বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬

|

আষাঢ় ১৬ ১৪৩৩

Advertisement
Narayanganj Post :: নারায়ণগঞ্জ পোস্ট

ত্বকী হত্যা মামলার প্রতিবেদন দাখিলে আবারও সময় চাইল র‍্যাব

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

প্রকাশিত: ২১:৪৯, ১ জুলাই ২০২৬

ত্বকী হত্যা মামলার প্রতিবেদন দাখিলে আবারও সময় চাইল র‍্যাব

ফাইল ছবি

নারায়ণগঞ্জের মেধাবী শিক্ষার্থী তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন এখনো দাখিল করতে পারেনি তদন্তকারী সংস্থা র‍্যাব। এ জন্য আদালতের কাছে আবারও সময়ের আবেদন করা হলে তা মঞ্জুর করে আগামী ১২ আগস্ট পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। এ নিয়ে মামলাটিতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময় ১০৫তম বারের মতো বাড়ানো হলো।

বুধবার (১ জুলাই) দুপুরে নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নুরুল হুদা চৌধুরীর আদালতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা র‍্যাবের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দীপক চন্দ্র মজুমদার লিখিতভাবে সময় বৃদ্ধির আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আরও ৩০ কার্যদিবস সময় দেন।

এর আগে গত ১ জুন আদালত তদন্তকারী কর্মকর্তাকে ১ জুলাইয়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। এরও আগে ২৬ এপ্রিল সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে সময় চেয়ে আবেদন করা হলে আদালত তা মঞ্জুর করেছিলেন।

এদিন আদালতে হাজিরা দেন আসামি জামসেদ, ইউসুফ হোসেন, কাজল হাওলাদার, সাফায়েত হোসেন, ইয়ার মোহাম্মদ পারভেজ ও রিফাত বিন ওসমান। জামিনে মুক্তির পর পলাতক রয়েছেন সুলতান শওকত ভ্রমর, সালেহ রহমান ও আবদুল্লাহ আল মামুন। এছাড়া তায়েব উদ্দিনের পক্ষে তার আইনজীবী সময় বৃদ্ধির আবেদন করলে আদালত শেষবারের মতো সেই আবেদনও মঞ্জুর করেন।

মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী প্রদীপ ঘোষ বলেন, গত ২ জুন তদন্তকারী কর্মকর্তা সালেহ রহমানকে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি চেয়ে আদালতে আবেদন করেছিলেন। এদিন ওই আবেদনের শুনানি থাকলেও আসামি পলাতক এবং তার বিরুদ্ধে জারি করা গ্রেফতারি পরোয়ানা কার্যকর না হওয়ায় আদালত জিজ্ঞাসাবাদের সুযোগ নেই বলে আদেশ দেন। একই সঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ৩০ কার্যদিবস সময় বৃদ্ধির আবেদন মঞ্জুর করা হয়।

নারায়ণগঞ্জ আদালত পুলিশের পরিদর্শক আবদুস সামাদ বলেন, তদন্তকারী কর্মকর্তা আরও এক মাস সময় চেয়ে আবেদন করেছিলেন। আদালত আবেদন মঞ্জুর করে আগামী ১২ আগস্ট পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করেছেন। তিনি আরও জানান, সালেহ রহমান পলাতক থাকায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদনটি আদালত অপেক্ষমাণ রেখেছেন।

২০১৩ সালের ৬ মার্চ নগরের শায়েস্তা খাঁ সড়কের বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী। দুই দিন পর, ৮ মার্চ শীতলক্ষ্যা নদীর কুমুদিনী খাল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় সুলতান শওকত ভ্রমর ও ইউসুফ হোসেন লিটনসহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করে র‍্যাব-১১। তাদের মধ্যে সুলতান শওকত ভ্রমর ও ইউসুফ হোসেন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। জবানবন্দিতে তারা জানান, আজমেরী ওসমানের নেতৃত্বে ত্বকীকে অপহরণের পর হত্যা করা হয়েছিল।

২০১৪ সালের ৫ মার্চ তদন্তকারী সংস্থা র‍্যাব এক সংবাদ সম্মেলনে জানায়, ওসমান পরিবারের নির্দেশে তাদের টর্চার সেলে আজমেরী ওসমানের নেতৃত্বে ১১ জন মিলে ত্বকীকে হত্যা করেছে। একই সঙ্গে তারা জানিয়েছিল, শিগগিরই অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করা হবে। তবে সেই অভিযোগপত্র আজও আদালতে জমা দেওয়া হয়নি। ত্বকী হত্যাকাণ্ডের পর থেকে নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোট প্রতি মাসের ৮ তারিখে ঘাতকদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে মোমশিখা প্রজ্বালন কর্মসূচি পালন করে আসছে।