শনিবার, ৩০ আগস্ট ২০২৫

|

ভাদ্র ১৩ ১৪৩২

Advertisement
Narayanganj Post :: নারায়ণগঞ্জ পোস্ট

নির্বাচন স্পেশাল- নারায়ণগঞ্জ ১ (রূপগঞ্জ)

রূপগঞ্জে জনরোষে আওয়ামী লীগ নিশ্চিহ্ন, নির্বাচনের মাঠে আস্থা অর্জনের চেষ্টা বিএনপি জামায়াতসহ অন্যদের

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

প্রকাশিত: ২২:০৯, ২৯ আগস্ট ২০২৫

রূপগঞ্জে জনরোষে আওয়ামী লীগ নিশ্চিহ্ন, নির্বাচনের মাঠে আস্থা অর্জনের চেষ্টা বিএনপি জামায়াতসহ অন্যদের

ফাইল ছবি

৫ আগস্টের পর থেকেই দেশজুড়ে বইছে নির্বাচনী আবহ। দেশের এ প্রান্ত থেকে ঐ প্রান্ত সকল স্থানেই নির্বাচনী প্রচার প্রচারণা চলছে বিএনপি, জামায়াতে ইসলাম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের। দিন যত পার হচ্ছে ততই নির্বাচনী কার্যক্রম আরো জোরালো করছে রাজনৈতিক দলগুলো। এসব রাজনৈতিক কর্মকান্ডে প্রাধান্য পাচ্ছে মানুষের কাছে ছুটে যাওয়া, মানুষের পাশে থাকা, বিভিন্ন উন্নয়ন ও প্রতিশ্রুতি নিয়ে মানুষের মাঝে গণসংযোগ। 
 
নারায়ণগঞ্জেও এর ব্যতিক্রম নেই। নারায়ণগঞ্জ জেলার ৫টি আসনেই চলছে নির্বাচনী হাওয়া। নারায়ণগঞ্জ ১ আসনের (রূপগঞ্জ) নির্বাচনী হালচাল উঠে এসেছে এখানকার সম্ভাব্য প্রার্থী, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, প্রশাসন ও মানুষের সাথে কথা বলে।

ঐতিহাসিক ও ভৌগলিকভাবে রূপগঞ্জ গুরুত্বপূর্ণঃ
নারায়ণগঞ্জে ঐতিহ্যবাহী রূপগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত নারায়ণগঞ্জ-১ আসন। বৃটিশ আমল থেকেই ব্যাবসা-বানিজ্য ও মসলিন, জামদানির মত শিল্পের জন্য রূপগঞ্জ ছিল বিখ্যাত। মোট সাতটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত এ উপজেলা। ঢাকার উপকন্ঠে এবং একই সাথে বাংলাদেশের লাইফলাইন খ্যাত ঢাকা-সিলেট, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ঘেষা রূপগঞ্জের অবস্থান। ফলে রাজনৈতিক ভাবেও এ আসনটির গুরুত্ব অনেক বেশি।
 
ঢাকার অদূরেই রূপগঞ্জ উপজেলার অবস্থান। ফলে রাজনৈতিক বিভিন্ন কর্মসূচিতে ও ঢাকা কেন্দ্রীক আন্দোলনে এই এলাকার রাজনৈতিক গুরুত্ব বেশী। এছাড়াও এলাকাটির জনঘনত্ব ও শিল্পাঞ্চলীয় অর্থনৈতিক প্রভাব রয়েছে। ঐতিহ্যবাহী পোশাক জামদানী শাড়ি তৈরির জন্য সুপরিচিত জামদানী পল্লী রূপগঞ্জেই অবস্থিত। এ এলাকার মসলিন কাপড়ের কারিগরদের নিয়ে কাজ করছে সরকার।

এছাড়াও দেশের বৃহৎ কাপড়ের বাজার হিসেবে পরিচিত গাউছিয়া মার্কেটও এই উপজেলায়। পাশাপাশি এখানে পল্টন সিটি, বড় বড় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও গার্মেন্টস হাব রয়েছে। এর ফলে এলাকার ভোটারদের মধ্যে শিক্ষিত তরুণ ও শ্রমিক শ্রেণির প্রাধান্য তৈরি করেছে।

