ফাইল ছবি
ব্যবসায়ীদের সংগঠন বিকেএমইএ’র সভাপতি মোহাম্মদ হাতেমকে ফ্যাসিস্টের দোসর আখ্যা দেয়ায় নারায়ণগঞ্জ ৪ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল আমিনকে ২ ঘন্টা অবরুদ্ধ করে রাখার ঘটনা ঘটেছে।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় বিসিক শিল্প নগরী এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
এসময় এনসিপির একাধিক নেতাকর্মীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এনসিপি নেতাদের অভিযোগ, হাতেমের ডাকে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক দিলের একটি অংশের নেতাকর্মীরা এসে অবরুদ্ধ করেছে এবং দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়েছে। এই ঘটনায় চারজন সামান্য আহত হয়েছে বলে দাবী তাদের। আহতরা হলেন, ফয়সাল, জোবায়ের, জাবেদ আলম ও তরিকুল ইসলাম।
প্রকাশিত ভিডিও এবং একাধিক প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ানে জানা যায়, মঙ্গলবার বিসিকে টপ ফ্যাশন নামে একটি কারখানায় ব্যবসায়ীদের সাথে ইফতার মাহফিলের আয়োজন করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে আমন্ত্রিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ ৪ আসনে এনসিপির এমপি আবদুল্লাহ আল আমিন। ইফতারের আগ মুহুর্তে অনুষ্ঠানে হাজির হয়ে তিনি স্টেজে বিকেএমইএ’র সভাপতি হাতেমকে দেখতে পান। এসময় স্টেজে বসতে অস্বীকৃতি জানিয়ে দর্শকদের সাথে বসেন। তাকে বক্তব্য দেয়ার অনুরোধ করলে তিনি বলেন, ‘আমি স্টেজে বসতে পারছি না কারন ফ্যাসিস্টের দোসরের পাশে আমার বসা সম্ভব না।’
এই বক্তব্যের পরপরেই হাতেম স্টেজ থেকে উঠে যায় এবং তার অনুসারী ব্যবসায়ীদের নিয়ে বেরিয়ে যায়। ইফতারের পর ভবনটির নিচে জড়ো হয় হাতেমের অনুসারী ও ফতুল্লা থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব রাসেল মাহমুদ এবং তার অনুসারীরা। এসময় তারা বিক্ষোভ করতে থাকে এবং এমপিকে হাতেমের কাছে ক্ষমা চাওয়ার দাবী জানায়। বিক্ষোভের এক পর্যায়ে সেখানে থাকা এনসিপির নেতাকর্মীদের সাথে হাতাহাতি হয়। খবর পেয়ে ফতুল্লা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
বিক্ষোভকারীরা বলেন, আমরা ব্যবসায়ী। এমপি এখানে এসে কেন ফ্যাসিস্টের দোসর বলবে? আমরা তো কোন দল করিনা। তাকে ক্ষমা চাইতে হবে।
প্রায় ২ ঘন্টা অবরুদ্ধ থাকার পর জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাসিনুজ্জামানের নেতৃত্বে এমপি আবদুল্লাহ আল আমিন ও তার নেতাকর্মীদের বের করে নিয়ে আসা হয়। পরে তাকে নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়া এনসিপির কার্যালয়ে পৌছে দিয়ে যায়।
ঘটনার বর্ননা দিয়ে এমপি আবদুল্লাহ আল আমিন সাংবাদিকদের বলেন, আমি জামায়াতের আমন্ত্রণে সেখানে গিয়েছিলাম। কিন্তু জানতাম না যে সেখানে হাতেম থাকবে। তাকে দেখে আমি স্টেজে বসতে অস্বীকৃতি জানাই। আমি বলেছি, ফ্যাসিস্টের দোসরের পাশে আমি বসতে পারবো না। এই কথা বলার পরেই সে বেরিয়ে যায় এবং তার লোকজনকে ডেকে এনে আমাকে অবরুদ্ধ করে রাখে। আমি ডিসি এসপিকে জানানোর পরে তারা ফোর্স পাঠায়। ততক্ষনে আমরা দেখেছে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতার নেতৃত্বে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মহড়া দিতে এবং আমার কর্মীদের মারধর করতে। এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার দাবী জানাই।
ঘটনার বিষয়ে ফতুল্লা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন বলেন, খবর পাওয়ার পরপরেই আমরা ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে যাই। সেখান থেকে এমপিকে উদ্ধার করে নিরাপদে তাকে নিয়ে আসি। এই ঘটনায় আমরা তদন্ত করে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

