
ফাইল ছবি
নারায়ণগঞ্জ শহরের সাথে রাজধানীর ম্যাস র্যাপিড ট্রানজিট (এমআরটি) লাইন-২ প্রকল্পকে যুক্ত করার পরিকল্পনায় সংশোধন আনা হয়েছে। আগের পরিকল্পনা মোতাবেক মেট্রোরেল পথটি নারায়ণগঞ্জ শহর পর্যন্ত আসার কথা থাকলেও সেই পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনা হয়েছে।
ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) মো. আব্দুল বাকী মিয়া বলেন, “এমআরটি লাইন-২ প্রকল্পের পরিকল্পনা রিভাইজ (সংশোধন) করা হয়েছে। ঢাকার গাবতলী থেকে এ লাইনটি ডেমরা হয়ে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের তারাব বিশ্বরোড গিয়ে শেষ হবে।”
এ প্রকল্পে আগে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সাইনবোর্ড থেকে নারায়ণগঞ্জ শহরের ভেতরে আরও তিনটি স্টেশন- ভূঁইগড়, জালকুড়ি ও নারায়ণগঞ্জ সেটশন- করার কথা থাকলেও সংশোধনী পরিকল্পনায় তা আর যুক্ত হচ্ছে না বলেও জানান আব্দুল বাকী মিয়া।
তিনি বলেন, “শুরুর দিকে এমআরটি লাইন-৭ এর মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জ শহরকে যুক্ত করার পরিকল্পনা ছিল। পরে যদিও এটি এমআরটি লাইন-২ এর পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছিল। তবে, এখন নারায়ণগঞ্জ শহর মেট্রোরেল পথের সঙ্গে যুক্ত হবে এমআরটি লাইন-৭ এর মাধ্যমেই। কেননা, এমআরটি লাইন-২ প্রকল্পের পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনা হয়েছে।”
সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে এমআরটি লাইন-২ প্রকল্পের সংশোধিত এ পরিকল্পনা চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
এদিকে, এমআরটি লাইন-২ এর মাধ্যমেই নারায়ণগঞ্জ শহরকে মেট্রোরেল পথের সঙ্গে আবারও যুক্ত করা হয়েছেÑ এমন একটি তথ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।
যদিও ডিএমটিসিএল এর ওয়েবসাইটে এমআরটি-২ প্রকল্পের সর্বশেষ তথ্য গত ১৯ আগস্ট হালনাগাদ করা হয়েছে। ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, এমআরটি লাইন-২ এর প্রস্তাবিত অ্যালাইনমেন্ট গাবতলী থেকে কাজলা, ডেমরা দিয়ে তারাব বিশ্বরোড পর্যন্ত উল্লেখ করা হয়েছে।
এ মেট্রোরেল পথের দৈর্ঘ্য হবে ২৩ দশমিক ৫০ কিলোমিটার। যা নারায়ণগঞ্জ শহরকে যুক্ত করলে হওয়ার কথা ছিল ৩৪ কিলোমিটার।
নতুন এ অ্যালাইনমেন্টের উপর ভিত্তি করে এমআরটি লাইন-২ প্রকল্পের পিডিপিপি প্রস্তুত করে গত ২২ জুলাই সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগেও পাঠানো হয়েছে। একইসঙ্গে বিশ্বব্যাংকের অনুদানে এ প্রকল্পের প্রিপারেটরি প্রজেক্ট প্রিপারেশন (পিপিপি) এবং ডিএমটিসিএল’র প্রাতিষ্ঠানিক শক্তিশালীকরণের লক্ষে পরিকল্পনা কমিশনের অনুমোদনের জন্য এ প্রকল্পের টিএপিপি গত ৩১ জুলাই সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগেও পাঠানো হয়েছে বলেও ওয়েবসাইটে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, মেট্রোরেল পথে নারায়ণগঞ্জ শহরকে যুক্ত করতে ২০১৯ সালের ১ অক্টোবর সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের তৎকালীন মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। পরে ওই বছরের ২৪ নভেম্বর ঢাকা ট্রান্সপোর্ট কো-অর্ডিনেশন অথরিটি’র এক সভায় এমআরটি লাইন-২ ও লাইন-৪ এ নারায়ণগঞ্জকে যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ সিদ্ধান্তের পর এমআরটি-২ মেইন লাইনটি গাবতলী থেকে নারায়ণগঞ্জ সদর পর্যন্ত নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়।
ডিএমটিসিএলের প্রাথমিক হিসাবে, ৩৪ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে এই লাইন নির্মাণে ৬০ হাজার ৮৩৭ কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে বলে ধারণা করা হয়েছিল।
কিন্তু সরকারের সংশোধিত কৌশলগত পরিবহন পরিকল্পনার (আরএসটিপি) খসড়ায় রুটে পরিবর্তন আনার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলে ডিএমটিসিএলের কর্মকর্তারা জানান। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, এমআরটি লাইন-২ এখন গাবতলী থেকে ডেমরা পর্যন্ত নেওয়া হবে; নারায়ণগঞ্জ সদরে যাবে না। এর বদলে নারায়ণগঞ্জকে এমআরটি লাইন-৭ নামক আরেকটি প্রকল্পের মাধ্যমে যুক্ত করা হবে।
এদিকে, এমআরটি লাইন-৪ এ নারায়ণগঞ্জের আরেকটি অংশ যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ প্রকল্পের বিষয়ে ডিএমটিসিএল’র ওয়েবসাইটে দেওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, কমলাপুর থেকে এ লাইনটি নারায়ণগঞ্জ জেলার মদনপুর পর্যন্ত উড়াল ও পাতাল সমন্বয়ে প্রায় ১৬ কিলোমিটার দীর্ঘ মেট্রোরেল পথ নির্মাণের জন্য সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা গত ১৪ মে পরামর্শক প্রতিষ্ঠানও নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ কাজ চলমান রয়েছে। গত জুলাই পর্যন্ত সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ ৬৫ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে।
যদিও নারায়ণগঞ্জবাসীর দাবি, এমআরটি লাইন-২ প্রকল্পের মাধ্যমেই নারায়ণগঞ্জ শহরকে মেট্রোরেল পথে সংযুক্ত করার। এ দাবিতে একাধিক সময়ে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, নাগরিক ও ছাত্র সংগঠনের নেতারা।