এ আসনে বিগত সকল নির্বাচনে যারা ছিলেন নির্বাচিতঃ
১৯৮৬ সাল থেকে সর্বশেষ ২০২৪ সালের নির্বাচন পর্যন্ত নির্বাচনের ফলাফল পর্যালোচনা করলে দেখা যায় আসনটিতে একসময় শক্তিশালী অবস্থানে ছিল বিএনপি। সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মতিন চৌধুরী এই আসন থেকেই নির্বাচন করতেন। তার মৃত্যুর পর আসনটি আর উদ্ধার করতে পারেনি বিএনপি। পরপর তিনটি নির্বাচনের মাধ্যমে যেগুলো রাতের ভোট ও ভোটারহীন নির্বাচন খ্যাত সে নির্বাচনে আসনটি কব্জায় করে রেখেছিল আওয়ামী লীগের গোলাম দস্তগীর গাজী। তবে পাঁচ আগষ্টের পট পরিবর্তনের পর আসনটি পুনরুদ্ধার করতে মরিয়া বিএনপি।

এর আগে ১৯৮৬ ও ১৯৮৮ সালের নির্বাচনে আসনটিতে এমপি পদে নির্বাচিত হয়েছিলেন সুলতান উদ্দিন ভূঁইয়া। ১৯৯১ সালে এ আসনে নির্বাচিত হন আব্দুল মতিন চৌধুরী। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনের আসনটিতে আওয়ামী লীগের প্রার্থী কাজী মুহাম্মদ শফিউল্লাহ বিজয়ী হন। ২০০১ সালে পুনরায় আসনটি উদ্ধার করেন মতিন চৌধুরী। সর্বশেষ ২০০৮ সালের নির্বাচনে আসনটিতে আওয়ামী লীগের প্রার্থী গোলাম দস্তগীর গাজী নির্বাচিত হন। এরপর থেকে আসনটিতে গ্রহনযোগ্য ভোট হয়নি বলে জানান ভোটাররা। পরপর তিনটি বিতর্কিত নির্বাচনে গাজীই আসনটিতে এমপি হয়ে আসছিলেন।

রূপগঞ্জের ভোটার কত?
সর্বশেষ ২০২৪ সালের নির্বাচনে আসনটিতে ভোটার হালনাগাদে দেখা যায়, মোট ভোটারের সংখ্যা প্রায় ৫ লক্ষ ২৩ হাজার। আসনটিতে নতুন আরও ৫০ হাজার তরুণ ভোটার যুক্ত হচ্ছেন আগামী নির্বাচনের আগে।

 
রূপগঞ্জ পরিনত হয়েছিল গাজীগঞ্জেঃ
আসনটিতে ২০০৮ সাল থেকে টানা প্রায় সতেরো বছর এমপি ছিলেন গোলাম দস্তগীর গাজী। মাঝে ২০১৮ সাল থেকে ২০২৪ পর্যন্ত বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। ২০০৮ সালের নির্বাচনে জনগণের ভোটে নির্বাচিত হলেও ক্রমেই দানবে পরিনত হন গাজী।

একটা সময় রূপগঞ্জের নামই যেন বদলে গাজীগঞ্জ করে ফেলতে চেয়েছিলেন তিনি। রূপগঞ্জের বিভিন্ন সড়ক, ব্রিজ ও সরকারি স্থাপনা নিজের নামে করতে শুরু করেন গাজী। দেশের বাকি অংশে যখন শেখ মুজিবুর রহমানের গুনগান হত তখন রূপগঞ্জ ছিল ব্যাতিক্রম। রূপগঞ্জে সব জায়গায় শুধু গাজীর নাম ছিল।

নির্বাচিত হওয়ার পরপরই জমি দখল ও ভূমিদস্যুতায় মেতে উঠেন গাজী। সাধারণ মানুষের বিঘার পর বিঘা জমি দখলের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। রাতের আঁধারে ড্রেজার দিয়ে বসত বাড়িসহ জায়গা ভরাট করে ফেলতেন গাজী। যেখানে সেখানে লাগিয়ে দিতেন সাইনবোর্ড। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাও তার ভূমিদস্যুতা থেকে নিস্তার পায়নি। দখলকৃত এসকল জমির উপরে বিভিন্ন ফ্যাক্টরি গড়ে তোলার অভিযোগ রয়েছে।

