শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

|

কার্তিক ৭ ১৪৩৩

Advertisement
Narayanganj Post :: নারায়ণগঞ্জ পোস্ট

গ্রামের একমাত্র মাদ্রাসা পুড়ে ছাই, অনিশ্চিত বোর্ড পরিক্ষা

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

প্রকাশিত: ২৩:৪৪, ২৩ অক্টোবর ২০২৬

গ্রামের একমাত্র মাদ্রাসা পুড়ে ছাই, অনিশ্চিত বোর্ড পরিক্ষা

প্রতীকী ছবি

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার কালাপাহাড়ি ইউনিয়নের একমাত্র মাদ্রাসা ‘ইসলাহুল উম্মাহ মহিলা মাদ্রাসা’ রাতের আঁধারে আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে আসন্ন বোর্ড পরীক্ষায় অংশগ্রহণ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে শতাধিক শিক্ষার্থীর।

মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত বুধবার (২১ অক্টোবর) রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে মাদ্রাসার টিনশেড ভবনে হঠাৎ আগুন লাগে। সে সময় বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী ঘুমিয়ে ছিল। আগুনের ভয়াবহতা দেখে তাদের ঘুম ভেঙে যায়। পরে তড়িঘড়ি করে সবাই বের হতে পারলেও মূল্যবান সব জিনিসপত্র পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এতে ৩৫ থেকে ৪০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ।

এ বিষয়ে মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা শামসুল হক বলেন, ‘ঘটনার দিন আড়াইহাজারের বিষনন্দী এলাকায় একটি মাহফিলে ছিলাম। তখন ফেসবুকে এলাকার একটি ঘটনা দেখতে পেয়ে আমার চাচাতো ভাইকে ফোন দিই। সে আমাকে জানায়, আপনার মাদ্রাসা পুড়ে গেছে। এখানে কোনো কিছু অবশিষ্ট নেই।’

মুহতামিম জানান, ‘১০ বছর ধরে মাদ্রাসাটি পরিচালিত হয়ে আসছে। বাংলাদেশ কওমি বোর্ড ও আঞ্চলিক বোর্ডে এর ফলাফল অত্যন্ত ভালো। এমন সময়ে এ ধরনের ঘটনা কোনোভাবেই কাম্য নয়।’

ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ওই সময় বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী ঘুমিয়ে ছিল। পরে আগুন লাগার বিষয়টি টের পেয়ে তারা দ্রুত বের হয়ে যায়। আমাদের মাদ্রাসার একটি ফান্ড ছিল। এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের বেতন, পরীক্ষার ফি এবং শিক্ষার্থীদের মূল্যবান অনেক জিনিসপত্র, যেগুলো শিক্ষিকাদের কাছে গচ্ছিত রাখা ছিল, সেগুলো সব পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সামনে আমাদের বোর্ড পরীক্ষা। এই সময়ের মধ্যে যদি মাদ্রাসাটি পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা না যায়, তাহলে অনেক শিক্ষার্থীর পরীক্ষা অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। তাই আড়াইহাজারের এমপি মহোদয়সহ সমাজের বিত্তবানদের মাদ্রাসাটি পুনঃপ্রতিষ্ঠায় এগিয়ে আসার অনুরোধ জানাচ্ছি।’

এ বিষয়ে আড়াইহাজার থানার ওসি মোহাম্মদ সবজেল হোসেন বলেন, ‘মাদ্রাসায় অগ্নিসংযোগের কোনো ঘটনা আমার জানা নেই। এ বিষয়ে কিছু জানি না। আমি গতকাল সারাদিনই সেখানে ছিলাম। আমাকে কেউ লিখিত, মৌখিক বা ফোনেও জানায়নি।’

কালাপাহাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এ কে এম ফাইজুল হক ডালিম বলেন, ‘শারীরিকভাবে খুবই অসুস্থ। গতকালই ঘটনাটি শুনেছি। আমি কিছুটা সুস্থ হলে সরাসরি সেখানে যাব এবং এলাকার মানুষের সঙ্গে আলোচনা করে কিছু একটা করার চেষ্টা করব। এ ছাড়া মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ আমাকে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানিয়ে একটি দরখাস্ত দিলে কীভাবে মাদ্রাসাটি আবার পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা যায়, সে বিষয়ে একটি ব্যবস্থা নেব।’