ফাইল ছবি
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে বিনা মূল্যে চক্ষু চিকিৎসা শিবির অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত উপজেলার যাত্রামুড়ায় হাজী মো. এখলাছ উদ্দিন ভূঁইয়া উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে এ শিবির অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রায় ৫০০ রোগীর চোখ পরীক্ষা করা হয়। তাঁদের মধ্যে প্রায় ১০০ জনের ছানি অস্ত্রোপচার করা হবে।
লায়ন্স ক্লাব অব ঢাকা ভিক্টরির উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে রোগীদের বিনা মূল্যে ছানি অস্ত্রোপচার, চোখের লেন্স সংযোজন ও ওষুধ দেওয়ার পাশাপাশি যাতায়াত খরচও বহন করা হবে। আর্থিক অসচ্ছল মানুষের জন্য চক্ষু চিকিৎসা সহজলভ্য করা এবং দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে আনতে সহায়তা করাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লায়ন্স জেলা ৩১৫ এ১, বাংলাদেশের জেলা গভর্নর লায়ন নওজাত সারওয়াত ইসলাম পিএমজেএফ। বিশেষ অতিথি ছিলেন সাবেক জেলা গভর্নর লায়ন এ কে এম গোলাম ফারুক এমজেএফ এবং প্রথম ভাইস জেলা গভর্নর ডা. আবুল হোসেন খন্দকার। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দ্বিতীয় ভাইস জেলা গভর্নর লায়ন সাবিনা সিদ্দিকুয়া এমজেএফ। এ ছাড়া লায়ন্স ক্লাব অব ঢাকা ভিক্টরির প্রেসিডেন্ট লায়ন মীর আবদুল আলিমসহ ক্লাবের অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
কর্মসূচির সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন ক্যাম্প চেয়ারম্যান লায়ন মোজাম্মেল হক ভূঁইয়া। তিনি বলেন, “চোখ মানুষের অমূল্য সম্পদ। অথচ অর্থের অভাবে অনেক দরিদ্র মানুষ চোখের চিকিৎসা করাতে পারেন না। ছানির কারণে ধীরে ধীরে তাঁদের দৃষ্টিশক্তি কমে যায়, অনেকে একসময় পৃথিবীর আলো দেখা থেকেও বঞ্চিত হন। আমরা চাই, অর্থের অভাবে কোনো মানুষ যেন চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত না থাকেন। অসহায় মানুষের চোখের চিকিৎসার ব্যবস্থা করে তাঁদের দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দিতে পারলে তাঁরা আবার পৃথিবীর আলো-বাতাস, প্রিয়জনের মুখ এবং চারপাশের সৌন্দর্য দেখতে পারবেন। মানুষের মুখে হাসি ফোটানো ও তাদের পাশে দাঁড়ানোই আমাদের এ উদ্যোগের প্রধান উদ্দেশ্য। ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা করি।”
এ ব্যাপারে লায়ন মীর আবদুল আলিম জানান, দিনব্যাপী এ চক্ষু শিবিরে প্রায় ৫০০ রোগীর চোখ পরীক্ষা করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে প্রায় ১০০ জনকে ছানি অস্ত্রোপচারের জন্য নির্বাচিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। নির্বাচিত রোগীদের অস্ত্রোপচার, লেন্স সংযোজন, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও যাতায়াতের খরচ সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে বহন করা হবে। এর ফলে আর্থিক সংকটের কারণে দীর্ঘদিন ধরে চোখের চিকিৎসা করাতে না পারা মানুষ উপকৃত হবেন।
তিনি আরও বলেন, মানুষের সেবার মধ্য দিয়েই মানবিকতার প্রকৃত প্রকাশ ঘটে। সমাজের অসহায় ও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং তাঁদের সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনযাপনের সুযোগ করে দেওয়ার লক্ষ্যেই এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় পর্যায়ে বিনা মূল্যে এ ধরনের চক্ষু চিকিৎসা কার্যক্রম সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। বিশেষ করে আর্থিক অসচ্ছল রোগীদের জন্য এ উদ্যোগ দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাওয়ার নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে।