ক্ষমতায় থাকাকালীন বিএনপিসহ বিরোধীদলের নেতাকর্মীদের ওপর গাজী বাহিনীর নির্যাতন ছিল নির্মম ও বর্বরোচিত। বিএনপি নেতাকর্মীদের না পেয়ে অনেক ক্ষেত্রেই পরিবারের সদস্যদের উপর হামলা চালিয়ে তাদের মারধরের ঘটনা ঘটিয়েছে গাজীর সন্ত্রাসীরা। গাজী বাহিনীর প্রতাপে রূপগঞ্জে বিরোধীদলীয় কোন নেতাকর্মী দীর্ঘ সতেরো বছর বাড়িতে থাকতে পারেনি। বিএনপি নেতাকর্মীরা গাজীর উৎপাতে ব্যবসা করতে পারেনি রূপগঞ্জে।

গাজীর বাহিনীর চাঁদাবাজিতে জিম্মি ছিল রূপগঞ্জ। প্রতিটি সেক্টর থেকে চাঁদা তুলতেন গাজীর পিএসরা। এই চাঁদার টাকা দিয়েই বিশাল সন্ত্রাসী বাহিনী লালন পালন করতেন গাজী। প্রশাসন ও সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতেও গাজী একচ্ছত্র প্রভাব ছিল। রূপগঞ্জের প্রতিটি সরকারি প্রতিষ্ঠানে গাজীর পছন্দেই নিয়োগ, বদলি হত। এছাড়াও সরকারি স্কুলসহ প্রায় সকল সরকারি প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডির নেতৃত্বে ছিলেন গাজী পরিবারের সদস্যরা।

দীর্ঘ সতেরো বছরের লুটপাট ও অত্যাচারের পর গাজীর নামে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে রূপগঞ্জের সাধারণ মানুষ। ভবিষ্যতে এমন কোন দানব যেন আর তৈরি না হয় সেই প্রার্থনা তাদের। পাঁচ আগষ্টের পর ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার হন গেলাম দস্তগীর গাজী। তার বিরুদ্ধে ছাত্র হত্যাসহ বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে। এসকল মামলায় বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন একসময়কার দাপুটে এই নেতা। রূপগঞ্জের সাধারণ মানুষেরা বলছেন, গাজীর রাজনীতির ইতি এখানেই।

গণঅভ্যুত্থানের পর পট পরিবর্তনঃ
৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পর পট পরিবর্তন ঘটে রূপগঞ্জের রাজনীতিতে। রূপগঞ্জবাসী জেগে উঠে এবং জনরোষে আওয়ামীলীগের পলায়ন ও গাজী সম্রাজ্যের পতন হয়। এসময় বিএনপির নেতাকর্মীরা ও রূপগঞ্জবাসী রূপগঞ্জের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নেয়। তারা রূপগঞ্জে শান্তির প্রত্যাশ্যায় এখন নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের স্বপ্ন দেখছে।  
 
বিভিন্ন দলের যারা প্রার্থী হতে পারেন আগামী নির্বাচনে
আগামী নির্বাচনে বিএনপির হয়ে এখানে হেভিওয়েট হিসেবে দুজন প্রার্থী আছেন। এদের একজন তরুণ ও জনপ্রিয় নেতা মোস্তাফিজুর রহমান ভুঁইয়া দিপু ও আরেকজন বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী মনিরুজ্জামান। এর মাঝে তরুণ নেতা দিপুর প্রভাব ও জনপ্রিয়তা এখন তুঙ্গে। মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন প্রবীন নেতা কাজী মনিরুজ্জামানও।
 
জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে আছেন আধুরিয়া এলাকার ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন মোল্লা। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের পক্ষে এখানে প্রার্থী হিসেবে আছেন মাওলানা ইমদাদুল হাসেমী। জাতীয় পার্টির প্রার্থী ছিলেন জয়নাল হাজারি, তিনি মারা যাওয়ায় এখানে জাপার তেমন হেভিওয়েট প্রার্থী নেই। তবে সাইফুল ইসলাম জাপা থেকে নির্বাচন করবেন এ আসনে।  
 
মোস্তাফিজুর রহমান ভুঁইয়া দিপুঃ
পাঁচ আগষ্টের পর রাজনৈতিক শূন্যতায় রূপগঞ্জের রাজনীতির কেন্দ্রে চলে এসেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জেলা বিএনপির প্রথম যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু। পাঁচ আগষ্টের পর থেকে সামনের সারিতে থেকে রূপগঞ্জের শান্তি প্রতিষ্ঠা ও আইনশৃঙ্খলা পুনপ্রতিষ্ঠায় প্রশাসনকে সাথে নিয়ে কাজ করেছেন তিনি। রূপগঞ্জের পাশাপাশি বর্তমানে পুরো জেলার রাজনীতিতেই নেতৃত্ব দিচ্ছেন দিপু ভূঁইয়া। বিএনপির তরুণ এই নেতাকে ঘিরে রূপগঞ্জের সাধারন মানুষ নতুন করে ভাবতে শুরু করেছেন।

