বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬

|

আষাঢ় ১৭ ১৪৩৩

Advertisement
Narayanganj Post :: নারায়ণগঞ্জ পোস্ট

শিল্প কারখানায় সচেতনতা বাড়লে প্রাণ ফিরবে শীতলক্ষ্যা-বুড়িগঙ্গায়

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

প্রকাশিত: ১১:৪০, ২ জুলাই ২০২৬

আপডেট: ১১:৪৩, ২ জুলাই ২০২৬

শিল্প কারখানায় সচেতনতা বাড়লে প্রাণ ফিরবে শীতলক্ষ্যা-বুড়িগঙ্গায়

ফাইল ছবি

শিল্পায়নের বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে দেশের গুরুত্বপূর্ণ নদীগুলো দূষণের চাপে দিন দিন সংকুচিত হয়ে পড়ছে। বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা ও রাজধানী সংলগ্ন বুড়িগঙ্গা নদী দীর্ঘদিন ধরে শিল্পকারখানার অপরিশোধিত বর্জ্যের কারণে পরিবেশগত হুমকির মুখে রয়েছে।

পরিবেশবিদদের মতে, শুধু প্রশাসনিক অভিযান নয়, শিল্প মালিকদের সচেতনতা ও আইন মেনে চলার মানসিকতা তৈরি হলে নদীগুলো আবারও প্রাণ ফিরে পেতে পারে।

নদী দূষণ রোধে পরিবেশ অধিদপ্তর নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করলেও এখনও অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান পরিবেশ আইন যথাযথভাবে অনুসরণ করছে না। ফলে নদী ও খালগুলোতে প্রতিনিয়ত বর্জ্য পড়ছে এবং জলজ পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এইচ এম রাসেদ বলেন, বায়ুদূষণ, অবৈধ ইটভাটা, পরিবেশগত ছাড়পত্রবিহীন শিল্পপ্রতিষ্ঠান এবং পরিবেশ আইন অমান্যকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন অভিযানে কয়েক লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে এবং অনেক প্রতিষ্ঠানকে সতর্ক করা হয়েছে।

শিল্পপ্রতিষ্ঠানে বর্জ্য পরিশোধন ব্যবস্থা বা ইটিপি (এফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট) ছাড়া কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়ে এইচ এম রাসেদ বলেন, আইন অনুযায়ী ইটিপি ছাড়া কোনো শিল্পকারখানা পরিচালনার সুযোগ নেই। যেসব ডাইং ও শিল্পপ্রতিষ্ঠান বর্জ্য পরিশোধন ছাড়া সরাসরি শীতলক্ষ্যা নদী বা খালে ফেলছে, তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত নজরদারি চলছে। পরিবেশ অধিদপ্তর, জেলা প্রশাসন এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সংস্থার সমন্বয়ে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, নদী ও পরিবেশ রক্ষায় সব শিল্পপ্রতিষ্ঠানে কার্যকর ইটিপি নিশ্চিত করা, অবৈধ বর্জ্য সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা এবং পরিবেশ আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণই এখন প্রধান লক্ষ্য। ইতোমধ্যে শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে ইটিপিবিহীন কয়েকটি কারখানার গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শুধু জরিমানা বা অভিযান দিয়ে দূষণ পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব নয়। শিল্প মালিকদের পরিবেশবান্ধব উৎপাদন ব্যবস্থার প্রতি আগ্রহী হতে হবে এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় জনগণ, পরিবেশবাদী সংগঠন এবং প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

এদিকে ইটিপি স্থাপনের জন্য স্বল্প সুদে ঋণ চেয়ে নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু বলেছেন, নারায়ণগঞ্জে যত শিল্প কারখানা আছে দেশের অনেকগুলো জেলা মিলিয়েও এত শিল্পপ্রতিষ্ঠান নেই। কিন্তু অনেক কারখানায় এখনও ইটিপি (এফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট) নেই। পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে সরকার যেন স্বল্পসুদে ঋণের ব্যবস্থা করে, যাতে শিল্প মালিকরা ইটিপি স্থাপন করতে পারেন।

এদিকে বিশেষজ্ঞদের মতে, শীতলক্ষ্যা ও বুড়িগঙ্গা শুধু নদী নয়, এ অঞ্চলের অর্থনীতি, পরিবেশ ও মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই শিল্পায়ন ও পরিবেশের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে পারলে একসময় দূষণে জর্জরিত এই নদীগুলো আবারও স্বাভাবিক প্রবাহ ও জীববৈচিত্র্য ফিরে পাবে।