বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬

|

আষাঢ় ১৬ ১৪৩৩

Advertisement
Narayanganj Post :: নারায়ণগঞ্জ পোস্ট

বন্দরে ছিনতাই চক্রের ৭ সদস্য গ্রেপ্তার

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

প্রকাশিত: ২০:৪৮, ১ জুলাই ২০২৬

বন্দরে ছিনতাই চক্রের ৭ সদস্য গ্রেপ্তার

ফাইল ছবি

বন্দরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ওমিটিভিতে পরিচয়ের সূত্র ধরে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে নির্জন স্থানে নিয়ে ছিনতাই এবং মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে একটি চক্রের সাত সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে বন্দর থানা পুলিশ। 

মঙ্গলবার (৩০ জুন) রাতে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

ভুক্তভোগী সাইদুল ইসলাম (২৩) ঢাকার ভাষানটেক এলাকার বাসিন্দা এবং ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের (আইইউবি) বিবিএ বিভাগের সপ্তম সেমিস্টারের শিক্ষার্থী। 

ঘটনার বিবরণ মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ওমিটিভিতে ‘আরফা তানিয়া’ (২২) নামে এক তরুণীর সঙ্গে পরিচয় হয় সাইদুলের। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত ১৮ মে তানিয়ার ডাকে বন্দর উপজেলার কদমরসুল কলেজ এলাকায় যান সাইদুল। সেখানে পৌঁছালে তাকে একটি ব্যাটারিচালিত রিকশায় করে নির্জন স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ওত পেতে থাকা চক্রের সদস্যরা দেশীয় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে সাইদুলের কাছ থেকে:নগদ ২০ হাজার ৮০০ টাকা, আনুমানিক ১ লাখ ৪১ হাজার টাকা মূল্যের একটি আইফোন ১৬ প্রো ম্যাক্স ছিনিয়ে নেয়।এছাড়া তার বিকাশ অ্যাকাউন্ট থেকে বিভিন্ন মাধ্যমে টাকা উত্তোলন ও স্থানাস্তর করা হয়। একপর্যায়ে অভিযুক্তরা তার পরিবারের কাছে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। মুক্তিপণ দিতে অস্বীকৃতি জানালে সাইদুলকে মারধর করে নবীগঞ্জ ঘাট এলাকায় ফেলে রেখে পালিয়ে যায় তারা। পরে পরিবার ও স্থানীয়দের সহায়তায় সাইদুল উদ্ধার হন এবং অভিযুক্তদের পরিচয় শনাক্ত করে বন্দর থানায় মামলা দায়ের করেন।

পুলিশি অভিযান ও গ্রেপ্তারগত ২৪ জুন ভুক্তভোগী সাইদুল ইসলাম বন্দর থানায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করলে এসআই সাব্বির আহমেদের নেতৃত্বে তদন্তে নামে পুলিশ। তদন্তের ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার রাতে দুই দফায় সফল অভিযান চালানো হয়। 

গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা একরামপুর পৌরসভা এলাকার কাওসার (২০), মো. রবিন (২২), আরিফ ও রাব্বি কদমরসুল মাঠপাড়া এলাকারনি কাজী (২২), সাকিব (২৫) ও শান্ত (২৩)।

বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, "অভিযোগ পাওয়ার পরপরই আমরা তথ্যপ্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার করে আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করি। এরপর একরামপুর ও কদমরসুল এলাকায় অভিযান চালিয়ে চক্রের সাত সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে তাদের সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। এই চক্রের সাথে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।"