রাজনীতির বাইরে ব্যাবসায়িক অঙ্গনেও দিপু ভূঁইয়ার যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন দিপু ভূঁইয়া। এ ছাড়াও পূর্বাচল ক্লাবের নির্বাহী সভাপতির দায়িত্বে আছেন দিপু।

জানা যায়, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী ভূঁইয়া পরিবারের সদস্য দিপু। তিন পুরুষ ধরে এই পরিবারটি নারায়ণগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন ব্যাবসায়ে সফলতা অর্জন করেছে। বর্তমানে দেশের বৃহত্তর পাইকারি কাপড়ের মার্কেট পরিচালনা করছে দিপু ভূঁইয়ার পরিবার।

পাকিস্তানি আমলের আলোচিত ২২ শিল্পপতি পরিবারের মধ্যে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে একটি পরিবার ছিল ভূঁইয়া পরিবার। দিপু ভূঁইয়ার দাদা গোলবক্স ভূঁইয়া পাকিস্তানি আমল থেকেই দেশের অন্যতম শিল্পপতিদের একজন ছিলেন। তিনি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের দ্বিতীয় শীর্ষ সফল বাঙালি ব্যবসায়ী। স্বাধীনতার পর দেশের অভ্যন্তরে বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠান, কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে নানাবিধ কর্মসূচি হাতে নেন তিনি।

দিপুর বাবা প্রয়াত মজিবুর রহমান ভূঁইয়া ছিলেন রূপগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সফল চেয়ারম্যান। ব্যক্তিজীবনে তিনিও সফল শিল্পপতি ও উদ্যোক্তা হিসেবে সবার কাছে পরিচিত। তার নেতৃত্বে গাউছিয়া গ্রুপ দেশের ব্যাবসায়িক অঙ্গনে ব্যাপক সুনাম অর্জন করে।

পাঁচ আগষ্টের পর থেকেই রূপগঞ্জ চষে বেড়াচ্ছেন দিপু ভূঁইয়া। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান কর্তৃক ঘোষিত রাষ্ট্র সংস্কারে ৩১ দফা দাবী নিয়ে নিয়মিত কর্মশালা ও আলোচনা সভা করে যাচ্ছেন দিপু ভূঁইয়া। সামনে প্রান্তিক পর্যায়ে এই ৩১ দফা কর্মসূচি নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে দিপু ভূঁইয়ার। সে অনুযায়ী প্রচার প্রচারণাও শুরু করেছেন তিনি।

রাজনৈতিক কর্মসূচির পাশাপাশি মানবিক ও সমাজসেবামূলক নানা কাজ করে যাচ্ছেন দিপু ভূঁইয়া। রমজান জুড়ে দলীয় ও ব্যাক্তিগত উদ্যোগে নারায়ণগঞ্জজুড়ে দুস্থ ও অসহায়দের পাশে দিপু ভূঁইয়া যেভাবে দাঁড়িয়েছেন তা ছিল প্রশংসনীয়।
 
দিপু ভুঁইয়া বলেন, এদেশে আর আগের মত ভোটের রাজনীতি হবেনা। আমাদের নেতা তারেক রহমান ৩১ দফা দিয়েছেন সেটি বাস্তবায়ন করতেই আমরা জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধি করতে কাজ করছি। মানুষের ঘরে ঘরে যাচ্ছি আমরা। মানুষ এবার তাদের মনের মত নেতৃত্ব ও এমপি এই রূপগঞ্জে নির্বাচিত করবে বলে আমি মনে করি। নেতাকে দেখে যদি কেউ ভয় পায় তাহলে তো সে সন্ত্রাসী। যাকে দেখে মানুষ দৌড়ে আসবে, সুখ দুঃখের কথা বলবে সেই তো নেতা। রূপগঞ্জবাসী যাকে পাশে পাবে তাকেই চাইবে।
 
উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাহফুজুর রহমান হুমায়ুন বলেন, আগামী নির্বাচনে রূপগঞ্জ আসন থেকে বিএনপির মনোনয়নের জন্য এগিয়ে আছেন দিপু ভূঁইয়া। দুঃসময়ে রাজপথে সক্রিয় থেকে ও নেতাকর্মীদের আগলে রেখে নিজের যোগ্যতা ইতিমধ্যে প্রমান করেছেন তিনি। এছাড়াও দলীয় রাজনীতির বাইরেও রূপগঞ্জে দিপুর আলাদা পরিচিতি ও জনপ্রিয়তা রয়েছে। আগামীর রাজনীতিতে রূপগঞ্জবাসীও জনবান্ধন ও ক্লিন ইমেজের নেতা খুঁজছে। রূপগঞ্জের মানুষ এবার ভয় নয় ভরসা খুঁজছে। আর সেই ভরসার নাম এখন অনেকের কাছেই দিপু ভূঁইয়া।
 
কাজী মনিরুজ্জামানঃ
ব্যবসায়ী নেতা হিসেবে পরিচিত, বিজিএমইএ'র সাবেক সভাপতি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য কাজী মনিরুজ্জামান বর্তমানে রূপগঞ্জে বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় আছেন। বিএনপির সর্বশেষ অংশ নেয়া জাতীয় নির্বাচনে ধানের শীষের মনোনয়ন পেয়েছিলেন এ নেতা। 
 
৫ আগস্টের পর রূপগঞ্জে বিচরণ করছেন এ নেতা। সামাজিক ও রাজনৈতিক নানা কর্মসূচী পালন করছেন মনির। এ ছাড়াও বিজিএমইএ'র সকল কার্যক্রমেও সক্রিয় তিনি।
 
মনিরুজ্জামান বলেন, রূপগঞ্জে বিগত সময়ে আমি মনোনয়ন পেয়েছিলাম। আমাদেরকে মানুষ ভোট দিতে চাইলেই ভোটকেন্দ্রে ভয় ভীতি হামলা ছিল। সেটি উপেক্ষা করে গিয়েও মানুষ শুনেছে তাদের ভোট দেয়া হয়ে গেছে। এখন মানুষ আর এমন অবস্থা দেখতে চায়না, সেটি আর হতেও দেয়া হবেনা। রূপগঞ্জে এবার বিএনপির জোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। মানুষ ধানের শীষে ভোট দিতে মুখিয়ে আছে।
 
আনোয়ার হোসেন মোল্লাঃ
ব্যবসায়ী নেতা ও সজ্জন ব্যক্তি হিসেবে রূপগঞ্জে পরিচিত রয়েছে আনোয়ার হোসেন মোল্লার। দীর্ঘ ১৭ বছর আড়ালে রাজনীতি করলেও ৫ আগস্টের পর মানুষের কাছে যাচ্ছেন তিনি। জামায়াতে ইসলামীর বিভিন্ন বার্তা মানুষের কাছে তুলে ধরছেন এ নেতা। 
 
প্রায় প্রতিদিন উপজেলার বিভিন্ন প্রান্তে কর্মসূচী ও সামাজিক কাজ করতে নেতাকর্মী নিয়ে ঘুরছেন আনোয়ার। তার কাছে মানুষ প্রতিশ্রুতি শুনতে পাচ্ছে এবং নানা সমস্যাও তুলে ধরছেন। তার নেতৃত্বে মানুষের সাথে মিশে আগামী নির্বাচনের জন্য আগাম গণসংযোগ করছেন উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা।
 
আনেয়ার হোসাইন মোল্লা বলেন, দল থেকে আমাকে কাজ করতে বলা হয়েছে। আমি গণসংযোগে যত জায়গায় গিয়েছি, মনে হয়েছে সকলে জামায়াতে ইসলামীকেই চায়। রূপগঞ্জের পরিস্থিতি ভাল মনে হচ্ছে।
 
আমরা আমাদের সংগঠন প্রতিষ্ঠার পর থেকেই আল্লাহর আইন কায়েম ও যোগ্য লোকের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য এ আন্দোলন করে যাচ্ছি। আমাদের এ আন্দোলন কোন প্রতিশোধের আন্দোলন না। আল্লাহর আইন কায়েম হলে দুর্নীতি, শোষণমুক্ত বাংলাদেশ হবে। মানুষ যে সোনার বাংলাদেশ চায় সেটি গড়ার জন্যই আমরা জনগণকে বার্তা দিচ্ছি। তারা যেন সৎ এবং যোগ্য লোকের পক্ষে তাদের মতামত দেয়।

