ফাইল ছবি
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে যেন আরেক দুর্ভোগের মুখোমুখি হতে হচ্ছে রোগী ও তাদের স্বজনদের। চারদিকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা চিকিৎসা বর্জ্য, দুর্গন্ধ আর অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ দেখে অনেকেই নাক চেপে চলাচল করছেন। ব্যবহৃত সিরিঞ্জ, রক্তমাখা তুলা ও গজ, ব্যান্ডেজ, স্যালাইনের ব্যাগ, গ্লাভস, ওষুধের বোতলসহ নানা ধরনের মেডিকেল বর্জ্যের স্তূপে খানপুরের ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের একাংশ যেন ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। এমন দৃশ্য শুধু রোগী ও স্বজনদের ভোগান্তিই বাড়াচ্ছে না, বরং সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও বাড়িয়ে তুলছে।
প্রতিদিন জেলার বিভিন্ন উপজেলা ছাড়াও আশপাশের এলাকা থেকে হাজারো মানুষ চিকিৎসার জন্য এ হাসপাতালে আসেন। কিন্তু হাসপাতালের একাংশের এমন নোংরা পরিবেশ দেখে অনেকেই বিস্ময় প্রকাশ করছেন। রোগীদের অভিযোগ, যেখানে সুস্থ হতে আসা, সেখানে উল্টো অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ তাদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করছে।
বুধবার (১ জুলাই) নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদের ফেসবুক পোস্টে হাসপাতালের এমন চিত্র প্রকাশের পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। পোস্টের সঙ্গে প্রকাশিত ছবিতে হাসপাতাল চত্বরে যত্রতত্র চিকিৎসা বর্জ্য পড়ে থাকতে দেখা যায়।
এর আগেও বিভিন্ন সময়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে হাসপাতালের বহির্বিভাগের পেছনের দেয়ালঘেরা স্থানে খোলা অবস্থায় চিকিৎসা বর্জ্য ফেলে রাখার বিষয়টি উঠে আসে। সেখানে ব্যবহৃত সিরিঞ্জ, রক্তমাখা গজ, ব্যান্ডেজ, স্যালাইন ও ব্লাড ব্যাগসহ বিভিন্ন সংক্রামক বর্জ্য পড়ে থাকায় রোগী, স্বজন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি হয়।
স্থানীয়দের মতে, চিকিৎসা বর্জ্য যথাযথভাবে পৃথকীকরণ, সংরক্ষণ ও অপসারণ না হলে হেপাটাইটিস-বি, হেপাটাইটিস-সি, যক্ষ্মাসহ বিভিন্ন সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়তে পারে। পাশাপাশি বৃষ্টির পানি জমে থাকলে এসব স্থানে এডিস মশার বংশবিস্তারও ঘটতে পারে, যা ডেঙ্গু পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। তাই হাসপাতালের চিকিৎসা বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে অনুসরণ করা জরুরি।
এর আগে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জায়গার সংকটের কথা উল্লেখ করে অস্থায়ীভাবে নির্দিষ্ট স্থানে বর্জ্য রাখার কথা জানিয়েছিল। তবে বর্তমানে বর্জ্য রাখার নির্ধারিত স্থান থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে তা না মেনে যত্রতত্র বর্জ্য ফেলে রাখার অভিযোগ উঠেছে।
এ বিষয়ে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. আবুল বাশার বলেন, হাসপাতালের বর্জ্য অপসারণের দায়িত্ব নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের। তারা নিয়মিতই বর্জ্য সরিয়ে নিয়ে যায়। তবে জনবল সংকটের কারণে কোনো কোনো সময় একদিন পরপর বর্জ্য অপসারণ করা হয়।
নির্ধারিত স্থান থাকা সত্ত্বেও কেন বর্জ্য ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রাখা হচ্ছে, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি প্রতিদিন রাউন্ড দিয়ে সবকিছু তদারকি করি। আজ যেতে পারিনি। কেন নির্দিষ্ট স্থানে বর্জ্য ফেলা হয়নি, সেটি খতিয়ে দেখা হবে। আগামীকাল সংশ্লিষ্ট সবাইকে ডেকে বিষয়টি নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়রা জানান, জেলার একমাত্র ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় এমন অব্যবস্থাপনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। দ্রুত আধুনিক মেডিকেল ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট নিশ্চিত করা না হলে হাসপাতালের রোগী, স্বাস্থ্যকর্মী এবং আশপাশের বাসিন্দাদের জন্য এটি বড় ধরনের জনস্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পরিণত হতে পারে।

