ফাইল ছবি
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহবুব আলমকে ঘিরে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। সম্প্রতি তার পক্ষে এক ব্যক্তির বক্তব্য প্রদানকে কেন্দ্র করে যেমন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে, তেমনি ওসির অতীত কর্মকাণ্ড ও রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলে তার দ্রুত অপসারণ দাবি করেছেন জেলা যুবশক্তির আহ্বায়ক জাহিদুল হক।
শনিবার শিবু মার্কেট এলাকার রুবেল হোসেন নামে এক ব্যক্তি সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেন, ওসি মাহবুব আলম মাদক ব্যবসায়ী ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নেওয়ায় তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। তবে এ বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিতর্ক দেখা দেয়। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, ওসির ভালো-মন্দের ‘সার্টিফিকেট’ দেওয়ার এখতিয়ার রুবেলের কতটুকু। একই সঙ্গে রুবেল হোসেনের বিরুদ্ধেও অভিযোগ এনে তার বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন স্থানীয়রা।
অন্যদিকে, জেলা যুবশক্তির আহ্বায়ক জাহিদুল হক নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে ওসির অতীত ভূমিকা তুলে ধরে তার পরিবর্তনের দাবি জানান। পোস্টে জাহিদুল হক লেখেন, আলোর গতির চেয়ে দ্রুত নিজের ভোল পাল্টে ফেলেন। কখনও সে মুজিবের মাজা লীগার থেকেও বড় লীগার হয়ে শির নত করে, কখনও সে ক্যান্ডিডেট থেকে বিশাল কনফিডেন্ট নিয়ে নৌকার প্রচারণা চালায়। কখনও সে ভূমিখেকোর রূপে নিজেকে আবির্ভূত করে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালের আন্দোলন চলাকালে ছাত্র-জনতার ওপর গুলি ও শারীরিক নির্যাতনের সঙ্গে ওসি মাহবুব আলম জড়িত ছিলেন।
তাছাড়া, সম্প্রতি ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতি শহিদুল ইসলাম টিটুকে কমিউনিটি পুলিশের ‘আগামী সভাপতি’ হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার একটি ভিডিও ক্লিপ ওসির ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টিও পোস্টে উল্লেখ করা হয়। এসব ঘটনার প্রেক্ষাপটে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল আমিনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ফতুল্লা মডেল থানা থেকে ওসি মাহবুব আলমকে অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন জাহিদুল হক।

