মঙ্গলবার, ০৬ জানুয়ারি ২০২৬

|

পৌষ ২২ ১৪৩২

Advertisement
Narayanganj Post :: নারায়ণগঞ্জ পোস্ট

বাণিজ্য মেলায় দর্শনার্থী থাকলেও বিক্রি কম

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

প্রকাশিত: ১৫:১৫, ৫ জানুয়ারি ২০২৬

বাণিজ্য মেলায় দর্শনার্থী থাকলেও বিক্রি কম

ফাইল ছবি

জমে উঠেছে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা। শীত ও ঘন কুয়াশা উপেক্ষা করে মেলায় দর্শনার্থীদের চাপ বাড়তে শুরু করেছে। ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টদের দাবি, মেলার প্রথমদিকে ক্রেতার চেয়ে দর্শনার্থীর সংখ্যা বেশি থাকে। তবে সপ্তাহখানেকের মধ্যে মেলা জমে উঠবে।

দর্শনার্থীরা জানান, এবার ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা সুন্দরভাবে সাজানো গোছানো হয়েছে। বছরের বারোটি মাস এ বাণিজ্য মেলার জন্য দর্শনার্থীরা অপেক্ষা করেন। পণ্য/সামগ্রীর গুণগত মান যাতে ভালো হয়Ñ সেদিকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নজরদারি বাড়ানোর অনুরোধ করেন তারা। 

আশিক ফ্যাশনের বিক্রয়কর্মী সানি রেজাউলের সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেন, মেলার প্রথমদিকে মানুষ ঘুরতেই বেশি আসে। এ সময় খুব একটা কেনাকাটা করে না। মাসব্যাপী মেলার মাঝামাঝি সময়ে যখন সব স্টলে ছাড়ের হিড়িক পড়ে তখন থেকে জোরালোভাবে বেচাকেনা শুরু হয়।

লিজা ফুড অ্যান্ড পঞ্চরসের আচার ঘর ডলের ম্যানেজার মেহেদী হাসান বলেন, পর পর বেশ কয়েকটি মেলায় সেলস নিয়ে কাজ করছি। মেলার প্রথমদিকে বেচাকেনা তুলনামূলক কমই হয়। অনেকে মেলায় কোথায় কী রয়েছে ঘুরে দেখতে আসেন। মেলায় যখন স্টলগুলোতে বিভিন্ন অফার ও ছাড়ে বিক্রি শুরু হয় তারা কেনাকাটার জন্য এ সময়টাই বেছে নেন।

আমিরা বিডি ডট কমের ম্যানেজার জাহিদুল ইসলাম জানান, কুয়াশা ও শীতের দাপটে মানুষজন ঘর থেকে বের হচ্ছে না। তবে এর মধ্যে সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে ক্রেতা-দর্শনার্থী বাড়বে। তখন বিক্রিও ভালো হবে। 

এর আগে শনিবার বেলা ১১টায় রূপগঞ্জের পূর্বাচলে অবস্থিত বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার ৩০তম আসরের শুভ উদ্বোধন করেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন।

এবারের মেলায় ’৫২-এর ভাষা আন্দোলন, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪-এর জুলাই আন্দোলনে আহত ও শহীদদের স্মরণে স্থিরচিত্র প্রদর্শনের জন্য বাংলাদেশ স্কয়ার নির্মাণ করা হয়েছে। বাংলাদেশ স্কয়ারের প্রদর্শনী দেখতে মেলায় আসা দর্শনার্থীরা ভিড় করছেন। মেলার নিরাপত্তায় ৯০০ পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। তারা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তায় কাজ করছেন। মেলায় ভারত, তুরস্ক, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, হংকং ও মালয়েশিয়াসহ ১১টি বিদেশি প্যাভিলিয়নসহ মোট ৩২৪টি স্টলে দেশ-বিদেশের ব্যবসায়ীরা তাদের পণ্যসামগ্রী প্রদর্শন ও বেচাকেনা শুরু করেছেন। মেলায় পলিথিন ব্যাগ ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে কর্তৃপক্ষ। প্রবেশ টিকিটের মূল্য ৫০ টাকা এবং শিশুদের ২৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে মুক্তিযোদ্ধা, প্রতিবন্ধী ও আহত জুলাই যোদ্ধারা তাদের কার্ড প্রদর্শনপূর্বক বিনামূল্যে মেলায় প্রবেশ করতে পারছেন।

দেশীয় পণ্যের প্রচার, প্রসার, বিপণন ও উৎপাদনে সহায়তা প্রদানের পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর যৌথ উদ্যোগে ১৯৯৫ সাল হতে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা আয়োজিত হয়ে আসছে। নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের পূর্বাচল উপশহরে অবস্থিত বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে গত ৬ বছর ধরে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। মেলায় দর্শনার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে কাউন্টারে টিকিটের মাধ্যমে কুড়িল বিশ্বরোড, ফার্মগেট (খেজুরবাগান/খামারবাড়ি), নারায়ণগঞ্জ ও নরসিংদী হতে প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বাণিজ্য মেলার উদ্দেশে বিআরটিসির ২০০টির বেশি বাস চলাচল করছে।