অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল আমিন
নারায়ণগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) মহানগরের উদ্যোগে “জুলাই স্মৃতি বক্তৃতামালা (সিরিজ-১)” অনুষ্ঠিত হয়েছে। “রাজনৈতিক সংস্কৃতির রূপান্তর: তারুণ্য, সুশাসন ও নতুন সম্ভাবনা” শীর্ষক এ অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক সংস্কার, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং তরুণদের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করা হয়।
রোববার (৫ জুলাই) নগরীর আলী আহমদ চুনকা নগর মিলনায়তনে এনসিপি নারায়ণগঞ্জ মহানগরের পাঠচক্র ও শিক্ষা সেলের আয়োজনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
নারায়ণগঞ্জ মহানগর এনসিপির আহ্বায়ক শওকত আলীর সভাপতিত্বে এবং পাঠচক্র ও শিক্ষা সেলের সম্পাদক ও সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল খায়েরের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল আমিন।
এ সময় আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন দ্য ডেইলি ওয়াদা’র সম্পাদক ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রেস সচিব শফিকুল আলম এবং লেখক ও বুদ্ধিজীবী রক মনু।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল আমিন বলেন, রক্ত দিয়ে স্বৈরাচারকে বিদায় করা সম্ভব হয়েছে, কিন্তু প্রকৃত পরিবর্তন তখনই আসবে যখন রাজনীতি, সমাজ ও ব্যক্তিজীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন নিশ্চিত করা যাবে।
তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো একটি ন্যায়ভিত্তিক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলা। শুধুমাত্র ক্ষমতার পালাবদল নয়, রাজনৈতিক সংস্কৃতিরও পরিবর্তন প্রয়োজন।
সংসদ সদস্য আরও বলেন, চাঁদাবাজি, লুটপাট ও সুবিধাবাদী রাজনীতির চর্চা থেকে বেরিয়ে এসে শহীদ ও আহতদের আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষা করতে হবে। এজন্য প্রত্যেক নাগরিককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সততা, দায়িত্ববোধ ও নৈতিকতার পরিচয় দিতে হবে।
তিনি তরুণদের উদ্দেশে বলেন, একটি মেধাভিত্তিক, সুশাসননির্ভর ও মানবিক বাংলাদেশ গঠনে তারুণ্যের শক্তিকে ইতিবাচকভাবে কাজে লাগাতে হবে। জাতীয় উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় তরুণদের সক্রিয় ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অনুষ্ঠানে বক্তারা রাজনৈতিক সংস্কৃতির ইতিবাচক পরিবর্তন, গণতান্ত্রিক চর্চা, জবাবদিহিতা এবং নতুন প্রজন্মের দায়িত্বশীল অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এসময় এনসিপির নেতাকর্মী, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, শিক্ষার্থী ও তরুণরা উপস্থিত ছিলেন।

