট্রি নেই। এগুলোর অনেকটিতেই ইটিপি প্ল্যান্ট নেই। আমি আশা করবো ইটিপির জন্য সরকার যেন তাদের মিনিমাম রেটে লোন দেয় যেন তারা ইটিপি বসাতে পারে।
জলাবদ্ধতার কারণ হিসেবে খাল দখলের বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের অনেক ইন্ডাস্ট্রি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে জলাবদ্ধতার কারণে। অনেক অসৎ ব্যাবসায়ীরা খাল দখল করে রেখেছে। আমি আশা করবো এই খালগুলো যেন খনন করে পুনরুদ্ধার করা হয়।
বাজেট প্রসঙ্গে দিপু ভূঁইয়া বলেন, এ বছরের বাজেটের জন্য সারা বাংলাদেশের মানুষ তাকিয়ে আছে। গত ১৭ বছর ধরে এই বাংলাদেশকে যেভাবে ঋণে জর্জরিত করে রেখেছে, আমরা দায়িত্ব নেয়ার পরেই মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ লেগে গেছে। এর মধ্যে তিন মাস ২৪ দিনের মধ্যে দেশনায়ক তারেক রহমান সাহসী বাজেট জাতির সামনে রেখেছেন। আমি তাকে ধন্যবাদ জানাই৷ যে বাজেট জনগণের বাজেট, মানুষের অধিকারের বাজেট। তিনি এই বাজেটে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যকে প্রাধান্য দিয়েছেন।
স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, স্বাস্থ্য ব্যাবস্থার যদি উন্নয়ন না হয় তাহলে এদেশের মানুষ চিকিৎসার জন্য বাইরে যায় এবং এর ফলে ডলার দেশ থেকে বাইরে চলে যায় এটা আটকানোর জন্য স্বাস্থ্য ব্যাবস্থার দিকে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে।
নিত্যপণ্যের বাজার পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশের বাজেট বলতে আমরা বুঝি নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বেড়ে যাবে। বাংলাদেশে এবারই প্রথম বাজেটের পরে বাজারে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বাড়েনি। ব্যাবসায়ীদের জন্য এই প্রথম বাজেট যেখানে দীর্ঘমেয়াদি প্রসেস আছে যেখানে বাইরের দেশ বিনিয়োগ করলে জানতে পারবে তাদের কত টাকা ট্যাক্স দেয়া লাগবে। এখানে ওয়ান স্টপ সার্ভিসের বিভিন্ন কোম্পানিগুলো গঠন করতে পারবে। এত সুন্দর বাজেট করায় আমি অর্থমন্ত্রী ও তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানাই।

