ফাইল ছবি
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে মাদকের টাকা না পেয়ে পারুল ডাক্তার নামের এক গৃহবধূকে পাশবিক নির্যাতন চালিয়েছে তার ঐ স্বামী। নির্যাতিত ওই গৃহবধূকে মুমূর্ষ অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমছে ভর্তি করা হয়েছে। সোমবার রাতে উপজেলার গোলাকান্দাইল ৫ নং ক্যানেল এলাকায় ঘটে এই ঘটনা।
নির্যাতিত গৃহবধূ পারুল আক্তার গোলাকান্দাইল ৫ নং ক্যানেল এলাকার মৃত খালেক ব্যাপারীর মেয়ে।
গৃহবধূ পারুল আক্তার জানান, গত প্রায় ১৮ বছর আগে পার্শ্ববর্তী আড়াইহাজার উপজেলার বালিয়াপাড়া গাবতলী এলাকার মতিমিয়ার ছেলে আমজাদ হোসেন রাজুর সঙ্গে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর তাদের সংসারে মেহেরুন্নেসাসহ চার মেয়ে সন্তান হয়। কয়েক বছর ধরেই স্বামী হোসেন রাজু মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন। গৃহবধূ পারুল আক্তার ফুটপাতে সবজি বিক্রি করে কোনরকম সংসার চালিয়ে আসছেন। বড় মেয়ে মেরুন্নেসাকে বিয়ে দিলেও যৌতুকের টাকা দিতে না পারায় মেয়ের জামাই তাড়িয়ে দেয়। বর্তমানে অনেক কষ্টে তাদের সংসার চলছে। এদিকে মাদকাসক্ত স্বামী মাদকের টাকার জন্য সময় নানাভাবে নির্যাতন চালিয়ে আসছে।
প্রতিদিনের মতো সোমবারও পারুলের কাছে মাদকের টাকা দাবি করে। টাকা না দেওয়ায় তাকে মধ্যযুগীয় কায়দায় সমস্ত শরীরে আঘাত করে। এক পর্যায়ে পরিবারেরও লোকজন তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।
নির্যাতিত পারুল আক্তারের মা আলেয়া বেগম কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, মাদকাসক্ত মেয়ের জামাইসহ মেয়ে পারুল আক্তার নাতনিদের নিয়ে আমার কাছেই থাকে। কয়েকদিন পর পর এ ধরনের নির্যাতন চালায় যা আমি সহ্য করতে পারি না। আমরা শান্তি চাই।
রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার রাজু আহমেদ বলেন, আজকে এই সমাজে মাদক একটি মরণব্যাধি। যেই পরিবারে মাদকাসক্ত রয়েছি সেই পরিবার ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। পারুল আক্তার কে যেভাবে মারা হয়েছে তা সহ্য করার মত নয়। মধ্যযুগীয় কায়দায় থাকে নির্যাতন করা হয়েছে। আমরা হাসপাতালে ভর্তি দিয়েছি এবং তার চিকিৎসা চলছে।
এ বিষয়ে রুপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এএইচএম সালাউদ্দিন বলেন, এ ধরনের ঘটনার একটি অভিযোগ পেয়েছি। মাদকাসক্ত স্বামীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

