সোমবার, ২২ জুলাই ২০২৪

|

শ্রাবণ ৬ ১৪৩১

Advertisement
Narayanganj Post :: নারায়ণগঞ্জ পোস্ট

রূপগঞ্জে হাসেম ফুড কারখানায় নিহত ৫৪ শ্রমিকের পরিবারকে আর্থিক অনুদান 

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

প্রকাশিত: ১৮:৫৪, ৮ জুলাই ২০২৪

রূপগঞ্জে হাসেম ফুড কারখানায় নিহত ৫৪ শ্রমিকের পরিবারকে আর্থিক অনুদান 

ফাইল ছবি

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার কর্ণগোপ এলাকায় অবস্থিত সজীব গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান হাসেম ফুড লিমিটেড কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে ৫৪ জন শ্রমিক-কর্মচারী নিহতের ঘটনায় তিন বছর পূর্ণ হলো। 

সোমবার (০৮ জুলাই) দুপুরে প্রতি বছরের ন্যায় এবারো মালিকপক্ষের আয়োজনে নিহতদের বিদেহি আত্মার শান্তি কামনায় এ মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এসময় নিহতদের প্রত্যেক পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা করে অনুদান প্রদান করা হয়। নিহতের স্বরণে দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। 

দোয়া মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন, হাসেম ফুড লিমিটেড কারখানার উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক তারেক ইব্রাহীম, তৌসিব ইব্রাহীম, জেনারেল ম্যানেজার রবিউল ইসলাম, এজিএম ক্যাপ্টেন মামুনুর রশিদসহ কারখানা কর্তৃপক্ষসহ নিহতদের স্বজনরা। 

হাসেম ফুড কারখানার এজিএম ক্যাপ্টেন মামুনুর রশিদ বলেন, শ্রমিকরা আমাদের সন্তানের মতো। এই দিনটি আসলে আমাদের অনেক কষ্ট হয়। এই দিনে আমরা দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করে থাকি। ঘটনার পর থেকেই নিহত শ্রমিকদের বাড়িতে খাদ্য সামগ্রী পাঠানো, স্বজনদের খোজখবর নেয়া, আর্থিক ভাবে, নিহতদের পরিবারের সদস্যদের চাকুরি দিয়ে সহযোগীতা করা অব্যাহত রয়েছে। তিন বছর পুর্তি উপলক্ষ্যে নিহতদের প্রত্যেক পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা করে অনুদান দেয়া হয়েছে। 

জানা গেছে, ২০২১ সালের ৮ জুলাই সজীব গ্রুপের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান হাসেম ফুড কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। অগ্নিকান্ডের ঘটনায় ৫৪ জন শ্রমিক নিহত হন। এছাড়া আরো প্রায় অর্ধশতাধিক শ্রমিক আহত হন। ফায়ার সার্ভিসের ১৮টি ইউনিট ২৯ ঘন্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। ৯ জুলাই দুপুরে পোড়া লাশ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা। এ ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে আসে। সারাদেশে স্তবদ্ধতার তৈরি হয়। এ ঘটনায় নিহতদের প্রত্যেক পরিবারকে সরকারী ভাবে দুই লাখ ও আহতদের ৫০ হাজার টাকা করে ক্ষতিপূরন দেয়া হয়। 

এ ঘটনায় তৎকালীন ভুলতা পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক নাজিম উদ্দিন বাদী হয়ে কারখানার মালিক আবুল হাসেমসহ আট জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে আসামি করে রূপগঞ্জ থানায় মামলা করেন। সে মামলায় গ্রেপ্তার হন সজীব গ্রুপের চেয়ারম্যান আবুল হাসেমসহ তার চার ছেলে। পরর্বতীতে ২০২৩ সালে আদালত অভিযোগপত্র দাখিল করে তদন্তকারী সংস্থাটি। তবে, মামলা থেকে বাদ দেয়া হয় আবুল হাসেমসহ তার ছেলেদের।