মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

|

আষাঢ় ১৫ ১৪৩৩

Advertisement
Narayanganj Post :: নারায়ণগঞ্জ পোস্ট

নারায়ণগঞ্জের হারাচ্ছে ফেরি করে লেসফিতা বিক্রি

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

প্রকাশিত: ১২:১৩, ৩০ জুন ২০২৬

নারায়ণগঞ্জের হারাচ্ছে ফেরি করে লেসফিতা বিক্রি

ফাইল ছবি

একসময় নারায়ণগঞ্জ শহর ও আশপাশের এলাকায় পরিচিত এক দৃশ্য ছিল ফেরি করে লেসফিতা বিক্রি। কাঁধে ব্যাগ কিংবা হাতে কাঠের বাক্স নিয়ে মহল্লা থেকে মহল্লায় ঘুরে ঘুরে বিভিন্ন রঙের লেস, ফিতা, সুতা, চুলের ব্যান্ড, ক্লিপ ও সেলাই সামগ্রী বিক্রি করতেন ফেরিওয়ালারা। সময়ের পরিবর্তনে সেই দৃশ্য এখন প্রায় হারিয়ে যেতে বসেছে।

নগরীর চাষাঢ়া, দেওভোগ, পাইকপাড়া, ফতুল্লা, শিবুমার্কেট, কুতুবপুর কিংবা বন্দর এলাকার আবাসিক মহল্লাগুলোতে একসময় নিয়মিত দেখা মিলত এসব ফেরিওয়ালার। গৃহিণীরা ঘরের সামনে দাঁড়িয়ে প্রয়োজনীয় লেসফিতা, চুলের ফিতা কিংবা শিশুদের সাজসজ্জার সামগ্রী কিনতেন তাদের কাছ থেকে। অনেকের কাছে এটি ছিল স্বল্প পুঁজিতে জীবিকা নির্বাহের একটি সহজ মাধ্যম।

স্থানীয় প্রবীণরা জানান, নব্বইয়ের দশক থেকে শুরু করে আরও কয়েক বছর আগেও নারায়ণগঞ্জে লেসফিতা বিক্রেতাদের বেশ কদর ছিল। বিশেষ করে ঈদ, বিয়ে কিংবা বিভিন্ন উৎসবের আগে তাদের বিক্রি বেড়ে যেত। নারায়ণগঞ্জের গার্মেন্টস ও হোসিয়ারি শিল্পের সঙ্গে জড়িত অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীও এসব পণ্যের ওপর নির্ভরশীল ছিলেন।

তবে বর্তমানে পরিস্থিতি বদলে গেছে। অলিগলিতে গড়ে ওঠা অসংখ্য কসমেটিকস ও টেইলার্স দোকান, অনলাইন শপিং এবং বড় মার্কেটের সহজলভ্যতার কারণে ফেরিওয়ালাদের ক্রেতা কমে গেছে। পাশাপাশি পণ্যের দাম বৃদ্ধি, পরিবহন ব্যয় এবং নগরজীবনের পরিবর্তনের কারণে অনেকেই এ পেশা ছেড়ে অন্য কাজে চলে গেছেন।

শহরের খানপুর এলাকার বাসিন্দা রহিমা বেগম বলেন, আগে বাসার সামনে এসেই সব ধরনের ফিতা-লেস পাওয়া যেত। এখন আর তেমন দেখা যায় না। প্রয়োজন হলে দোকানে যেতে হয়।

ফতুল্লার এক প্রাক্তন ফেরিওয়ালা হালিম মিয়া জানান, একসময় প্রতিদিন ভালো আয় হতো। এখন মানুষ অনলাইনে বা দোকান থেকে কিনে। সারাদিন ঘুরেও আগের মতো বিক্রি হয় না। তাই অনেকেই পেশা বদল করেছেন।

সময়ের স্রোতে হারিয়ে যেতে বসা এই পেশা শুধু একটি ব্যবসা নয়, বরং নারায়ণগঞ্জের পুরনো নগরজীবনের এক টুকরো স্মৃতি। আজও কোনো কোনো গলিতে লেসফিতা বিক্রেতার হাঁক শোনা গেলে অনেকেরই মনে পড়ে যায় সেই পুরোনো দিনের কথা।