ফাইল ছবি
রাজনীতির কঠিন সমীকরণে কিছু মুখ থাকেন, যাঁরা সুদিনের ক্ষমতার ভাগ বসাতে আসেন না; বরং দুর্দিনের উত্তাল রাজপথে বুক চিতিয়ে দাঁড়ান। নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদল নেতা রফিকুল ইসলাম রফিক ঠিক তেমনি এক ত্যাগী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। ছাত্রদল থেকে শুরু করে যুবদলের দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় দলের প্রতিটি ক্রান্তিলগ্নে যিনি ছিলেন সম্মুখসারির যোদ্ধা।
বিগত ১৭ বছরের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায়, হরতাল, রাজপথ অবরোধ কিংবা বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার আদালতের হাজিরা- কোনো কর্মসূচীতেই রফিকের উপস্থিতি শিথিল ছিল না। একবার বেগম জিয়ার গাড়িবহরের সাথে থাকার অপরাধে গ্রেফতার হয়ে সহ্য করতে হয় টানা ২৬ দিনের ভয়াবহ রিমান্ড নির্যাতন। নির্যাতন আর নিপীড়ন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, নিজের কন্যাসন্তানের পরীক্ষার মতো স্পর্শকাতর সময়েও তিনি পাশে থাকতে পারেননি কেবল কারাবরণের কারণে।
নারায়ণগঞ্জের স্থানীয় কর্মসূচি থেকে শুরু করে ঢাকার রাজপথ- দলপাগল এই নেতার ওপর নেমে এসেছে বারবার হামলা, গ্রেফতার ও রিমান্ডের খড়্গ। এতকিছুর পরও জিয়া পরিবারের নীতি ও আদর্শের প্রশ্নে তিনি কখনো আপস করেননি, পিছু হটেননি এতটুকু।
তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও দলীয় তৃণমূল কর্মীদের মতে, রফিকদের মতো নিবেদিতপ্রাণ নেতাকর্মীরাই মূলত দলের আসল সম্পদ ও শক্তি। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, ক্রান্তিকালে জীবনের সবকিছু বাজি রেখে যারা রাজপথ আগলে রাখেন, দল সুদিনে এলে বা মূল্যায়ন পর্ব শুরু হলে প্রায়শই তারা ঢাকা পড়ে যান সুবিধাভোগী আর চাটুকারদের ভিড়ে।
তৃণমূল নেতাকর্মীদের দাবি, রফিকুল ইসলাম রফিকের মতো ত্যাগী, পরীক্ষিত ও নির্যাতিত নেতাদের যথাযোগ্য মর্যাদা ও পদে মূল্যায়ন করা না হলে দলীয় ত্যাগী কর্মীদের মনোবল ভেঙে পড়বে। দুর্দিনের এই সিপাহসালারদের সুদিনেও যথাযথ মূল্যায়ন করা দলের সাংগঠনিক ভিত্তি শক্ত করার জন্যই জরুরি।
আসন্ন জেলা যুবদলের কমিটিতে রফিককে সর্বোচ্চ মূল্যায়নের দাবি করেছেন নেতাকর্মীরা।

