ফাইল ছবি
নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে নির্বাচনী উত্তাপ দিন দিন বাড়ছে। এই আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নানের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী ও সাবেক বিএনপি নেতা মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন।
দীর্ঘদিন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকা গিয়াসউদ্দিন দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে নামায় ভোটের সমীকরণ জটিল হয়ে উঠেছে।
স্থানীয়ভাবে গিয়াসউদ্দিনের ব্যক্তিগত প্রভাব, সাংগঠনিক যোগাযোগ এবং পূর্বের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে তিনি এখনো একটি উল্লেখযোগ্য ভোটব্যাংক ধরে রেখেছেন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। ফলে বিএনপির মূল ভোট বিভক্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, যা মান্নানের জন্য বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অন্যদিকে এ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন ইকবাল হোসেন ভূঁইয়া। তবে নির্বাচনী মাঠে তার প্রচারণা ও সাংগঠনিক শক্তি তেমন চোখে পড়ছে না। একইভাবে ইসলামী আন্দোলনসহ আরও কয়েকটি রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় থাকলেও তারা এখন পর্যন্ত ভোটের মাঠে শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারেননি।
স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অধিকাংশ ভোটারই মূলত বিএনপির দুই প্রার্থীর দিকেই নজর রাখছেন। দলীয় প্রার্থী মান্নান ও বহিষ্কৃত বিদ্রোহী প্রার্থী গিয়াসউদ্দিন—এই দুইজনের মধ্যেই ভোটের লড়াই সীমাবদ্ধ থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারণে সবচেয়ে বড় ফ্যাক্টর হয়ে উঠছে বিএনপির মনোনীত ও বিদ্রোহী দুই প্রার্থী। শেষ পর্যন্ত ভোটাররা দলীয় সিদ্ধান্তকে প্রাধান্য দেন, নাকি ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তাকে গুরুত্ব দেন—সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে পুরো রাজনৈতিক অঙ্গন।

