রোববার, ১৪ এপ্রিল ২০২৪

|

চৈত্র ৩০ ১৪৩০

Advertisement
Narayanganj Post :: নারায়ণগঞ্জ পোস্ট

সিদ্ধিরগঞ্জে গরু চুরি, অভিযুক্তদের আটকের পর ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ 

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

প্রকাশিত: ১৮:২৯, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

সিদ্ধিরগঞ্জে গরু চুরি, অভিযুক্তদের আটকের পর ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ 

ফাইল ছবি

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে এক গরু ব্যবসায়ীর গরু চুরি করে বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী আক্তার হোসেন বাদী হয়ে থানায় অভিযোগ করার পর ৩ জনকে আটক করেও ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। 

অভিযুক্তরা হলেন, মিজমিজি পাগলাবাড়ি এলাকার বাসিন্দা মৃত সুন্দর আলীর ছেলে শরিফ আহম্মেদ, একই এলাকার মোহর চানের ছেলে বাবু ওরফে মোহর বাবু, রনি, সাইদুল, জনি, মাংস বিক্রেতা স্বপন, জামায়াতে ইসলামী নেতা সামাদ মুন্সির ছেলে আবু সুফিয়ান।

জানা গেছে, (২৫ ফেব্রুয়ারি) মিজমিজি পাগলাবাড়ি এলাকার একটি চক্র গরুটি চুরি করে তাদেরই গ্রুপের এক সদস্যের কাছে বিক্রি করেন। পরে গরুর মালিক খোঁজ নিয়ে চোরদের চিন্তিত করে থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করান। এরপর তদন্তের ভার পাওয়া সিদ্ধিরগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শওকত জামিল অভিযুক্তদের মধ্যকার ৩ জনকে আটক করে থানায় নিয়ে যান। একপর্যায়ে দেনদরবারের মাধ্যমে অর্থের বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠে। 

স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাতে জানা গিয়েছে, রবিবার রাতে গরুটি চুরির পর সিন্ডিকেট সদস্য মাংস ব্যবসায়ী স্বপনের কাছে বিক্রি করে দেন বাকি চোররা। পরে সোমবার রাতে তদন্ত কর্মকর্তা শওকত জামিল সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে অভিযুক্ত আবু সুফিয়ান, স্বপন ও সাইদুলকে আটক করে থানায় নিয়ে যান। এরপর দফায় দফায় দেনদরবারের মাধ্যমে প্রতিজনের নিকট হতে ৪০ হাজার টাকা নিয়ে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

স্থানীয়রা আরও বলে, এরা বিভিন্ন অপরাধ করা সত্যেও অদৃশ্য ক্ষমতাবলে প্রতিবার ধরাছোঁয়ার বাহিরে থেকে যান। এলাকব্যাপী নিজেদের শিল্পপতির সন্তান দাবি করেও চুরি ও ছিনতাইয়ের মতো অসংখ্য ঘটনা ঘটিয়েছেন ইতিপূর্বে। 

নাম প্রকাশ না করা সর্তে অভিযুক্তদের মধ্যকার একজন জানিয়েছেন, অভিযুক্ত সকলকে ৪০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। এরমধ্যে শরিফ, সুফিয়ান, স্বপন ও সাইদুল টাকা পরিশোধ করেছেন। বাকিদেরও টাকা পরিশোধ করতে হবে। 

এ বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তা শওকত জামিলের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেছেন, কারো নাম দিয়ে নয় অভিযোগটি হয়েছে অজ্ঞাত নামা দিয়ে এবং বাদীর সঙ্গে উনাদের মিমাংসা হয়েছে। 

আটক করে ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলে, কাউকে আটক করিনি। যাদের আনা হয়েছিল শুধুমাত্র জিজ্ঞেসাবাদের জন্য। 

এ বিষয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মোহাম্মদ আবু বকর সিদ্দিক বলেন, এমন কোনো ঘটনা আমার জানা নেই। তবে, আমি খোঁজ নিচ্ছি। যদি ঘটনা সত্যি হয় তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

তথ্যমতে, অভিযুক্ত আবু সুফিয়ান ইতিপূর্বে মাদকসহ আটক হয়ে হাজত খেটেছেন এবং মাইক্রোস্ট্যান্ডে তার একটি ভাড়ায় চালিত গাড়ি করে অপহরণ করার অভিযোগেও আটক করা হয়। আরেক অভিযুক্ত শরিফ আহম্মেদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। সে (নাসিক) ১ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আনোয়ার ইসলামের বসতবাড়িতে হামলার মামলায় জেল খাটেন। এদিকে বাকিদের মধ্যকার মোহর চান বাবু ও জনি চিহ্নিত ছিনতাইকারী বলে জানা গেছে।