রোববার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

|

কার্তিক ৯ ১৪৩৩

Advertisement
Narayanganj Post :: নারায়ণগঞ্জ পোস্ট

ময়লার ভাগাড়ে বসে খাবার খেলেন তনু, চোখে আঙুল দিয়ে দেখালেন দায়িত্বশীলদের অবহেলা

আল আমীন অর্ণব

প্রকাশিত: ১৮:০১, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

ময়লার ভাগাড়ে বসে খাবার খেলেন তনু, চোখে আঙুল দিয়ে দেখালেন দায়িত্বশীলদের অবহেলা

নারায়ণগঞ্জ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে দুর্গন্ধময় পরিবেশে বসে খাবার খেয়ে প্রতিবাদ

নারায়ণগঞ্জ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে ময়লার ভাগাড়। চারদিকে দুর্গন্ধ, স্বাভাবিকভাবে চলাচল করাও কঠিন। এমন পরিবেশেই প্রতিদিন পড়াশোনা করছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। নগরের পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থার এই বেহাল চিত্র এবং দায়িত্বশীলদের অবহেলা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিতে এবার ময়লার ভাগাড়ের পাশেই বসে দুপুরের খাবার খেলেন উই আর ভলেন্টিয়ার্সের প্রতিষ্ঠাতা ও নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক আহমেদুর রহমান তনু। তাঁর এই অভিনব প্রতিবাদে যোগ দেন সংগঠনটির অন্য সদস্যরাও।

রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে দুর্গন্ধময় পরিবেশে বসে খাবার খেয়ে প্রতিবাদ জানান তাঁরা। একই সঙ্গে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ময়লা-আবর্জনা ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশের চিত্র তুলে ধরে জেলা পরিষদের প্রশাসক, জেলা প্রশাসন, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এবং নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তনু।

তনু বলেন, নারায়ণগঞ্জ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির। বিদ্যালয়ের পাশের ময়লার ভাগাড়ের দুরবস্থা তাঁর নজরে আনা জরুরি। এখানে এমন দুর্গন্ধ ছড়ায় যে মানুষ স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলা করতে পারেন না, স্বস্তিতে শ্বাস নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়ে। অথচ এই পরিবেশের মধ্যেই কোমলমতি শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন পড়াশোনা করতে হচ্ছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।

শুধু সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনেই নয়, নগরের বিভিন্ন স্থানেও একই ধরনের পরিস্থিতি দেখা যায় বলে উল্লেখ করেন তনু। তিনি কালিরবাজার, করিম মার্কেট ও লিংক রোডের নাজুক অবস্থার কথা তুলে ধরে বলেন, এসব এলাকায় প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষের চলাচল। নগরের গুরুত্বপূর্ণ ও জনবহুল স্থানে এমন নোংরা পরিবেশ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। যাঁদের ওপর পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করার দায়িত্ব, তাঁদের কার্যকর ভূমিকা কোথায়, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।

তনুর অভিযোগ, ময়লা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্বে থাকা সংস্থাগুলোর তৎপরতা চোখে পড়ছে না। শহরের বিভিন্ন স্থানে ময়লা পড়ে থাকলেও তা অপসারণে কার্যকর উদ্যোগের অভাব রয়েছে। ফলে সাধারণ মানুষকে প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বাজার ও ব্যস্ত সড়কের আশপাশে এমন পরিস্থিতি জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য উদ্বেগজনক।

নগরের পরিবেশগত সমস্যা সমাধানে দায়িত্বশীলদের সরেজমিনে পরিদর্শনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, চেয়ারে বসে তদারকি করে মানুষের প্রকৃত দুর্ভোগ বোঝা সম্ভব নয়। মাঠপর্যায়ে এসে পরিস্থিতি দেখতে হবে এবং দায়িত্বপ্রাপ্তদের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। শহরের দৃশ্যমান সমস্যাগুলোই যদি সমাধান করা না যায়, তাহলে অদৃশ্য অপরাধ, চুরি, ছিনতাই ও কিশোর গ্যাংয়ের মতো সমস্যাগুলো কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে?

ময়লার ভাগাড়টির ব্যবস্থাপনা ও পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ দাবি করেন তনু। তিনি জেলা পরিষদের প্রশাসক, জেলা প্রশাসন, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, নগরের পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। দায়িত্বশীলরা নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করলেই নগরবাসীর দুর্ভোগ কমানো সম্ভব।

জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে একটি সুন্দর, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য শহরের যে স্বপ্ন মানুষ দেখেছিল, তার বাস্তব প্রতিফলন চান বলেও জানান তনু। তাঁর মতে, শুধু আশ্বাস কিংবা দাপ্তরিক তদারকিতে নগরের পরিবেশ বদলাবে না, প্রয়োজন দৃশ্যমান পদক্ষেপ। জনবহুল এলাকা থেকে ময়লা অপসারণ, নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা এবং দায়িত্ব পালনে অবহেলা বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।

ময়লার ভাগাড়ের পাশে বসে খাবার খাওয়ার মধ্য দিয়ে তনু যেন দায়িত্বশীলদের সামনে নগরের পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থার বাস্তব চিত্র তুলে ধরলেন। তাঁর এই প্রতিবাদ নগরবাসীর দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ ও দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাগুলোর ভূমিকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। এখন দেখার বিষয়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই প্রতিবাদ থেকে শিক্ষা নিয়ে কত দ্রুত সমস্যাগুলোর স্থায়ী সমাধানে এগিয়ে আসে।