সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬

|

আষাঢ় ২১ ১৪৩৩

Advertisement
Narayanganj Post :: নারায়ণগঞ্জ পোস্ট

প্রশংসায় ভাসছেন জাকির খান

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

প্রকাশিত: ১৫:৩০, ৬ জুলাই ২০২৬

প্রশংসায় ভাসছেন জাকির খান

ফাইল ছবি

নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগ এলাকায় অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী জামিয়া আরাবিয়া দারুল উলুম মাদ্রাসায় শিক্ষককে অব্যাহতি দেওয়াকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট উত্তেজনাকর পরিস্থিতি নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে প্রশংসা কুড়িয়েছেন বিএনপির নেতা ও নারায়ণগঞ্জের আলোচিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব জাকির খান।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পাঁচ আগষ্টের পরে জাকির খানকে ঘিরে নেতিবাচক প্রচারণা চললেও এঘটনায় ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছেন তিনি। বিএনপি নেতাকর্মীরা বলছেন বিরোধীরা নানান রকমের প্রচারণা চালালেও সংকটকালীন সময়ে জাকির খানের মত নেতাদেরই প্রয়োজন বিএনপির। 

এর আগে গত রোববার দুপুর থেকে শুরু হওয়া এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দিনভর মাদ্রাসা প্রাঙ্গণ ও আশপাশের এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করে। একপর্যায়ে পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছে যে মাদ্রাসার মোহতামিম (প্রিন্সিপাল) মাওলানা আবু তাহের জিহাদী, পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক হেদায়েতুল্লাহ খোকনসহ কয়েকজনকে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণের ভেতরে অবরুদ্ধ অবস্থায় থাকতে হয়।

স্থানীয় সূত্র ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মাদ্রাসার শিক্ষক এবং জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের নেতা মুফতি হারুন অর রশিদকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে স্থানীয় এলাকাবাসীর একটি অংশও তাদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে।

বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে মুফতি হারুন অর রশিদ সুনামের সঙ্গে শিক্ষকতা করে আসছিলেন। হঠাৎ করে তাকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করায় তারা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। এ বিষয়ে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের কাছে ব্যাখ্যা চাইলেও সন্তোষজনক জবাব না পাওয়ায় আন্দোলন আরও জোরালো হয়ে ওঠে।

পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হতে থাকলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পুলিশ ও র‌্যাব সদস্যরা মাদ্রাসা এবং আশপাশের এলাকায় অবস্থান নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। এ সময় বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী ও স্থানীয় মানুষ মাদ্রাসার সামনে অবস্থান নেন। কিছু সময়ের জন্য দেওভোগ এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যান চলাচলও ব্যাহত হয়।

এদিকে বিকেলের দিকে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন বিএনপি নেতা জাকির খান। তার সঙ্গে ছিলেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের নেতা মাওলানা ফেরদৌস এবং মুফতি হারুন অর রশিদ। সেখানে পৌঁছে জাকির খান প্রথমে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানান। পরে তিনি স্থানীয় আলেম-উলামা, শিক্ষার্থী প্রতিনিধি এবং মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সদস্যদের নিয়ে একাধিক দফায় বৈঠকে বসেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কয়েক ঘণ্টাব্যাপী আলোচনা ও সমঝোতা প্রচেষ্টার মাধ্যমে সংকট নিরসনের পথ খুঁজে বের করার চেষ্টা করা হয়। বৈঠকে উভয় পক্ষ নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরেন। জাকির খান পরিস্থিতি শান্ত রাখতে এবং মাদ্রাসার স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেন।

দীর্ঘ আলোচনার পর বৈঠক থেকে মাদ্রাসার মোহতামিম মাওলানা আবু তাহের জিহাদীকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি এবং মুফতি হারুন অর রশিদকে পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়। এ ঘোষণার পর আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং ধীরে ধীরে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির অবসান ঘটে।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত কয়েকজন শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, জাকির খান সময়মতো হস্তক্ষেপ না করলে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করতে পারত। আলোচনার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ সমাধান বের করে আনার কারণে তারা তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

স্থানীয় আলেম-উলামারাও মনে করেন, সংঘাত ও অনিশ্চয়তার মধ্যে সংলাপের মাধ্যমে সমাধান খুঁজে বের করা ইতিবাচক দৃষ্টান্ত। তারা আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে মাদ্রাসার অভ্যন্তরীণ বিষয়গুলো আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা হবে এবং শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে পরিচালিত হবে।

এ ঘটনার পর মাদ্রাসা এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছেন। শিক্ষার্থীরা তাদের নিয়মিত কার্যক্রমে ফিরে গেছেন এবং স্থানীয়দের মধ্যেও স্বাভাবিক পরিবেশ বিরাজ করছে।