ফাইল ছবি
দেশে অনলাইন জুয়ার সাইটে মোবাইল ব্যাংকিং সার্ভিস (এমএফএস) ব্যবহার করে বিপুল পরিমাণ অর্থ লেনদেন ও টাকা পাচারের বিষয়ে সরকারের পদক্ষেপ জানতে জাতীয় সংসদে প্রশ্ন তুলেছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল আমিন।
বুধবার (২৪ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম বাজেট অধিবেশনে অংশ নিয়ে বক্তব্যকালে তিনি এসব কথা বলেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে তিনি অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীর কাছে জানতে চান, অনলাইন জুয়ার সাইটে এমএফএসের মাধ্যমে ব্যাপক অর্থ লেনদেন ও পাচার হচ্ছে। এ কার্যক্রম বন্ধে সরকারের পরিকল্পনা কী।
জবাবে অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, অনলাইন জুয়া প্রতিরোধে সরকার ২০২৬ সালের ১০ এপ্রিল সাইবার সিকিউরিটি আইন, ২০২৬ জারি করেছে। আইনের ২০ ধারায় অনলাইন জুয়াকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
মন্ত্রী জানান, সাইবার স্পেসে জুয়া খেলার উদ্দেশ্যে কোনো পোর্টাল, অ্যাপস বা ডিভাইস তৈরি কিংবা পরিচালনা করা, জুয়ায় অংশগ্রহণ করা, জুয়াকে উৎসাহ দেওয়া, বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে প্রচার করা অথবা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এর প্রসারে যুক্ত থাকা আইন অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ। এ অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড, এক কোটি টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, অনলাইন জুয়া ও ডিজিটাল হুন্ডির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রায় ৫৫ হাজার মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) হিসাবের লেনদেন বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) স্থগিত বা ফ্রিজ করেছে।
মন্ত্রী বলেন, সাইবার সুরক্ষা আইন জারির পর অনলাইন জুয়া সংক্রান্ত একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদন প্রস্তুত করে গত মে মাসে সিআইডির কাছে পাঠিয়েছে বিএফআইইউ। এর ভিত্তিতে সিআইডি ইতোমধ্যে মামলা দায়ের করেছে এবং তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। পাশাপাশি অনলাইন জুয়া সংশ্লিষ্ট আর্থিক লেনদেন পর্যবেক্ষণ ও গোয়েন্দা নজরদারিও অব্যাহত রয়েছে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নেওয়া পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ২০২৫ সালের ২৮ মে সকল মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের জন্য একটি নির্দেশনামূলক সার্কুলার জারি করা হয়। সেখানে অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িত মার্চেন্ট ও গ্রাহকদের কার্যক্রম নিয়মিত তদারকির আওতায় রাখতে বলা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া অনলাইন জুয়ার ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন কার্যক্রমও নিয়মিত পরিচালনা করা হচ্ছে বলে সংসদকে জানান মন্ত্রী।

