ফাইল ছবি
নির্বাচনী ব্যয় জনগণের অর্থে স্বচ্ছভাবে পরিচালনার কথা জানিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির প্রার্থী অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল আমিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উন্মুক্ত ডোনেশনের আহ্বান জানিয়েছেন।
রোববার (৪ জানুয়ারি) দুপুরে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি এই আহ্বান জানান, যা দ্রুতই আলোচনায় আসে।
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির শাপলা কলি প্রতীকে নির্বাচন করা আব্দুল্লাহ আল আমিন পোস্টে নিজেকে নারায়ণগঞ্জের সন্তান হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এলাকার সন্তান ও ভাই হিসেবে জাতীয় সংসদে মানুষের কথা তুলে ধরতেই তিনি প্রার্থী হয়েছেন। তিনি দাবি করেন, অতীতে একটি উপজেলা পর্যায়ের নির্বাচন করতেও কোটি কোটি টাকা ব্যয় হতো, কিন্তু নতুন বাংলাদেশে সেই রাজনৈতিক সংস্কৃতির অবসান ঘটানোই তাঁর লক্ষ্য।
পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, প্রচলিত গডফাদার ও মাফিয়াকেন্দ্রিক রাজনীতির পরিবর্তে জনমানুষের রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করতে চান তিনি। তাঁর ভাষায়, রাজনীতি হবে মানুষের কল্যাণের জন্য, গুটিকয়েক প্রভাবশালীর স্বার্থে নয়। চাঁদাবাজি, মাফিয়াগিরি, সিন্ডিকেট ও মাদকের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অবস্থান নেওয়ার ঘোষণাও দেন তিনি।
নির্বাচনী ব্যয়ের প্রসঙ্গে আব্দুল্লাহ আল আমিন জানান, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৪০ হাজার ৮১৩ জন। আরপিও অনুযায়ী ভোটার প্রতি ১০ টাকা হিসেবে সর্বোচ্চ ৫৪ লাখ ৮ হাজার ১৩০ টাকা ব্যয় করার সুযোগ রয়েছে। তরুণ পেশাজীবী হিসেবে এই অঙ্ক বড় হলেও সবার অংশগ্রহণ থাকলে তা সংগ্রহ করা সম্ভব বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের জন্য কোনো মিথ্যা, প্রতারণা বা অবৈধ অর্থ গ্রহণ করবেন না। কত টাকা এসেছে এবং কোথায় খরচ হয়েছে, তার প্রতিটি হিসাব প্রমাণসহ জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ভিত্তিতে একটি নিরাপদ ও সম্ভাবনাময় নারায়ণগঞ্জ গড়ে তুলতে জনগণের সহযোগিতা চান তিনি।
এদিকে, তাঁর প্রার্থিতার পক্ষে ইতিমধ্যে সমর্থন জানিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি আবদুল জব্বার।
ডোনেশন আহ্বানের বিষয়ে জানতে চাইলে আব্দুল্লাহ আল আমিন বলেন, নির্ধারিত লক্ষ্য পূরণ হলেই উন্মুক্ত ডোনেশন কার্যক্রম বন্ধ করা হবে। তিনি জানান, ইতোমধ্যে ব্যাপক সাড়া মিলছে এবং জনগণের অর্থে নির্বাচন করার মাধ্যমে জবাবদিহিতার একটি নতুন পথ তৈরি করাই তাঁর উদ্দেশ্য। পুরোনো রাজনৈতিক বন্দোবস্ত ভেঙে নতুন ধারার রাজনীতির সূচনা করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

