বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০২৪

|

জ্যৈষ্ঠ ২৮ ১৪৩১

Advertisement
Narayanganj Post :: নারায়ণগঞ্জ পোস্ট

সোনারগাঁওয়ে চেয়ারম্যান প্রার্থীর হয়ে টাকা বিলির অভিযোগে যুবককে পুলিশে সোপর্দ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

প্রকাশিত: ১৩:৫৯, ১৯ মে ২০২৪

সোনারগাঁওয়ে চেয়ারম্যান প্রার্থীর হয়ে টাকা বিলির অভিযোগে যুবককে পুলিশে সোপর্দ

ফাইল ছবি

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আনারস প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী বাবুল ওমর বাবুকে ভোট দিতে নগদ টাকা দেয়ার অভিযোগ উঠেছে আব্দুল গাফফার (৩০) নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। যুবককে স্থানীয়রা হাতেনাতে ধরে পুলিশে সোপর্দ করেছে।

শনিবার (১৮ মে) বিকেলে উপজেলার মোগরাপাড়া ইউনিয়নের দলদার নতুন মসজিদ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

তবে পুলিশ বলছে, টাকা বিলি করার ঘটনার সত্যতা এখনও পাওয়া যায়নি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যান, আটককৃত ব্যক্তি নরসিংদী জেলার পলাশ উপজেলার মল্লিকপাড়া গ্রামের মো. আফজাল মিয়ার ছেলে। তিনি সোনারগাঁও পৌরসভার দৌলেরবাগ রফিকুলের বাড়িতে ভাড়া থাকেন। এছাড়া তিনি জেলা সাবেক ছাত্রলীগ নেতা সোনারগাঁওয়ের শাহ্ মো. সোহাগ রনির মালিকানাধীন সোনারগাঁও রিসাইকেল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ম্যানেজার পদে কাজ করেন।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, মোগরাপাড়া ইউনিয়নের কাবিলগঞ্জ এবং দলদারসহ বিভিন্ন গ্রামের সাধারণ ভোটারদেরকে টাকা দিয়ে আনারস প্রতীকে ভোট কিনতে তাকে পাঠিয়েছেন সোহাগ রনি নামে আরেকজন। আটক হওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি অন্তত নগদ ষাট হাজার টাকা বিলি করেছেন, এমন ঘটনা অনেকেই দেখেছেন।

সোনারগাঁও থানা পুলিশের এসআই মাহমুদ বলেন, মোবাইল ফোনে স্থানীয়দের কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়ার পর, ঘটনাস্থলে গিয়ে এলাকাবাসীর হাত থেকে “সোনারগাঁও রিসাইকেল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড” লেখা, একটি খামে কিছু টাকাসহ আব্দুল গাফফার নামে এক যুবককে উদ্ধার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে এক প্রার্থীকে ভোট দেয়ার জন্য টাকা বিলি করার অভিযোগ পেয়েছি। এ ব্যাপারে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আটককৃত ব্যক্তির বিষয়ে জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (খ-সার্কেল) শেখ বিল্লাল হোসেন সময় সংবাদকে বলেন, পুলিশে সোপর্দ করা ব্যক্তি কোন প্রার্থীর পক্ষে টাকা বিলি করছিলেন কিনা তা এখন পর্যন্ত আমরা নিশ্চিত না। এক প্রার্থীর পক্ষের লোকজনের অভিযোগের ভিত্তিতে, তাকে আমরা জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। তিনি আমাদের জানান তার কর্মস্থল ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সামান্য কিছু টাকা তার সাথে ছিল। তবে লোকজনকে টাকা দেয়ার অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন। তাছাড়া অভিযোগের বিষয়ে প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী একজনও আমরা পাইনি।

জেলা পুলিশের এ কর্মকর্তা আরও বলেন, অভিযোগের বিষয়ে কোনো সাক্ষ্য প্রমাণা না পাওয়ায় আমরা ওই যুবককে তার কর্মস্থলের মালিকের কাছে বুঝিয়ে দিয়েছি। তবে আমরা তদন্ত করছি। তিনি যদি সত্যি টাকা বিলি করে থাকেন, যদি এমন কোনো প্রমান পাওয়া যায়, তাহলে তার বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আর যদি তিনি নির্দোষ প্রমাণিত হন, তাহলে যারা এ অভিযোগ তুলে তাকে পুলিশের সোপর্দ করেছেন তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। ঘটনা উদ্দেশ্য প্রণোদিত হয়ে থাকলে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।