বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬

|

কার্তিক ৬ ১৪৩৩

Advertisement
Narayanganj Post :: নারায়ণগঞ্জ পোস্ট

নারায়ণগঞ্জ খাদ্য গুদাম সাইলোতে ভাড়া নিয়ে পরিবহন শ্রমিক-ঠিকাদারদের বিরোধ, খাদ্য সরবরাহ বন্ধ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

প্রকাশিত: ২০:৫৪, ২২ অক্টোবর ২০২৬

নারায়ণগঞ্জ খাদ্য গুদাম সাইলোতে ভাড়া নিয়ে পরিবহন শ্রমিক-ঠিকাদারদের বিরোধ, খাদ্য সরবরাহ বন্ধ

ফাইল ছবি

খাদ্যশস্য পরিবহনের ভাড়া নিয়ে ঠিকাদার ও পরিবহন শ্রমিকদের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়ায় গত পাঁচদিন ধরে নারায়ণগঞ্জ সাইলো খাদ্য গুদাম থেকে চাল-গমসহ সরকারী খাদ্যশস্য পরিবহন বন্ধ রয়েছে। এতে সরকারি খাদ্য সরবরাহ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

জানা গেছে, জ্বালানি ও পরিবহন পরিচালনার ব্যয় বৃদ্ধির কারণে খাদ্যশস্য পরিবহনের ভাড়া বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন শ্রমিকেরা। তবে সরকারি দরপত্রে নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে অতিরিক্ত অর্থ দিতে রাজি নন ঠিকাদাররা। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে পরিবহন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেলে গত পাঁচ দিন ধরে সাইলো থেকে খাদ্যশস্য সরবরাহ কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।

পরিবহন শ্রমিকদের দাবি, জ্বালানি ও গাড়ি পরিচালনার অন্যান্য ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বর্তমান ভাড়ায় পণ্য পরিবহন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই তাঁরা ভাড়া সমন্বয়ের দাবি জানিয়েছেন। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত পরিবহন কাজে অংশ নিতে অনীহা প্রকাশ করছেন তাঁরা।

বাংলাদেশ আন্তজেলা ট্রাক-কাভার্ডভ্যান ও মিনি ট্রাক চালক শ্রমিক ইউনিয়নের সাইলো শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক জাহিদ হাসান লিপু বলেন, “জ্বালানি ও পরিবহন পরিচালনার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বর্তমান ভাড়ায় গাড়ি চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। আমরা যৌক্তিকভাবে ভাড়া সমন্বয়ের দাবি জানিয়েছি। আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত এ সমস্যার সমাধান চাই। আমরা চাই, শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি মেনে নিয়ে সাইলো থেকে খাদ্যশস্য পরিবহন স্বাভাবিক করা হোক।”

অন্যদিকে ঠিকাদারদের বক্তব্য, সরকারি দরপত্রে নির্ধারিত দর ও বাজেটের বাইরে অতিরিক্ত ভাড়া দেওয়া তাঁদের পক্ষে সম্ভব নয়। এ অবস্থায় দুই পক্ষের বিরোধের কারণে খাদ্যশস্য পরিবহন বন্ধ রয়েছে।

কেন্দ্রীয় খাদ্য সরবরাহ ঠিকাদার সমিতির সভাপতি ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. আব্দুল হাই রাজু বলেন, “একটি কুচক্রী মহল পরিবহন শ্রমিকদের উসকানি দিয়ে সরকারকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলতে এ ধরনের কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে বলে আমরা মনে করছি। গত পাঁচ দিন ধরে সাইলো থেকে চাল-গমসহ জরুরি খাদ্যপণ্য পরিবহন বন্ধ রয়েছে। এতে সরকারি খাদ্য সরবরাহ কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “সাইলো ও বিশ্ব খাদ্য গুদাম সরকারের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। এখান থেকে খাদ্যশস্য সরবরাহ বন্ধ রাখা কোনোভাবেই কাম্য নয়। আমরা মনে করি, অসৎ উদ্দেশ্যে একটি মহল এ পরিস্থিতি সৃষ্টি করে জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট কার্যক্রম ব্যাহত করার চেষ্টা করছে। তাই বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং খাদ্যশস্য পরিবহন স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।”

এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ সাইলো অধীক্ষক মো. রিয়াজুল আলমকে ফোন করা হলে তিনি সাংবাদিকদের তার কার্যালয়ে এসে বক্তব্য নিতে বলেন। পরে তার কার্যালয়ের সামনে গিয়ে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। এক পর্যায়ে ফোন রিসিভ করে তিনি ব্যস্ততা দেখিয়ে ফোন কেটে দেন।

এ বিষয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. শাহ আলম বলেন, “পরিবহন শ্রমিকদের সরবরাহ কার্যক্রম এখনো বন্ধ আছে। তবে ঠিকাদাররা বাইরে থেকে পরিবহন এনে সরবরাহ কার্যক্রম চালু রেখেছে। তাদের দাবি, তারা তাদের এজেন্টের মাধ্যমে গাড়ি দিবে। অন্যদিকে ঠিকাদারদের মতামত, বাইরে স্বস্তা ভাড়ায় গাড়ি পেলে এজেন্টের কাছ থেকে কেন নেবে? বাইরে থেকে অন্য গাড়ি স্বাভাবিকভাবেই ঢুকতে পারছে, কেউ বাধা দিচ্ছে না। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে।”