ফাইল ছবি
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার কাঁচপুর এলাকায় নির্মাণাধীন ঢাকা নগর আন্তঃজেলা প্রান্ত বাস টার্মিনাল ঘিরে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
রাজধানীর সায়েদাবাদ ও যাত্রাবাড়ী এলাকার বাসের চাপ কমানোর লক্ষ্য নিয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হলেও অনেকের মনে প্রশ্ন নতুন এই টার্মিনাল চালু হলে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে যানবাহনের চাপ আরও বাড়বে কি না।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কাঁচপুর দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সড়ক সংযোগস্থল। এখান দিয়ে প্রতিদিন চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, নোয়াখালী, কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, সিলেটসহ পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার হাজার হাজার যানবাহন চলাচল করে। ফলে এ এলাকায় একটি বড় আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল নির্মাণের বিষয়টি স্বাভাবিকভাবেই আলোচনায় এসেছে।
তবে পরিবহন সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রকল্পটির মূল উদ্দেশ্য মহাসড়কে চাপ বাড়ানো নয়, বরং রাজধানীর অভ্যন্তরে অপ্রয়োজনীয় বাস চলাচল কমিয়ে যানজট নিরসন করা। বর্তমানে দূরপাল্লার অধিকাংশ বাস ঢাকার ভেতরে প্রবেশ করে সায়েদাবাদ কিংবা অন্যান্য টার্মিনালে যেতে গিয়ে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি করে। কাঁচপুর টার্মিনাল চালু হলে এসব বাসের একটি বড় অংশ রাজধানীর ভেতরে না ঢুকেই যাত্রী ওঠানামা করতে পারবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কাঁচপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামীম শেখ বলেন, কাঁচপুর টার্মিনাল সরকারি পরিকল্পনার অংশ। এখানে শহরের যানজট কমানোর একটা পরিকল্পিত টার্মিনাল। এটা তৈরি হলে আরও সুন্দর হবে।
তিনি মনে করেন, আধুনিক পরিকল্পনার মাধ্যমে টার্মিনাল পরিচালিত হলে যানবাহন ব্যবস্থাপনা আরও শৃঙ্খলিত হবে এবং মহাসড়কে বিশৃঙ্খলা কমবে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের কেউ কেউ অবশ্য আশঙ্কা প্রকাশ করছেন, টার্মিনালকে কেন্দ্র করে কাঁচপুর এলাকায় যাত্রী ও যানবাহনের সংখ্যা বাড়তে পারে। তবে প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, টার্মিনালের ভেতরে পর্যাপ্ত পার্কিং, প্রবেশ ও বাহির হওয়ার পৃথক ব্যবস্থা এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা হলে মহাসড়কে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা কম।
কাঁচপুরে টার্মিনাল নির্মাণের প্রকৃত সুফল নির্ভর করবে এর পরিচালনা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার ওপর। যদি বাসগুলো নির্ধারিত টার্মিনাল ব্যবহার করে এবং মহাসড়কে এলোমেলোভাবে দাঁড়ানো বন্ধ হয়, তাহলে যানজট কমবে। অন্যদিকে পরিকল্পনার ঘাটতি থাকলে ব্যস্ত এই করিডোরে নতুন চাপও তৈরি হতে পারে।

