ফাইল ছবি
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে রাবেয়া খাতুন (৪০) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় সারোয়ার জাহান সাগর (৩৪) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের জানায়, ধর্ষণের পর রাবেয়াকে হত্যা করার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন তিনি।
রোববার (১১ অক্টোবর) এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার সারোয়ার জাহান সাগর (৩৪) চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল থানার নাচোল এলাকার আবদুর রহিমের ছেলে। তিনি রূপগঞ্জে রাজমিস্ত্রির শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। এ ঘটনায় তাঁর ব্যবহৃত একটি টি-শার্ট ও লুঙ্গি উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গত ৫ অক্টোবর দুপুরে রূপগঞ্জের জলসিঁড়ি আবাসন প্রকল্পের ১২ নম্বর সেক্টরের লেকপাড়ের ঝোপের মধ্যে এক নারীর বিবস্ত্র মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। প্রথমে তাঁর পরিচয় জানা না গেলেও পরে তাঁকে রাবেয়া খাতুন হিসেবে শনাক্ত করেন পরিবারের সদস্যরা।
নিহত রাবেয়া ভোলা সদর থানার চর রমেশ এলাকার বাসিন্দা। তাঁর স্বামী শামসুদ্দিন। তিনি রূপগঞ্জের নাওড়া গ্রামে ভাড়া থাকতেন এবং জলসিঁড়ি আবাসন প্রকল্পের ১১ নম্বর সেক্টরের একটি বাসায় রান্নার কাজ করতেন।
পুলিশ জানায়, গত ৪ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটের দিকে কাজ শেষে পায়ে হেঁটে বাসায় ফেরার কথা ছিল রাবেয়ার। কিন্তু তিনি আর বাসায় ফেরেননি। পরদিন লেকপাড়ের ঝোপের মধ্যে তাঁর মরদেহ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে বাদী হয়ে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে রূপগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করেন। ৬ অক্টোবর দায়ের করা মামলাটিতে দণ্ডবিধির ৩০২, ২০১ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়।
ঘটনাটি তদন্তে পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমানের নির্দেশনায় এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ‘গ’ সার্কেলের তত্ত্বাবধানে মাঠে নামে রূপগঞ্জ থানা পুলিশ। ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে সন্দেহভাজনকে শনাক্ত করার পর গত ৮ অক্টোবর সারোয়ার জাহান সাগরকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায় প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাঁকে আদালতে পাঠানো হলে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়। রিমান্ড শেষে আদালতে হাজির করা হলে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
তদন্তসংশ্লিষ্ট পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন কাজ শেষে একা বাড়ি ফেরার সময় রাবেয়াকে অনুসরণ করেন সাগর। নির্জন স্থানে তাঁকে একা পেয়ে আঘাত করে দুর্বল করার পর রাস্তার পাশের ঝোপে নিয়ে ধর্ষণ ও হত্যা করেন বলে জবানবন্দিতে উঠে এসেছে।

