ফাইল ছবি
নারায়ণগঞ্জ শহরের অন্যতম উন্মুক্ত খেলার মাঠ জিমখানাকে ঘিরে দখল, মাদক সরবরাহ এবং অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠেছে। মাঠটি দখলমুক্ত করে সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত রাখার পাশাপাশি মাদকমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে জিমখানা মাঠের বিভিন্ন অংশ নানা ব্যক্তি ও সংগঠনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। মাঠের ভেতরে ও আশপাশে বিভিন্ন নামে স্থাপনা গড়ে ওঠায় সাধারণ মানুষের খেলাধুলা ও অবাধ চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। একই সঙ্গে মাঠসংলগ্ন ওয়াসার ভাঙা দেয়াল ব্যবহার করে একটি চক্র নিয়মিত মাদক সরবরাহ করছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
মাঠের পাশে বসবাসকারী মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, একসময় জিমখানা মাঠ ছিল এলাকার ছেলেমেয়েদের খেলাধুলার প্রধান জায়গা। এখন মাঠের বিভিন্ন অংশে নানা স্থাপনা আর নিয়ন্ত্রণের কারণে সাধারণ মানুষ আগের মতো ব্যবহার করতে পারে না। সন্ধ্যার পর অনেক অপরিচিত লোকজনের আনাগোনা দেখা যায়।
স্থানীয় বাসিন্দা শিউলী বেগম বলেন, আমরা সন্তানদের খেলতে পাঠাতে ভয় পাই। মাঠের পাশের ভাঙা দেয়াল দিয়ে বিভিন্ন সময় সন্দেহজনক লোকজন যাতায়াত করে। প্রশাসনের উচিত বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা।
স্থানীয়দের দাবি, মাঠের ভেতরে বিভিন্ন নামে পরিচালিত ক্লাবগুলোর বৈধতা ও কার্যক্রমও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তাদের মতে, ক্রীড়া উন্নয়নের নামে মাঠের অংশবিশেষ ব্যবহার করা হলেও সাধারণ মানুষ এর সুফল পাচ্ছে না। বরং উন্মুক্ত স্থান সংকুচিত হয়ে পড়ছে।
দেওভোগ এলাকার বাসিন্দা আব্দুল মান্নান অভিযোগ করে বলেন, মাঠের একটি অংশ দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালীদের নিয়ন্ত্রণে। অথচ এই মাঠটি শহরের মানুষের জন্য উন্মুক্ত থাকার কথা। দখলমুক্ত করে শিশু-কিশোরদের খেলাধুলার সুযোগ ফিরিয়ে দিতে হবে।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নূর কুতুবুল আলম বলেন, জিমখানা মাঠ ও এর আশপাশের এলাকায় দখল বা অব্যবস্থাপনার বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মাঠটি সাধারণ মানুষের ব্যবহারের উপযোগী রাখতে আমরা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করব।
তিনি আরও বলেন, ওয়াসার ভাঙা দেয়ালসহ অবকাঠামোগত যেসব সমস্যা রয়েছে, সেগুলোও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) তারেক আল মেহেদী বলেন, জিমখানা মাঠ কিংবা আশপাশের এলাকায় মাদকসংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে আমরা অবগত আছি। তবে মাঠের অভ্যন্তরের বিষয় নিয়ে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। সুনির্দিষ্ট তথ্য পেলে তাৎক্ষণিক অভিযান পরিচালনা করা হবে। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হবে।
অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক আহমেদুর রহমান তনু বলেন, মাঠকে কেন্দ্র করে যেসব অভিযোগ উঠেছে, সেগুলো তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা উচিত। কোথাও অনিয়ম বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থাকলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে জিমখানা মাঠের ক্রীড়াবান্ধব পরিবেশও অক্ষুণ্ন রাখতে হবে।
এলাকাবাসীর দাবি, জিমখানা মাঠকে অবিলম্বে দখলমুক্ত করে সেখানে নিয়মিত খেলাধুলা, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম পরিচালনার পরিবেশ ফিরিয়ে আনা হোক। পাশাপাশি মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার, ওয়াসার ভাঙা দেয়াল দ্রুত মেরামত এবং মাঠ এলাকায় সার্বক্ষণিক নজরদারির ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। তাদের মতে, দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে শহরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই উন্মুক্ত স্থানটি ধীরে ধীরে সাধারণ মানুষের হাতছাড়া হয়ে যাবে।