তিনি বলেন, সরকারি দলের নেতাকর্মী ও এমপি মানেই এদেশে আতংক। জামায়াতে ইসলামী দায়িত্ব নিলে মানুষ বুঝতে পারবে এমপি মানে জনগণের সেবক। আমরা মানুষের দুঃখ দুর্দশা শুনবো তাদের জন্য কাজ করবো। এমপি মানে যে আতংক এটা বাংলাদেশে আর থাকবে না। 

মাওলানা ইমদাদুল হাসেমীঃ 
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ রূপগঞ্জে ভোটের মাঠে শক্ত অবস্থানে না থাকলেও নিজেদের অবস্থান বৃদ্ধি করছে দিন দিন। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ তাদের দলীয় ও রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন কর্মসূচী রূপগঞ্জে নেতাকর্মীদের নিয়ে পালন করে আসছে। নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে ততই নিজেদের অবস্থান তৈরী করছে দলটি। 
 
এ আসনে প্রাথমিকভাবে মাওলানা ইমদাদুল হাসেমী ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী হিসেবে মনোনীত হয়েছেন। তিনি নির্বাচন কেন্দ্রীক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। 
 
সাইফুল ইসলামঃ 
জাতীয় পার্টির হয়ে আগামী নির্বাচন করতে চাইছেন এ নেতা। তিনি বিগত নির্বাচনেও পোস্টারিং করেছিলেন। প্রচার প্রচারণা করলেও শেষ পর্যন্ত মনোনয়ন পাননি। এবার তাকে নিয়ে ভাবছে জাপা। তবে রূপগঞ্জে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ আছে ছাত্র জনতার। এ কারণে প্রকাশ্যে তেমন কার্যক্রমে দেখা যায়না তাকে।
 
কি ভাবছেন ভোটাররাঃ
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে ইতিমধ্যে নানা হিসেব নিকেশ কষতে শুরু করেছেন ভোটাররা। দীর্ঘদিন ভোটা না দেয়ায় আগামী নির্বাচনকে ঘিরে সাধারণ ভোটারদের মাঝে রয়েছে ব্যাপক উৎসাহ। বিশেষ করে তরুণ ভেটারদের যারা এখনও ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেননি তারা ভোট দিতে অনেকটা মুখিয়ে আছেন।

নির্বাচনকে ঘিরে ভোটারদের কন্ঠেও এবার পরিবর্তনের বার্তা রয়েছে। রূপগঞ্জের এক মহিলা গার্মেন্টস কর্মী জানান, আগে ভোট মানে ছিল ভয়। নির্বাচনকে ঘিরে সংঘাত সৃষ্টি হত। তবে এবার আশা করছি ভোট সুন্দর হবে, সুষ্ঠু হবে। আমরা ভোট দিতে পারবো। উৎসবের আমেজ তৈরী হবে ভোটের পুরো সময়টায়।

স্থানীয় এক মাদ্রাসা শিক্ষক জানান, যে নিজের জন্য নয় মানুষের জন্য, উপজেলার জন্য রাজনীতি করে, জনগণের জন্য কাজ করে। এমন যাকে আমরা দীর্ঘদিন ধরে দেখে আসছি, যিনি সবসময় আমাদের পাশে থাকেন এমন নেতাকেই আমরা এবার নির্বাচিত করবো।
 
নির্বাচন নিয়ে নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতিঃ
অতিরিক্ত জেলা নির্বাচন অফিসার মোঃ রাকিবুজ্জামান (রেনু) জানান, আমাদের ভোটার তালিকা হালনাগাদ শেষ। তালিকা প্রস্তুত। আমরাও প্রস্তুত। আমাদের লোকবল বা অন্য কোন সমস্যা নেই। এখন পর্যন্ত পরিবেশও স্বাভাবিক আছে। কোন ধরনের থ্রেড (হুমকি) নেই। তবে আমাদের গোডাউনের ব্যবস্থা পর্যাপ্ত নেই। এটি ইতোমধ্যে আমরা জেলা প্রশাসনকে জানিয়েছি। এটি না থাকলে ব্যালট সংরক্ষন ও কাগজপত্র সংরক্ষণে বিভিন্ন সমস্যা হয়।